সিগারেট কোম্পানির সহযোগিতা না নেওয়ার আহ্বান
নিজস্ব প্রতিবেদক:
সিগারেট কোম্পানির কাছ থেকে বৃক্ষ, আর্থিক সহায়তা বা অন্য কোনো ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ না করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ তামাকবিরোধী জোট (বাটা)।
সোমবার দেওয়া এক বিবৃতিতে জোটটি এ আহ্বান জানায়। বিবৃতিতে বলা হয়, পরিবেশ রক্ষা ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় সরকারের দেশব্যাপী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণের উদ্যোগের সুযোগ নিয়ে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো কোম্পানি (বিএটি) বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের কাছে বিনামূল্যে বৃক্ষ বিতরণ করছে এবং এসব কার্যক্রমকে সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচি (সিএসআর) হিসেবে প্রচার করছে বলে অভিযোগ করেছে বাটা।
বাটা বলছে, বিদ্যমান তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনে তামাক কোম্পানির সিএসআর কার্যক্রম পরিচালনা বা করানো নিষিদ্ধ। আইনের ৫(৩) ধারায় সামাজিক দায়বদ্ধতা কর্মসূচির নামে তামাক বা তামাকজাত দ্রব্য উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানের নাম, সাইন, ট্রেডমার্ক ও প্রতীক ব্যবহার এবং কোনো প্রতিষ্ঠান, অনুষ্ঠান বা কর্মসূচিতে সহায়তা দেওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বিএটি বিভিন্ন সামাজিক সংগঠনের মাধ্যমে গাছ লাগানোর কর্মসূচি পরিচালনা ও নিজেদের নাম প্রচারের চেষ্টা করছে। এসব কর্মসূচিতে সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদেরও সম্পৃক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে জোটটি।
বাটা মনে করে, তামাক কোম্পানির এ ধরনের কার্যক্রম সরকারের তামাক নিয়ন্ত্রণ উদ্যোগ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার তামাক নিয়ন্ত্রণবিষয়ক ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশনের (FCTC) নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। তাদের দাবি, সরকারি কর্মকর্তা বা প্রতিষ্ঠানের সম্পৃক্ততা তামাক কোম্পানিগুলোকে বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য আড়াল ও সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির সুযোগ দিতে পারে।
জোটটি দেশের সামাজিক, স্বেচ্ছাসেবী ও অন্যান্য সংগঠনকে তামাক কোম্পানির কাছ থেকে বৃক্ষ, অর্থসহ কোনো ধরনের সহযোগিতা না নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে তামাক কোম্পানির সিএসআর কর্মসূচির নামে পরিচালিত কার্যক্রম সম্পর্কে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
এ ছাড়া সরকারি কর্মকর্তা ও প্রতিষ্ঠানগুলোকে তামাক কোম্পানির কাছ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা গ্রহণ থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে বাটা। পাশাপাশি সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তামাক কোম্পানির এসব কার্যক্রম ও সংশ্লিষ্ট আইনি বিধান সম্পর্কে সচেতন করার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
বিবৃতিতে সরকারের বৃক্ষরোপণ ও পরিবেশ সুরক্ষা কর্মসূচিতে তামাক কোম্পানির প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ সম্পৃক্ততা রোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। জোটটির মতে, পরিবেশ সুরক্ষা ও বৃক্ষরোপণের মতো জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ কোনোভাবেই তামাক কোম্পানির প্রচার, ব্র্যান্ড ইমেজ উন্নয়ন বা সামাজিক গ্রহণযোগ্যতা তৈরির মাধ্যম হওয়া উচিত নয়।
