কুবিতে রাজনীতি নিষিদ্ধ, প্রশাসনিক ভবনেই ছাত্রদলের কর্মশালা
কুবি প্রতিনিধি: নেতাকর্মীদের নেতৃত্বের বিকাশ, রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা জোরদার এবং মাদক ও র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ে তোলার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) প্রশাসনিক ভবনে শাখা ছাত্রদলের কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে সিন্ডিকেট সভার মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ রয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৩টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবনের ৪১১ নম্বর কক্ষে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০০৭ সালে অনুষ্ঠিত বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম সিন্ডিকেট সভায় ক্যাম্পাসে সব ধরনের রাজনৈতিক সংগঠনের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অনুষ্ঠিত ১০০তম (জরুরি) সিন্ডিকেট সভায়ও এ সিদ্ধান্ত বহাল রাখা হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে কোনো রাজনৈতিক দলের অঙ্গ, সহযোগী বা ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠন প্রকাশ্যে কিংবা গোপনে রাজনৈতিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারবে না।
এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় আইনের ৪৩(ঘ) ধারায় শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের কোনো রাজনৈতিক দলের সদস্য হওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এ বিধান লঙ্ঘন করলে শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে।
কর্মশালায় শাখা ছাত্রদলের সদস্যসচিব আবুল বাশারের সঞ্চালনায় এবং আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভর সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র নির্দেশনা ও পরামর্শক দপ্তরের পরিচালক সহযোগী অধ্যাপক ড. জুলহাস উদ্দিন। এ সময় লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও কুবির ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মাহিন উদ্দিন, ইংরেজি বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ও কাজী নজরুল ইসলাম হলের প্রভোস্ট মো. হারুনসহ শাখা ছাত্রদলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
কর্মশালায় রাজনৈতিক ও সাংগঠনিক দক্ষতা বৃদ্ধির পাশাপাশি নেতৃত্বের গুণাবলি, সাংগঠনিক শৃঙ্খলা, দায়িত্ববোধ ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে আলোচনা করা হয়। একই সঙ্গে মাদক ও র্যাগিংয়ের বিরুদ্ধে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং শিক্ষার্থীদের একাডেমিক কার্যক্রমকে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয় বলে জানা যায়।
শাখা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোস্তাফিজুর রহমান শুভ বলেন, হ্যাঁ, প্রশাসনের কাছ থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আমরা মৌখিকভাবে সবার থেকে অনুমতি নিয়েছিলাম। আর আমরা প্রোগ্রাম করব সেটা তো সবাই জানে।
মাদক ও র্যাগিংমুক্ত ক্যাম্পাস গড়ার লক্ষ্যে আমাদের এই প্রোগ্রাম ছিল। ক্যাম্পাসে রাজনীতি আইনে কী আছে বা নেই, ওটা আমরা লক্ষ্য করি না। আমাদের কথা হচ্ছে, সচেতন শিক্ষার্থী যারা, তারা সবাই রাজনীতি করতে পারবে। আমরা কাউকে জোর করে রাজনীতি করাতে চাই না।
ইন্টেরিমের আমলে রাজনীতি নিষিদ্ধ যে হয়েছিল, সেটা প্রত্যাহারের দাবি আমরা তখন জানিয়েছিলাম। আমরা একটা সচেতনতামূলক কর্মশালা করেছি, এটা শুধু আমরা না, সকলেরই করা উচিত।
তিনি আরও বলেন, অনুমতির বিষয়ে ক্লিয়ার ম্যাসেজ, আমরা ইন্টেরিমের আমলে যে প্রশাসনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছি, ওই প্রশাসনের একটা নিয়ম তো আমরা মানব না। বর্তমান ভিসি স্যারের সাথেও মৌখিকভাবে কথা বলেছি এবং আমরা দ্রুত স্মারকলিপি দেব, যাতে সকলের জন্য রাজনীতি উন্মুক্ত করে দেন। সকলের জন্য একটি সহাবস্থানের ক্যাম্পাস উপহার দিতে পারেন তিনি।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের লোকপ্রশাসন বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ও ইউট্যাবের সাধারণ সম্পাদক মো. মাহিন উদ্দিন বলেন, এটা একটি একাডেমিক প্রোগ্রাম ছিল। মাদক ও র্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই সেখানে গিয়েছি। আমি সেখানে কোনো রাজনৈতিক প্রোগ্রাম দেখিনি।
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে রাজনৈতিক দলের প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের ব্যাপারে জানতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মো. জুলহাস উদ্দিন বলেন, আমরা দেখেছি বিশ্ববিদ্যালয়ে রাজনৈতিক কার্যক্রম চলছে। এগুলো খাতা-কলমে নিষিদ্ধ, বাস্তবে চলছে। আগে ছাত্রলীগ করত, এখন ছাত্রদল-শিবির করে। আর এই প্রোগ্রামে মাদক ও র্যাগিংবিরোধী আলোচনা হয়েছে। তাই আমরাও বলেছি, কোনো সংগঠন এমন উদ্যোগ নিলে আমরা তাদের পাশে থাকব।
এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক ড. আব্দুল হাকিম বলেন, আমি এই প্রোগ্রাম বিষয়ে কিছু জানি না। তবে শুনেছি এডমিন বিল্ডিংয়ে কোনো ভাইয়ের নামে স্লোগান দিচ্ছে। এডমিন বিল্ডিংয়ের রুম বরাদ্দের জন্য অনুমতি দিতে পারেন রেজিস্ট্রার। উনি এ বিষয়ে ভালো বলতে পারবেন।
এ বিষয়ে কথা বলতে চাইলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আমজাদ হোসেন সরকার বিষয়টি এড়িয়ে যান।
