বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৫:৪২ অপরাহ্ণ

লাভেলোর শেয়ার কারসাজিতে ১০ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

তাওফিকা ফুডস অ্যান্ড লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার লেনদেনে কারসাজির অভিযোগে ৮ ব্যক্তি ও ২ প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ কোটি ১৯ লাখ ৯৭ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। একই ঘটনায় কোম্পানিটির চেয়ারম্যান শামীমা নার্গিস হক, তাঁর নিকটাত্মীয় মো. জাহেদুল হক ও পারিবারিক প্রতিষ্ঠান তৌফিকা ইঞ্জিনিয়ারিং লিমিটেডের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

এ ছাড়া চীনা উদ্যোক্তা ঝুয়াং লিফেং ও প্যারামাউন্ট ইন্স্যুরেন্সকে সতর্ক করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে কমিশন।

বিএসইসির তদন্তে ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি থেকে ৩১ জুলাই পর্যন্ত লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার লেনদেনে সিকিউরিটিজ আইন লঙ্ঘন এবং যোগসাজশের মাধ্যমে কারসাজির প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই সময়ে কোম্পানিটির শেয়ারের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছিল।

তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ২৯ জানুয়ারি লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ারের দাম ছিল ২৯ টাকা ৮০ পয়সা। ১৫ জুলাই তা বেড়ে ১০৬ টাকা ৪০ পয়সায় ওঠে। অর্থাৎ সাড়ে পাঁচ মাসে শেয়ারটির দাম ৭৬ টাকা ৬০ পয়সা বা প্রায় ২৫৭ শতাংশ বেড়েছিল।

বিএসইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজকে ১৪ লাখ ৬৬ হাজার টাকা এবং সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্টকে ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এ ছাড়া এইচএম রুবাইয়াতকে ৬ লাখ ৮২ হাজার টাকা, শায়লা আক্তারকে ৪ লাখ ৯৪ হাজার টাকা, রাজন কুমার সাহাকে ২ লাখ টাকা, তাসলিমা কাননকে ৩৩ লাখ টাকা, মো. মাসুদ রানাকে ৩৫ লাখ ৫০ হাজার টাকা, আবু সাদাত মো. ফয়সালকে ৪৫ লাখ টাকা, আদিবা আজাদকে ১৪ লাখ ৮০ হাজার টাকা এবং মোহাম্মদ আরিফ হোসাইনকে ৫৫ লাখ ৭৫ হাজার টাকা জরিমানা করার সিদ্ধান্ত হয়েছে।

কমিশনের তদন্তে বলা হয়েছে, অভিযুক্তরা সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ অর্ডিন্যান্স, ১৯৬৯-এর ১৭(ই)(২) ও ১৭(ই)(৫) ধারা, ২০১০ সালের ১৪ জুলাইয়ের কমিশনের নোটিফিকেশন এবং সুবিধাভোগী ব্যবসা নিষিদ্ধকরণ বিধিমালা, ২০২২-এর বিধি ৫(১) লঙ্ঘন করে যোগসাজশের মাধ্যমে শেয়ার লেনদেন করেছেন।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আবুল কালাম বলেন, লাভেলো আইসক্রিমের শেয়ার কারসাজির অভিযোগে কিছু ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করা হয়েছে। তবে এখনো মামলা করা হয়নি। বিষয়টি পর্যালোচনা করে আইন বিভাগ পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।

তদন্তে ঝুয়াং লিফেংকে ঘিরে একটি সহযোগী গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতার তথ্যও পাওয়া গেছে। তাঁর দুটি প্রতিষ্ঠান—লিজ ফ্যাশন ইন্ডাস্ট্রিজ ও সিবিসি ক্যাপিটাল অ্যান্ড ইক্যুইটি ম্যানেজমেন্ট—কারসাজির ঘটনায় জড়িত বলে কমিশনের তদন্তে উঠে এসেছে।

বিএসইসি জানিয়েছে, পুঁজিবাজারে কারসাজি ও অনিয়মের বিরুদ্ধে কমিশন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। গুরুতর ঘটনায় প্রশাসনিক ব্যবস্থার পাশাপাশি প্রয়োজন হলে ফৌজদারি আইনেও ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

আরো