মঙ্গলবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:৩৪ অপরাহ্ণ

তারেক রহমানের ভারত সফরে প্রধান চ্যালেঞ্জ শেখ হাসিনা: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফরের পরিকল্পনার ক্ষেত্রে ‘প্রধান চ্যালেঞ্জ’ হলো ভারতে অবস্থানরত ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের কার্যক্রম।

পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেন।

ঢাকা সেন্টার ফর গভর্নেন্স স্টাডিজ (সিজিএস) বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনের ফাঁকে এই সাক্ষাৎকার দেন তিনি।

হুমায়ুন কবির বাংলাদেশের জন্য ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনের’ (strategic autonomy) গুরুত্ব তুলে ধরেন। একই সঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সদ্য নির্বাচিত সরকারের সামনে থাকা ‘চ্যালেঞ্জগুলো’ ভারতকে বুঝতে হবে।

তাঁর দাবি, আওয়ামী লীগের নির্বাসিত নেতাদের কার্যক্রম ভারতের জন্যও কোনো উপকার বয়ে আনবে না।

হুমায়ুন কবির বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর হবে দ্বিপক্ষীয় সফর। তবে কিছু চ্যালেঞ্জ রয়েছে এবং আলোচনার মাধ্যমে সেগুলো কাটিয়ে ওঠা সম্ভব। তিনি বলেন, ‘প্রধান চ্যালেঞ্জটি খুব বেশি কিছু চাওয়া নয়। শেখ হাসিনা ও তাঁর দল দিল্লিতে অবস্থান করছেন এবং তাঁরা দিল্লিতে বসে একটি দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন। এটিও ভারতের জন্য কোনো লাভের বিষয় নয়।’

এ সময় তিনি ভারতকে শেখ হাসিনা ও তাঁর দলের কর্মকাণ্ড নিয়ন্ত্রণে রাখার আহ্বান জানান। হুমায়ুন কবির শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানকালে প্রায় ২ হাজার নাগরিককে হত্যার অভিযোগ উল্লেখ করেন এবং তাঁকে ‘সন্ত্রাসী’ হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের জনগণের অতীতের সঙ্গে একটি ‘স্পষ্ট বোঝাপড়া’ প্রয়োজন, যেখানে শেখ হাসিনার ১৫ বছরেরও বেশি সময়ের শাসনের অবসান ঘটাতে গিয়ে এ দেশের মানুষ জীবন উৎসর্গ করেছে।

তিনি জানান, ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে এ বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং ঢাকা এই আলোচনাকে স্বাগত জানায়।

হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমরা কিছু ইতিবাচক লক্ষণ দেখতে পাচ্ছি। ভারত তাদের (শেখ হাসিনা ও তাঁর দলকে) নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছে। দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটাই স্বাভাবিক নিয়ম। তাঁদের নিয়ন্ত্রণে রাখা হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে কোনো সমস্যা হবে না।’ তিনি আরও বলেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঢাকার জন্য অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত বিষয়।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ভারত সফর ‘অনুকূল সময়ে’ হবে বলে আশা প্রকাশ করে হুমায়ুন কবির বলেন, ‘আমি আশাবাদী। প্রধানমন্ত্রী কখনো বলেননি যে তিনি ভারত সফর করবেন না।’

হুমায়ুন কবির বলেন, এখানে ভারতীয় হাইকমিশনার ভালো ভূমিকা রাখছেন। তিনি চেষ্টা করছেন এবং আশা করছি, দিল্লি তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেবে। তাঁরা যদি তাঁর মতামতকে গুরুত্ব দেন, তাহলে আমরা সব বিষয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত। আমরা আমাদের পরামর্শ ও আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছি।

আওয়ামী লীগের নেতৃত্বকে ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক স্বাভাবিক করার পথে ‘বাধা’ হিসেবে বর্ণনা করেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির। তিনি বলেন, বাংলাদেশ সব বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত। তবে এর বিনিময়ে ভারতের কাছ থেকেও ঢাকা ‘যথাযথ পদক্ষেপ’ বা সহযোগিতা প্রত্যাশা করে ঢাকা।

তিনি বলেন, দুটি সরকার যখন জাতীয় স্বার্থকে সামনে রেখে আলোচনায় বসে, তখন সব বিষয়ই সমাধানের জন্য আলোচনা করা যায়।’ তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ ঢাকায় বসে কাউকে ভারতের স্বার্থের বিরুদ্ধে কাজ করতে দেবে না। একইভাবে ভারতের কাছ থেকেও একই ধরনের পদক্ষেপ প্রত্যাশা করে বাংলাদেশ।

এর আগে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে বক্তব্য দেওয়ার সময় হুমায়ুন কবির বলেন, বাংলাদেশ তার পররাষ্ট্রনীতিতে ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ চায়। তবে একই সঙ্গে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ ও আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে শক্তিশালী সম্পর্ক বজায় রাখবে বাংলাদেশ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের পরিবর্তনের সঙ্গে আমাদের পররাষ্ট্রনীতিকেও সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। পারস্পরিক সম্মান, পারস্পরিক সুবিধা এবং জাতীয় স্বার্থের ভিত্তিতে আমরা সবার সঙ্গে সম্পর্ক রাখতে চাই। আমরা শক্তিশালী অংশীদারত্ব চাই, তবে একই সঙ্গে আমরা কৌশলগত স্বায়ত্তশাসনও চাই।’

তাঁর ওই বক্তব্যে তিনি ভারত বা বাংলাদেশের অন্য কোনো বৈশ্বিক অংশীদারের নাম উল্লেখ করেননি। পরে দ্য হিন্দুকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি ‘কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন’ বলতে কী বোঝাচ্ছেন, তা ব্যাখ্যা করেন।

তিনি বলেন, প্রতিটি দেশই কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। ভারতও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। বাংলাদেশও তার কৌশলগত স্বায়ত্তশাসন চায়। এই ধারণাটি মূলত আমাদের কী প্রয়োজন, সেটি নিয়ে তৈরি।

আরো