বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১২:৫৪ পূর্বাহ্ণ

ইউনিলিভার বাংলাদেশের পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা

প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের মামলায় ইউনিলিভার বাংলাদেশ লিমিটেডের পাঁচ শীর্ষ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত।

বুধবার (২১ জানুয়ারি) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মেহেদী হাসানের আদালত মামলার শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি হওয়া কর্মকর্তারা হলেন— ইউনিলিভার বাংলাদেশের সেন্ট্রাল সাউথ ক্লাস্টার প্রধান সৈয়দ জিকরুল বিন জমির, ওয়ারী এলাকার সিনিয়র টেরিটরি ম্যানেজার এম সোয়াইব কামাল, সেন্ট্রাল সাউথ রিজিওনের এরিয়া ম্যানেজার কাওসার মাহমুদ চৌধুরী, কনজ্যুমার কেয়ারের ম্যানেজিং ডিরেক্টর মোহাম্মদ নাহারুল ইসলাম মোল্লা এবং ফাইন্যান্স ডিরেক্টর জিন্নিয়া হক।

বাদীপক্ষের আইনজীবী জাহিদুল ইসলাম হিরণ বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ইউনিলিভার বাংলাদেশের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স গত বছরের ৭ আগস্ট প্রতারণা ও বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগে এই মামলা দায়ের করে। আদালত মামলাটি তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দিলে তদন্ত শেষে গত ৫ জানুয়ারি প্রতিবেদন দাখিল করা হয়।

মামলার নথি ও তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ২০০৯ সালের ৩ নভেম্বর ওয়ারী, মানিকনগর, সদরঘাট, নবাবপুর রোড, মালিবাগ, শ্যামপুর ও মতিঝিল এলাকা জুড়ে ইউনিলিভার পণ্যের পরিবেশক হিসেবে মাসুদ অ্যান্ড ব্রাদার্স-এর সঙ্গে চুক্তি হয়। চুক্তির আওতায় প্রতিষ্ঠানটি গোডাউন ভাড়া, পরিবহন ও জনবল নিয়োগে বিপুল অর্থ বিনিয়োগ করে ব্যবসা পরিচালনা শুরু করে।

পরিবেশক হিসেবে তারা লাক্স, ডাভ, সানসিল্ক, ফেয়ার অ্যান্ড লাভলিসহ দুই শতাধিক পণ্য বাজারজাত করলেও ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে জুন পর্যন্ত সরবরাহকৃত বিপুল পরিমাণ নষ্ট, মেয়াদোত্তীর্ণ ও ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য ফেরত দেওয়ার পরও এর বিপরীতে নতুন পণ্য বা অর্থ ফেরত দেওয়া হয়নি। এসব পণ্যের বাজারমূল্য প্রায় ৩ কোটি ৭৫ লাখ টাকা বলে দাবি করা হয়েছে।

এছাড়া অভিযোগে বলা হয়, আসামিরা অবাস্তব বিক্রয় লক্ষ্য নির্ধারণ এবং কম বিক্রয়যোগ্য পণ্য অতিরিক্ত সরবরাহের মাধ্যমে পরিবেশক প্রতিষ্ঠানের ব্যবসায়িক ক্ষতি বাড়িয়ে দেন। এর ফলে ২০২০ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ে বাদী প্রতিষ্ঠান।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, নষ্ট ও মেয়াদোত্তীর্ণ পণ্যের মূল্য পরিশোধ না করে নতুন পরিবেশক নিয়োগের মাধ্যমে মোট প্রায় ৮ কোটি ৫৩ লাখ টাকা আত্মসাতের প্রাথমিক প্রমাণ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি বাদীপক্ষকে ভয়ভীতি ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও উঠে এসেছে।

এসব অভিযোগের ভিত্তিতে আদালত পাঁচ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে প্রতারণা ও অপরাধমূলক বিশ্বাস ভঙ্গের অভিযোগ আমলে নিয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।

আরো