এয়ারবাসের এ৩৫০ ও এ৩২১নিও আসছে বিমানে
এয়ারবাস থেকে ১০টি আধুনিক বিমান কিনছে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনস, যার মধ্যে আছে চারটি এ৩৫০-৯০০ ওয়াইডবডি ও ছয়টি এ৩২১নিও সিঙ্গেল-আইল বিমান। নতুন আধুনিক বিমান যুক্ত করে আন্তর্জাতিক নেটওয়ার্ক সম্প্রসারণে বিমানের পরিকল্পনার একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে এটিকে বিবেচনা করা হচ্ছে।
এই আধুনিক বিমানগুলোর রেঞ্জ, জ্বালানি-দক্ষতা ও সাশ্রয়ী পরিচালন-ব্যয় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের নেটওয়ার্ককে আরও শক্তিশালী করবে এবং উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ গন্তব্যে ফ্লাইট চালুর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ভূমিকা রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বর্তমানে বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকাশক্তি এর তরুণ জনসংখ্যা। কর্মক্ষম মানুষের সংখ্যা যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তার ওপর নির্ভর করেই আগামী কয়েক বছর অর্থনীতির চাকা এগিয়ে চলবে, যা সরাসরি আকাশপথে চলাচলের চাহিদাতেও প্রভাব ফেলবে। মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াসহ বিশ্বজুড়ে প্রবাসী-বাংলাদেশি ছড়িয়ে থাকায় আন্তর্জাতিক রুটে চাহিদা সব সময়ই বেশি থাকে। এছাড়া, বৈদেশিক বাণিজ্য বৃদ্ধির ফলে এয়ার কার্গোর চাহিদাও বৃদ্ধি পাবে, যা মেটাতে প্রস্তুত এয়ারবাসের নতুন বিমানগুলো।
এ প্রসঙ্গে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারম্যান রুমি এ. হোসেন বলেন, “বাংলাদেশের বর্তমান জনসংখ্যা প্রায় ২০ কোটি। জনসংখ্যা বৃদ্ধির সাথে সাথে শক্তিশালী হচ্ছে অর্থনীতি, বাড়ছে বিমানে ভ্রমণের চাহিদাও। সেই সাথে, বিশ্বজুড়ে বসবাসরত প্রায় দেড় কোটি প্রবাসী বাংলাদেশির সাথে আমাদের নিবিড় সম্পর্ক নতুন বিমান কেনার এই সিদ্ধান্ত গ্রহণে অন্যতম ভূমিকা রেখেছে। আশা করছি এয়ারবাসের ১০টি নতুন ও আধুনিক বিমান যাত্রীদের ভ্রমণকে আরও উপভোগ্য করে তুলবে।”
এয়ারবাস কমার্শিয়াল এয়ারক্রাফট বিজনেসের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট (সেলস) বেনোয়া দ্যে সাঁ-এক্সুপেরি বলেন, “নতুন এই চুক্তি বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের সঙ্গে আমাদের অংশীদারত্বে একটি বড় মাইলফলক। একসঙ্গে এ৩৫০ ও এ৩২১নিও কেনার সিদ্ধান্ত বিমানের একটি চমৎকার ফ্লিট-স্ট্র্যাটেজি বলেই আমি মনে করি। দুটি মডেলই দুর্দান্ত রেঞ্জ ও পারফর্ম্যান্সের জন্য সুপরিচিত, যা বাংলাদেশকে বিশ্বব্যাপি গুরুত্বপূর্ণ বাজারগুলোর সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি যাত্রীদেরও দিবে চমৎকার ভ্রমণ-অভিজ্ঞতা। নতুন নতুন আন্তর্জাতিক গন্তব্যে ভ্রমণের পাশাপাশি এই মডেল দুটি পুরো নেটওয়ার্কজুড়ে বাড়তে থাকা চাহিদা মেটাবে বলে আমি আশাবাদী।”
এ৩৫০ বিশ্বের সবচেয়ে আধুনিক ওয়াইডবডি বিমান। এটি একটানা ৯,৭০০ নটিক্যাল মাইল (১৮,০০০ কিলোমিটার) পর্যন্ত উড়তে পারে, যা আন্তঃমহাদেশীয় ভ্রমণে নতুন মানদণ্ড স্থাপন করেছে। অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও অ্যারো-ডাইনামিকসের কারণে এর পারফর্ম্যান্স ও কম্ফোর্ট অতুলনীয়। নতুন প্রজন্মের রোলস-রয়েস ইঞ্জিন এবং কম ওজনের উপকরণ ব্যবহারের ফলে একই শ্রেণির পুরনো বিমানের তুলনায় এর জ্বালানি খরচ, পরিচালন-ব্যয় ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ ২৫ শতাংশ কম। এর বিশেষ এয়ারস্পেস কেবিনে যাত্রী ও ক্রু-রা আধুনিক ইন-ফ্লাইট সুবিধা পাবেন, যা ভ্রমণকে করে তুলবে আরও উপভোগ্য ও আরামদায়ক।
অন্যদিকে, এয়ারবাসের সবচেয়ে জনপ্রিয় সিরিজ এ৩২০নিও-এর সবচেয়ে বড় বিমান হলো এ৩২১নিও। পরিচালন-ব্যয় ও রেঞ্জের ক্ষেত্রে এটি এই শ্রেণির সেরা বিমান। ফলে অভ্যন্তরীণ ও মধ্যম দূরত্বের রুটে এয়ারলাইনগুলো সন্তোষজনক সেবা দিতে পারে। এই শ্রেণির পুরনো বিমানের তুলনায় এর জ্বালানি খরচ ও কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ অন্তত ২০ শতাংশ কম।
