ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলতে প্রস্তুত ইউরোপের চার শক্তিধর দেশ
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সাম্প্রতিক সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে ইরানের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে ইউরোপের চার প্রভাবশালী দেশ—যুক্তরাজ্য, ফ্রান্স, জার্মানি ও ইতালি।
রোববার (১৪ জুন) দেওয়া এক যৌথ বিবৃতিতে দেশগুলো জানায়, ইরান তার পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে স্পষ্ট ও যাচাইযোগ্য পদক্ষেপ নিলে তারা সংশ্লিষ্ট নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারে প্রস্তুত রয়েছে।
যৌথ বিবৃতিতে ইউরোপীয় নেতারা বলেন, ইরান যেন কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে তারা যুক্তরাষ্ট্র, ইরান এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর সঙ্গে কাজ চালিয়ে যাবেন। একই সঙ্গে চলমান কূটনৈতিক অগ্রগতি ধরে রেখে দীর্ঘমেয়াদি সমাধানে পৌঁছানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করেন তারা।
এর আগে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি ঘোষণার পর আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তা ইতিবাচকভাবে গ্রহণ করা হয়। চুক্তি বাস্তবায়নের মাধ্যমে আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিভিন্ন দেশের নেতারা।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই মেগা চুক্তির পেছনে অন্যতম মধ্যস্থতাকারী দেশ হিসেবে কাজ করেছে কাতার ও পাকিস্তান। চুক্তির সফল অগ্রগতিতে কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) পাকিস্তান সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, সব পক্ষই আগামী দিনের আলোচনাগুলোতে ইতিবাচক মনোভাব বজায় রাখবে।
আগামী ১৯ জুন সুইজারল্যান্ডে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষরিত হতে যাওয়া এই চুক্তিকে স্বাগত জানিয়েছেন বিশ্বের অন্যান্য প্রভাবশালী দেশের রাষ্ট্রপ্রধানেরাও।
জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি এই শান্তিচুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে আশা প্রকাশ করেন, এই সমঝোতা হরমুজ প্রণালিতে অবাধ ও নিরাপদ আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল নিশ্চিত করবে।
অন্যদিকে জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মার্কিন ও ইরানি নেতাদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, এই চুক্তি পুনরুজ্জীবিত বৈশ্বিক অর্থনীতি এবং একটি নিরাপদ মধ্যপ্রাচ্যের পথ প্রশস্ত করবে। নিউজিল্যান্ডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী উইনস্টন পিটার্সও চুক্তির সব শর্ত দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছেন।
তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লেখেন, পুরো বিশ্ব দীর্ঘ সময় ধরে এই সুসংবাদের অপেক্ষায় ছিল। এই চুক্তি অঞ্চলে দীর্ঘস্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা আনবে বলে তিনি মনেপ্রাণে বিশ্বাস করেন। একই সঙ্গে চুক্তি চূড়ান্ত হওয়া পর্যন্ত সব পক্ষকে উসকানিমূলক বক্তব্য ও নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার এই চুক্তি, স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং বিশ্ব বাণিজ্যের অন্যতম রুট হরমুজ প্রণালি পুনরায় উন্মুক্ত করার ঘোষণাকে স্বাগত জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।
জাতিসংঘের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিকের দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, মহাসচিব আশা প্রকাশ করছেন, সংশ্লিষ্ট সব পক্ষ এই নতুন ইতিবাচক গতিধারাকে কাজে লাগিয়ে চলমান সংকটের একটি চূড়ান্ত ও স্থায়ী সমাধান টানবে