শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ২:৩১ অপরাহ্ণ

মাছ-মুরগির দামে স্বস্তি, ডিমের দাম ঊর্ধ্বমুখী

নিজস্ব প্রতিবেদক: রাজধানীর বাজারে এক সপ্তাহের ব্যবধানে কয়েক ধরনের মাছ ও মুরগির দাম কমেছে। সবচেয়ে বেশি কমেছে তেলাপিয়া মাছের দাম, কেজিতে ৮০ টাকা। পাঙাশের দাম কমেছে ৩০ টাকা এবং ব্রয়লার মুরগির দাম কমেছে ১৫ টাকা। এ ছাড়া মাঝারি রুই ও পাবদা মাছের দামও কমেছে। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। অন্যদিকে, ডিমের বাজারে দেখা গেছে উল্টো চিত্র। এক সপ্তাহের ব্যবধানে ব্রাউন ডিমের দাম ডজনে ৫ টাকা বেড়েছে।

শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর পূর্ব রামপুরার বউ বাজার ঘুরে এ চিত্র দেখা গেছে।

বাজার ঘুরে দেখা যায়, গত সপ্তাহে প্রতি কেজি পাঙাশ মাছ ২৩০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অর্থাৎ এক সপ্তাহের ব্যবধানে কেজিতে দাম কমেছে ৩০ টাকা। তেলাপিয়া মাছের দাম গত সপ্তাহের ২৬০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ১৮০ টাকায় নেমেছে। ফলে কেজিতে দাম কমেছে ৮০ টাকা।

মাঝারি আকারের রুই মাছও গত সপ্তাহের তুলনায় কম দামে বিক্রি হচ্ছে। গত সপ্তাহে মাঝারি রুইয়ের দাম ছিল কেজিপ্রতি ২৭০ থেকে ৩৫০ টাকা। বর্তমানে একই মাছ বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকা কেজি দরে। গত সপ্তাহের সর্বনিম্ন দামের তুলনায় কেজিতে ৩০ টাকা এবং সর্বোচ্চ দামের তুলনায় ১১০ টাকা কমেছে।

এ ছাড়া পাবদা মাছের দাম গত সপ্তাহের ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা থেকে কমে বর্তমানে ৩০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। বাজারে কই মাছ ২০০ টাকা এবং সিলভার মাছ ১৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

### কমেছে ব্রয়লার মুরগির দাম

মুরগির বাজারেও কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে। গত সপ্তাহে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা দরে বিক্রি হলেও বর্তমানে তা কমে ১৭৫ টাকায় নেমেছে। অর্থাৎ কেজিতে দাম কমেছে ১৫ টাকা।

তবে হাইব্রিড সোনালি মুরগির দাম প্রায় অপরিবর্তিত রয়েছে। গত সপ্তাহে এ মুরগি ২৯০ থেকে ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে তা ৩০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংসের দামে কোনো পরিবর্তন হয়নি। গত সপ্তাহের মতো বর্তমানে প্রতি কেজি গরুর মাংস বিক্রি হচ্ছে ৮০০ টাকায়।

### ডিমের বাজারে উল্টো চিত্র

মাছ ও মুরগির দাম কমলেও ডিমের বাজারে বেড়েছে দাম। গত সপ্তাহে প্রতি ডজন ব্রয়লার সাদা ডিম ১৪০ টাকা এবং ব্রাউন ডিম ১৪৫ থেকে ১৫০ টাকা দরে বিক্রি হয়েছিল।

বর্তমানে ব্রয়লার সাদা ডিমের দাম অপরিবর্তিত থেকে ডজনপ্রতি ১৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে ব্রাউন ডিমের দাম বেড়ে ১৫০ থেকে ১৫৫ টাকা হয়েছে। অর্থাৎ ডজনপ্রতি ব্রাউন ডিমের দাম ৫ টাকা বেড়েছে।

এ ছাড়া বাজারে প্রতি ডজন হাঁসের ডিম বিক্রি হচ্ছে ২৪০ টাকায়।

### ক্রেতা-বিক্রেতারা যা বলছেন

বাজারে মাছ কিনতে আসা ক্রেতা জাহিদ হাসান বলেন, কমবেশি মাছ প্রতি সপ্তাহেই কেনা হয়। আজ মাছের দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কম মনে হচ্ছে। তবে মাছের আকার কিছুটা ছোট। অন্যদিকে, ডিমের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে সাধারণ মানুষের জন্য কেনা কঠিন হয়ে পড়বে। ১৫০ টাকার নিচে ডিমের দাম নামছেই না।

মাছ বিক্রেতা রুবেল বলেন, মাছের দাম প্রতিদিন এক রকম থাকে না। বাজারে মাছের সরবরাহ বেশি থাকলে দাম কিছুটা কমে, আর সরবরাহ কম হলে দাম বেড়ে যায়। গত সপ্তাহের তুলনায় বর্তমানে পাঙাশ, তেলাপিয়া, রুই ও পাবদার দাম কিছুটা কমেছে। আমরা কম দামে কিনতে পারলে ক্রেতাদের কাছেও কম দামে বিক্রি করতে পারি।

মুরগি বিক্রেতা শরিফ বলেন, গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৯০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে। বর্তমানে তা ১৭৫ টাকায় বিক্রি করছেন। হাইব্রিড সোনালি মুরগির দাম আগের মতোই রয়েছে। শুক্রবারে মুরগির চাহিদা বেশি থাকে। কম দামে কেনা সম্ভব হয়েছে বলেই কম দামে বিক্রি করা যাচ্ছে।

সব মিলিয়ে রাজধানীর বাজারে মাছ ও মুরগির দামে কিছুটা স্বস্তি ফিরলেও ডিমের বাড়তি দাম ভোগাচ্ছে সাধারণ ক্রেতাদের।

আরো