নির্ধারিত দামে নেই এলপিজি, অতিরিক্ত দামে জিম্মি ভোক্তারা
সরকার নির্ধারিত দামের তোয়াক্কা না করেই রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এলপিজি সিলিন্ডার বিক্রি হচ্ছে অতিরিক্ত দামে। ১২ কেজির একটি এলপিজি সিলিন্ডারের সরকারি মূল্য ১ হাজার ২৫৩ টাকা হলেও বাস্তবে ভোক্তাদের গুনতে হচ্ছে ১ হাজার ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। কোথাও কোথাও দাম উঠেছে আড়াই হাজার টাকায়ও।
টঙ্গীর একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত রাকিব হাসান জানান, বাসায় গ্যাস সংযোগ না থাকায় রান্নার জন্য এলপিজিই একমাত্র ভরসা। বৃহস্পতিবার (১ জানুয়ারি) সিলিন্ডার কিনতে গিয়ে তিনি দেখেন দোকানদার নির্ধারিত দামের চেয়ে ৫০০ টাকারও বেশি চাইছেন। বিকল্প না থাকায় বাড়তি দাম দিয়েই তাকে সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে।
রাকিবের প্রশ্ন, “সরকার দাম নির্ধারণ করে দিলেও যদি তা মানা না হয়, তাহলে এসব দেখার কেউ নেই কেন? সাধারণ মানুষের এই ভোগান্তির দায় কে নেবে?”
একই অভিযোগ করেন আরমান হোসেন নামের আরেক ক্রেতা। তিনি জানান, চার-পাঁচটি দোকান ঘুরেও কোথাও সরকার নির্ধারিত দামে সিলিন্ডার পাননি। সব জায়গায় প্রায় একই দাম চাওয়া হয়েছে। বাধ্য হয়ে শেষ পর্যন্ত দুই হাজার টাকায় সিলিন্ডার কিনতে হয়েছে তাকে।
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এলপিজির অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন অনেকেই। ডেমরার বাসিন্দা মাহমুদ ইয়সমিন একটি ফেসবুক গ্রুপে লিখেছেন, দেড় মাস আগে যে সিলিন্ডার তিনি ১ হাজার ৩৫০ টাকায় কিনেছিলেন, সেটির দাম এখন ২ হাজার ৫০০ টাকা বলা হচ্ছে। একই সঙ্গে তিনি জানান, অনেক দোকানে সিলিন্ডার পাওয়া যাচ্ছে না বলেও জানানো হচ্ছে।
অন্যদিকে কাজী অনিক নামে আরেকজন ফেসবুকে লিখেছেন, “নীরবে এলপিজি সিলিন্ডারের হরিলুট চলছে। ১ হাজার ৩০০ টাকার বোতল এখন ২ হাজার টাকায় বিক্রি হচ্ছে।”
এ বিষয়ে ওমেরা এলপিজির পরিচালক ড. এম তামিম বলেন, গ্যাসের দাম বাড়ার খবর পত্রিকায় দেখেছেন, তবে বিস্তারিত তার জানা নেই। তিনি ধারণা দেন, সরবরাহ ঘাটতি কিংবা চাহিদা ও সরবরাহের ভারসাম্যহীনতার কারণেই এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে হঠাৎ করে কেন সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বাজার তদারকির দুর্বলতা এবং মনিটরিং না থাকায় এলপিজি বাজারে নৈরাজ্য তৈরি হয়েছে। গ্যাস সংযোগ না থাকা লাখো পরিবার এখন এই অনিয়ন্ত্রিত বাজারের কাছে জিম্মি হয়ে পড়েছে।
ভোক্তারা দ্রুত সরকারের হস্তক্ষেপ, নিয়মিত বাজার তদারকি এবং নির্ধারিত মূল্যে এলপিজি সরবরাহ নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন