মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ৯:৫৫ অপরাহ্ণ

১২ দেশ ভ্রমণে নাগরিকদের সতর্ক করল যুক্তরাষ্ট্র

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের উদ্দেশে ভ্রমণ সতর্কতা জারি করেছে মধ্যপ্রাচ্যের ১২টি দেশে থাকা মার্কিন দূতাবাস।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) এক যৌথ বিবৃতিতে এই সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইউরো নিউজের প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত, জর্ডান, বাহরাইন, ওমান, ইরান, কাতার, ইরাক, লেবানন, ইয়েমেন এবং ইসরায়েল— এই ১২ দেশের মার্কিন দূতাবাস এই বিবৃতি দিয়েছে।

নাগরিকদের উদ্দেশে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংঘাত, ফ্লাইট বাতিল ও আকাশসীমা বন্ধ থাকার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের আপাতত এসব দেশ ভ্রমণে নিরুৎসাহিত করা হচ্ছে।

বর্তমানে এই ১২টি দেশে যেসব মার্কিন নাগরিক আছেন, তাদের বিশেষভাবে সতর্ক থাকতে, এয়ারলাইন্সের কার্যক্রমের ওপর নজর রাখতে, ওই অঞ্চলে অবস্থিত মার্কিন মিশনগুলোর সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে এবং যেকোনো আকস্মিক পরিবর্তনের জন্য প্রস্তুত থাকার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে বিবৃতিতে।

এতে আরও বলা হয়েছে, ইরান এবং তেহরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো বিদেশে মার্কিন স্বার্থ, যেমন- যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাকে লক্ষ্যবস্তু করতে পারে। এতে ইরান-সমর্থিত হুতি বাহিনীর দ্বারা সৌদি আরবে চালানো হামলার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এসব হামলার মধ্যে বেসামরিক বিমানবন্দর ও গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর ওপর চালানো আক্রমণগুলো সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ঘটিয়েছে এবং ভ্রমণ ব্যবস্থায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে।

মার্কিন মিশনগুলো ভ্রমণকারীদের পরামর্শ দিয়ে বলেছে, ফ্লাইট নির্ধারিত সময়েই চলবে- এমনটা ধরে না নিয়ে বরং এয়ারলাইন্স বা বিমানবন্দরের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে।

লেবাননে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস নাগরিকদের বৈরুত রফিক হারিরি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সঙ্গে যোগাযোগ রাখার পরামর্শ দিয়েছে। অন্যদিকে, ইয়েমেনে মার্কিন দূতাবাস ফ্লাইট সংক্রান্ত তথ্যের জন্য ‘ইয়েমেনিয়া এয়ারওয়েজ’ এবং ‘ফ্লাই এডেন এয়ারলাইন্স’ এর সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছে।

মিশনগুলোর পক্ষ থেকে মার্কিন নাগরিকদের যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ কর্মসূচি ‘স্মার্ট ট্রাভেলার এনরোলমেন্ট প্রোগ্রাম’ (স্টেপ)-এ নাম নথিভুক্ত করার আহ্বান জানানো হয়েছে। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নিরাপত্তা সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্য পাওয়া যায় এবং জরুরি পরিস্থিতিতে কূটনীতিকদের পক্ষে নাগরিকদের সাথে যোগাযোগ করা সহজ হয়।

এ ছাড়া স্থানীয় গণমাধ্যমের খবরের দিকে নজর রাখা, স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা মেনে চলা, ফোন চার্জ রাখা, লোকচক্ষুর আড়ালে থাকা এবং মার্কিন দূতাবাসের পরিষেবার সঙ্গে সরাসরি যুক্ত স্থানগুলোতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করার পরামর্শও দিয়েছে মার্কিন দূতাবাস।

আরো