মঙ্গলবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪২ অপরাহ্ণ

মেয়ের প্রেমে আপত্তি নেই, বিয়েতে না

ষাটের দশকের মাঝামাঝি সময়ে ভারতীয় বাংলা সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্র ক্যারিয়ার শুরু করেন মৌসুমী চ্যাটার্জি। তারপর বলিউডে পাড়ি জমান। অভিনয় ক্যারিয়ারে ধর্মেন্দ্র, জিতেন্দ্র, বিনোদ খান্না, অমিতাভ বচ্চন, রাজেশ খান্নার মতো তারকাদের সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন।

১৯৬৭ সালে মুক্তি পায় মৌসুমী অভিনীত প্রথম সিনেমা ‘বালিকা বধূ’। তখন তার বয়স ১২-১৫ বছর। সেই সময়ে কিংবদন্তি সুরকার ও গায়ক হেমন্ত কুমারের ছেলে জয়ন্ত মুখার্জির সঙ্গে পরিবার তার বিয়ে দেয়।

মৌসুমী চ্যাটার্জি বহুবার জানিয়েছেন, বিয়ে-মাতৃত্ব তার জীবনে খুব অল্প বয়সে এসেছিল। কয়েক দিন আগে জাগরণ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে নয়নদীপ রক্ষিতকে সাক্ষাৎকার দেন মৌসুমী চ্যাটার্জি। এসময় নিজেকে ‘প্রগতিশীল’ উল্লেখ করেন। পাশাপাশি ৩৫ বছর বয়েসি কন্যা মেঘাকে দেওয়া উপদেশের কথাও স্মরণ করেন। এই অভিনেত্রী বলেন, “আমি আমার মেয়েকে বলেছি—‘তোমার প্রেমিক থাকতেই পারে, কিন্তু তাকে বিয়ে করবে না।”

এরপর অনুষ্ঠানে উপস্থিত নারীদের পরামর্শ দিয়ে মৌসুমী চ্যাটার্জি বলেন, “মেয়েরা আজই সাবধান হও। একটু স্বার্থপর ও আত্মকেন্দ্রিক হও। কারণ সময় বদলেছে। গীতাতেও লেখা আছে—‘পরিবর্তন সংসারের নিয়ম।”

তরুণ প্রজন্ম জীবন উপভোগ করতে পারছে না বলে মনে করেন মৌসুমী। তার ভাষায়, “এখন পরিবর্তন এসেছে। আগের সময়ের তুলনায় আমরা অনেকটা এগিয়েছি। আমরা আমাদের মেয়েদের শ্বশুর-শ্বাশুড়ির যত্ন নিতে শেখাই। কিন্তু ছেলেদের তা শেখাই না। আমরা মনে করি, ঘরের কাজ করা নারীর দায়িত্ব, পুরুষের কাজ নয়। আজকের তরুণ প্রজন্ম প্রচণ্ড চাপে রয়েছে। তারা জীবন উপভোগ করতে পারছে না, নিজেদের জন্যও তাদের সময় নেই।”

ভুল থেকে শিক্ষা নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে মৌসুমী চ্যাটার্জি বলেন, “অন্যদের কাছে প্রমাণ করার জন্য কিছু করবেন না। আমার বয়স এখন ৭২ বছর। যা ভালো লাগে, করুন। তবে কোনো কিছু নিয়ে বাড়াবাড়ি করবেন না। জীবনে একবার কোনো ভুল করলে, তার আর পুনরাবৃত্তি করবেন না। আমিও জীবনে ভুল করেছি। কিন্তু একবার বুঝতে পেরেছি—কাজটি ঠিক হয়নি, এরপর আর সেই ভুল করিনি। আমরা মানুষ, আমাদের বিবেক আছে। কিন্তু আমরা সেটিকে বিশ্লেষণ করি না।”

২০১৯ সালে দীর্ঘদিন ডায়াবেটিসের সঙ্গে লড়াই করার পর বড় মেয়ে পায়েল মুখার্জি মারা যান। মৃত্যুর আগে প্রায় দুই বছর কোমায় ছিলেন। পায়েল গানের মানুষ ছিলেন। আর মেঘা মায়ের মতো অভিনয়ে পা রেখেছেন। তবে কন্যা শোক এখনো এ দম্পতিকে তাড়া করে বেড়ায়।

১৯৬৭ সালে তরুণ মজুমদারের ‘বালিকা বধূ’ সিনেমার মাধ্যমে বাংলা ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে আত্মপ্রকাশ করেন মৌসুমী। পরে বলিউডে যাত্রা শুরু করেন। সত্তর দশকে বলিউডের সবচেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাওয়া অভিনেত্রীদের অন্যতম মৌসুমী।

প্রায় ৬ দশকের অভিনয় ক্যারিয়ারে অসংখ্য দর্শকপ্রিয় সিনেমা উপহার দিয়েছেন মৌসুমী চ্যাটার্জি। এ তালিকায় রয়েছে—অনুরাগ, বেনাম, মঞ্জিল, প্রেম বন্ধন প্রভৃতি। কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ এ অভিনেত্রী পেয়েছেন দাদা সাহেব ফালকে পুরস্কার।

আরো