মঙ্গলবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:১৮ পূর্বাহ্ণ

এনআরবিসি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ও এমডি’র বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ

এনআরবিসি ব্যাংক পিএলসির চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য, সিনিয়র কর্মকর্তাদের অহেতুক হয়রানী ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে চাকুরী ছাড়তে বাধ্যকরণ এবং শূন্য পদের বিপরীতে অবৈধ নিয়োগ বাণিজ্যসহ বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ করা হয়েছে।

এনআরবিসি ব্যাংকের শেয়ারহোল্ডারগণের পক্ষে জনৈক সাইদুর রহমান বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ০৫ আগস্ট পরবর্তী সংস্কার ও সুশাসন প্রতিষ্ঠার নামে অত্র ব্যাংকের পর্ষদ ভেঙ্গে নতূন পর্ষদ গঠন করা হয়। এর মাধ্যমে ব্যাংকটিতে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে মর্মে আশা করেছিলেন শেয়ারহোল্ডারগণ। কিন্তু দুঃখজনকভাবে সংস্কারের নামে বর্তমানে ব্যাংকটিতে নজিরবিহীন দুর্নীতি, নিয়োগ-বাণিজ্য, স্বজনপ্রীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহার করা হচ্ছে। ব্যাংক লুটের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদেরই পুনরায় ব্যাংক পুনর্গঠনের দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে।

অভিযোগ করা হয়েছে, আওয়ামীলীগের আমলে যারা ব্যাংক ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল তাদেরকেই চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক হিসেবে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নেতৃত্বে গঠিত একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেট পরিকল্পিতভাবে ব্যাংকটিকে গ্রাস করার চেষ্টা করে যাচ্ছে। তাদের চরম স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম ও দুর্নীতির কারণে ব্যাংকের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কার্যত জিম্মি হয়ে পড়েছেন।

লিখিত অভিযোগে বলা হয়, বাংলাদেশ ব্যাংকে বিভিন্ন সময়ে পত্রালাপের পরিপ্রেক্ষিতে পর্ষদ ভেঙ্গে নতুন পর্ষদ গঠন করা হলেও এই নতুন পর্ষদ ব্যাংকটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা ও শাসন কাঠামোয় কোনো দৃশ্যমান বা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের অতীত কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করলে এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সংশ্লিষ্ট নথিপত্র অনুসন্ধান করলে তাদের পূর্ববর্তী কর্মস্থলসমূহে ব্যর্থতা, অনিয়ম ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগ সংক্রান্ত তথ্যের সত্যতা পাওয়া যেতে পারে। জানা যায়, ড. মোঃ তৌহিদুল আলম খান পূর্বে তার একাধিক কর্মস্থলে অনিয়ম, দুর্নীতি ও আর্থিক ক্ষতির অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিভিন্ন সময়ে চাকরিচ্যুত হয়েছিলেন, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক।

আরও অভিযোগ করা হয়, ব্যাংকের বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিচালক ড. মোঃ তৌহিদুল আলম খান ২০২৫ সালের ৫ মে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই ব্যাংকের নীতিনির্ধারণ প্রক্রিয়ায় একচেটিয়া ও স্বেচ্ছাচারী কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতি এবং উদ্দেশ্যমূলকভাবে অভিজ্ঞ ও সিনিয়র কর্মকর্তাদের চাকরিচ্যুতির ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠান ত্যাগে বাধ্য করার অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় ও কৃত্রিমভাবে শূন্য পদ সৃষ্টি করে ব্যাপক নিয়োগ-বাণিজ্য পরিচালনার অভিযোগও উঠে এসেছে। তিনি পরিকল্পিতভাবে ব্যবস্থাপনায় কর্মরত সকল যোগ্য ও অভিজ্ঞ উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে অপসারণ করে তাদের স্থলে তার পূর্ববর্তী কর্মস্থলের অযোগ্য কিন্তু অনুগত ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবস্থাপনা পদে নিয়োগ দিচ্ছেন, যার ফলে ব্যাংকটির কর্পোরেট শাসনব্যবস্থা ভেঙে পড়ছে এবং একচেটিয়া কর্তৃত্ব সুসংহত হচ্ছে।

বর্তমানে বিপুল সংখ্যক ম্যানেজমেন্ট ট্রেইনি অফিসার (MTO) নিয়োগকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও নিয়োগ-বাণিজ্যের একটি সুসংগঠিত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

চিঠিতে শেয়ারহোল্ডার উদ্বেগ প্রকাশ করেন, এত বিপুলসংখ্যক নিয়োগ কার্যক্রম বাংলাদেশ ব্যাংকের নিয়োগ নীতিমালা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ নির্দেশনা, কর্পোরেট গভর্ন্যান্স গাইডলাইন এবং PCA কাঠামোর সুস্পষ্ট পরিপন্থী। এর ফলে ব্যাংকের পরিচালন ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ভবিষ্যতে ব্যাংকের মুনাফা, লভ্যাংশ প্রদান সক্ষমতা এবং শেয়ারহোল্ডারদের বিনিয়োগ সুরক্ষার ওপর মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে।

এছাড়া গণহারে গ্রাহকদের জন্য আরটিজিএস (RTGS) ফি মওকুফসহ, তারুণ্য উৎসবের নামে ব্যয়বহুল কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে ব্যাংকটিকে ব্যাপক আর্থিক অপচয়ের দিকে ঠেলে দেওয়া হচ্ছে, যার ফলে প্রতিষ্ঠানটি ক্রমশ ক্ষতির মুখে পড়ছে। এছাড়াও, শুধুমাত্র সম্মানী ফি আদায়ের উদ্দেশ্যে উক্ত পর্ষদ অযাচিতভাবে প্রতি মাসে তিন থেকে চারটি বোর্ড সভা আয়োজন করারও অভিযোগ আনা হয়।

চিঠিতে বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রচলিত আইন, নীতিমালা ও নির্দেশনার আলোকে নিয়োগ কার্যক্রমসহ সকল অভিযোগ তদন্তপূর্বক প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য শেয়ারহোল্ডারগণ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

আরো