রবিবার, ৪ অক্টোবর, ২০২৬, ৬:১৭ অপরাহ্ণ

আইফোন ১৮ ঘিরে অনলাইন প্রতারণার নতুন ফাঁদ, সতর্ক করল ক্যাসপারস্কি

নিজস্ব প্রতিবেদক

নতুন আইফোন ১৮ সিরিজ নিয়ে ক্রেতাদের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া ওয়েবসাইটের মাধ্যমে প্রতারণা চালাচ্ছে সাইবার অপরাধীরা। নতুন আইফোনের বিক্রি শুরুর দুই ধাপকে কেন্দ্র করে এমন বেশ কয়েকটি ভুয়া ওয়েবসাইট শনাক্ত করেছে গ্লোবাল সাইবার সিকিউরিটি প্রতিষ্ঠান ক্যাসপারস্কি। ইংরেজি, আরবি ও পর্তুগিজসহ বিভিন্ন ভাষায় তৈরি এসব সাইটের মাধ্যমে ব্যবহারকারীদের অর্থ ও ব্যক্তিগত তথ্য চুরির চেষ্টা করা হচ্ছে।

এর মধ্যে একটি ভুয়া ওয়েবসাইটে আইফোন ১৮-এর বিভিন্ন মডেল ও কারিগরি তথ্য দেখিয়ে ২৫ শতাংশ পর্যন্ত ছাড়ের অফার দেওয়া হচ্ছে। এমনকি সেখানে বিটকয়েনে মূল্য পরিশোধের সুবিধার কথাও বলা হয়েছে। ব্রাজিলের ব্যবহারকারীদের লক্ষ্য করে তৈরি আরেকটি সাইটে বিভিন্ন রঙ ও স্টোরেজ সুবিধাসহ আইফোন ১৮ প্রো বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে এমন কিছু মডেল ও কনফিগারেশনও রয়েছে, যেগুলো অ্যাপল আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করেনি। অফারগুলোকে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে সহজ কিস্তি ও অর্থ ফেরতের সুবিধার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

কেনাকাটার সময় ব্যবহারকারীদের নাম, ফোন নম্বর, ই-মেইল, শহর এবং হোয়াটসঅ্যাপ-এর তথ্য দিতে বলা হচ্ছে। এরপর চাওয়া হচ্ছে ব্যাংক কার্ডের তথ্য। এসব ব্যক্তিগত তথ্য পরে ব্যবহার করে আরও প্রতারণা চালানো হতে পারে। একই সঙ্গে ব্যাংক কার্ডের তথ্য দেওয়ার কারণে সরাসরি আর্থিক ক্ষতির আশঙ্কাও রয়েছে।

ক্যাসপারস্কির সিনিয়র ওয়েব কনটেন্ট অ্যানালিস্ট ওলগা আলতুখোভা বলেন, “বহুল আলোচিত নতুন ডিভাইস বাজারে আসার সময় ভুয়া অফার দিয়ে প্রতারণার ঘটনা নতুন নয়। নতুন পণ্য নিয়ে মানুষের আগ্রহ সাইবার অপরাধীদের বাড়তি সুবিধা দেয় এবং প্রতারণার মাধ্যমে লাভ করার সুযোগও বাড়ায়। তাই কোথা থেকে পণ্য কিনছেন, সে বিষয়ে ব্যবহারকারীদের অত্যন্ত সতর্ক থাকা উচিত। কেনাকাটার জন্য শুধু অনুমোদিত ও বিশ্বস্ত বিক্রেতার ওয়েবসাইট ব্যবহার করা নিরাপদ। অস্বাভাবিকভাবে ভালো কোনো অফার কিংবা নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের ঘোষণার সঙ্গে মিল নেই এমন পণ্যের তালিকা দেখলে সতর্ক হতে হবে। এগুলো প্রতারণার স্পষ্ট লক্ষণ হতে পারে।”

অনলাইনে নিরাপদে কেনাকাটার জন্য ব্যবহারকারীদের অনুমোদিত বিক্রেতার ওয়েবসাইট ব্যবহার এবং কেনাকাটার আগে ওয়েবসাইটের ইউআরএল ও প্রতিষ্ঠানের নাম যাচাই করার পরামর্শ দিয়েছে ক্যাসপারস্কি। পাশাপাশি নির্দিষ্ট ও নিরাপদ পেমেন্ট পদ্ধতি ব্যবহার, মাল্টি-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন (MFA) চালু রাখা, নিয়মিত ব্যাংক ও অন্যান্য আর্থিক অ্যাকাউন্টের লেনদেন পর্যবেক্ষণ করা এবং ফিশিং প্রতিরোধ সুবিধাসহ নির্ভরযোগ্য নিরাপত্তা সমাধান ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আরো