ইরানের সিদ্ধান্তে কৃতজ্ঞতা জানালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প
রাজনৈতিক বন্দিদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্ত নেওয়ায় ইরান সরকারের প্রশংসা করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুক্রবার হোয়াইট হাউজ ত্যাগের আগে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি এ বিষয়ে বিরল ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন।
ফ্লোরিডার পাম বিচে নিজ মালিকানাধীন মার-এ-লাগো রিসোর্টে সপ্তাহান্ত কাটাতে যাওয়ার পথে ট্রাম্প জানান, ইরানে ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিকল্পনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত তার কাছে অত্যন্ত সম্মানজনক বলে মনে হয়েছে।
এ বিষয়ে ট্রাম্প তার নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মেও একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে যাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়ার কথা ছিল, তারা এখন সেই ঝুঁকি থেকে মুক্ত। পোস্টের শেষে তিনি সংক্ষেপে লেখেন— “ধন্যবাদ!”
ইরানে চলমান বিক্ষোভের সময় দেশটির সরকার যদি গণহারে মানুষ হত্যা শুরু করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে— এমন হুঁশিয়ারি দেওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই ট্রাম্পের এই মন্তব্য সামনে আসে। যদিও সাম্প্রতিক সময়ে ইরানে বিক্ষোভের তীব্রতা অনেকটাই কমে এসেছে।
মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যমতে, বিক্ষোভ দমনে হতাহতের সংখ্যা এখনো বাড়ছে। তবে ট্রাম্পের বক্তব্যে ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে যে, মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করার সিদ্ধান্তের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ আপাতত শিথিল হয়েছে।
ইরানের বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে ট্রাম্পের এই ইতিবাচক মূল্যায়নের সরাসরি মিল না থাকলেও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এতে স্পষ্ট যে আগের তুলনায় তিনি এখন কিছুটা নরম অবস্থানে রয়েছেন।
এর আগে ইরানি বিক্ষোভকারীদের উদ্দেশে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছিলেন, “সাহায্য আসছে।” শুক্রবার সাংবাদিকরা জানতে চাইলে তিনি সেই বক্তব্যে অনড় থাকেননি। উত্তরে তিনি বলেন, “দেখা যাক কী হয়।”
আরব ও ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের চাপের কারণে ইরান হামলার পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছেন কি না— এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, সিদ্ধান্তটি একান্তই তার নিজের এবং কেউ তাকে প্রভাবিত করেনি।
তিনি আরও জানান, ইরান যখন ৮০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর না করে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে, সেটি তার ওপর বড় প্রভাব ফেলেছে। তবে এই সিদ্ধান্ত কোন পর্যায়ের আলোচনার মাধ্যমে নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে তিনি স্পষ্ট কিছু বলেননি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ডিসেম্বর ইরানে অর্থনৈতিক সংকটের প্রতিবাদে শুরু হওয়া আন্দোলন দ্রুতই দেশটির ধর্মীয় শাসনের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে রূপ নেয়। বর্তমানে রাজধানী তেহরানে পরিস্থিতি অনেকটাই শান্ত বলে জানা গেছে। দোকানপাট ও স্বাভাবিক জনজীবন ফিরতে শুরু করলেও ইন্টারনেট সংযোগ এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়নি।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও নতুন করে বড় ধরনের সহিংসতার খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
তবে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস অ্যাক্টিভিস্ট নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে, বিক্ষোভে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২ হাজার ৭৯৭ জনে পৌঁছেছে এবং এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এদিকে, ইরানের নির্বাসিত ক্রাউন প্রিন্স রেজা পাহলভি যুক্তরাষ্ট্রকে তাদের হস্তক্ষেপের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, মার্কিন প্রেসিডেন্ট তার আগের অবস্থান থেকে সরে আসবেন না।
সূত্র: এপি