শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৪৪ অপরাহ্ণ

পঞ্চগড়ে হাদি হত্যার বিচার দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ

বিশেষ প্রতিনিধি :

দেশের সর্ব উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড়ে শহীদ ওসমান শরীফ হাদি হত্যার বিচার দাবিতে শিক্ষার্থীরা মহাসড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালন করেছেন।

গত ১১ জানুয়ারি শুরু হওয়া প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী এই অবরোধে পঞ্চগড় জেলা শহর কার্যত অচল হয়ে পড়ে। অবরোধের কারণে অসুস্থ রোগী ও প্রসব যন্ত্রণায় কাতর নারীরা অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য জেলা শহরের বাইরে যেতে পারেননি। এছাড়া জরুরি কাজে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে পৌঁছাতে না পেরে চরম ভোগান্তিতে পড়েন সাধারণ মানুষ।

আন্দোলনকারীরা জানান, শহীদ হাদি হত্যার সুষ্ঠু ও দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতেই এই কর্মসূচি পালন করা হয়।

এ সময় পঞ্চগড় জেলা পুলিশ আন্দোলনকারীদের শান্তিপূর্ণভাবে মহাসড়কের এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা তা মানেননি। ফলে করতোয়া সেতুর উভয় পাশে প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয় এবং হাজার হাজার যানবাহন আটকা পড়ে।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে সাধারণ মানুষের অনুরোধে সেনাবাহিনী ঘটনাস্থলে পৌঁছে। সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের বারবার মহাসড়কের এক পাশে অবস্থান নেওয়ার অনুরোধ জানালেও তারা তা উপেক্ষা করে মহাসড়কে শুয়ে পড়ে অবরোধ জোরদার করেন।

এক পর্যায়ে দেশ ও জনগণের স্বার্থে সেনাবাহিনী আন্দোলনকারীদের সরাতে গেলে উভয় পক্ষের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। পরে আন্দোলনকারীরা স্থান ত্যাগ করলে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়। এ ঘটনায় সেনা সদস্যরাও বিব্রতকর পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।

ঘটনার ধারাবাহিকতায় সন্ধ্যার পর আন্দোলনকারীরা প্রায় দুই শতাধিক সমর্থক নিয়ে পঞ্চগড় সেনা ক্যাম্পের সামনে অবস্থান নেন। পরিস্থিতি শান্ত করতে সেখানে উপস্থিত হন পঞ্চগড় ইউনিট কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল রিয়াসাত রহমান ফারুকী, জেলা প্রশাসক এবং এনসিপি নেতা শার্জিস আলম।

এ সময় সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে লাঠিচার্জের অভিযোগ তুলে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলেও শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে। আন্দোলনকারীরা দাবি করেন, সেনা সদস্যদের আঘাতে কয়েকজন আহত হয়ে পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

এ বিষয়ে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন জানান, অল্প মাত্রায় আহত কয়েকজন হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এলে তাদের ভর্তি করে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

পরে জেলা প্রশাসক বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার আশ্বাস দিলে আন্দোলনকারীরা স্থান ত্যাগ করেন। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত পঞ্চগড়ে নতুন করে কোনো আন্দোলন বা সড়ক অবরোধের খবর পাওয়া যায়নি।

আরো