শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ৩:১৪ পূর্বাহ্ণ

বসুন্ধরায় ফ্ল্যাটে গোপন ভেজাল মদের কারখানা, আটক ৩

রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকায় একটি সাধারণ অ্যাপার্টমেন্টের ভেতর গড়ে ওঠা ভেজাল ও অবৈধ মদের কারখানার সন্ধান পেয়েছে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর (ডিএনসি)। অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ ভেজাল ও বিদেশি মদ, কেমিক্যাল এবং উৎপাদন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় সেগুনবাগিচায় ডিএনসির কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান সংস্থাটির পরিচালক (অপারেশনস) মো. বশির আহমেদ।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন—রিপন হিউবার্ট গোমেজ (৪৮), আবদুর রাজ্জাক (৪০) এবং ডেনিস ডমিনিক পিরিছ (৩৭)।
ডিএনসি জানায়, রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ভেজাল মদ সরবরাহের গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বুধবার (৭ জানুয়ারি) ভাটারা থানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা ও পাশের জোয়ার সাহারা এলাকায় ধারাবাহিক অভিযান চালানো হয়। বসুন্ধরার একটি ভাড়াকৃত ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে ভেজাল মদ তৈরির পূর্ণাঙ্গ অবকাঠামো, বোতলজাতকরণ ব্যবস্থা ও বিপুল পরিমাণ অবৈধ মদ উদ্ধার করা হয়।

অভিযানকালে দেখা যায়, ফ্ল্যাটটির একাধিক কক্ষ ভেজাল মদ প্রস্তুত, বোতলজাত ও সংরক্ষণের কাজে ব্যবহার করা হচ্ছিল। দেশি ও বিদেশি বিভিন্ন নামী ব্র্যান্ডের বোতলে ভেজাল মদ ভরে সিল লাগিয়ে বাজারজাতের প্রস্তুতি চলছিল। পাশাপাশি জোয়ার সাহারা এলাকায় মদ সংরক্ষণ ও সরবরাহসংক্রান্ত আলামতও উদ্ধার করা হয়।

ডিএনসি জানায়, অভিযানে ৭৯ বোতল বিদেশি মদ, ১৬৬ ক্যান বিয়ার এবং ভেজাল মদ তৈরির জন্য ব্যবহৃত ১৩২ লিটার বিভিন্ন কেমিক্যাল জব্দ করা হয়েছে।
যেভাবে চলত ভেজাল মদ তৈরির কাজ
প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, অভিযুক্ত চক্রটি ভারত থেকে অবৈধভাবে আনা বিদেশি মদ সংগ্রহ করে সেগুলোর ওপর তথাকথিত ‘টিউনিং’ করত। বিভিন্ন রাসায়নিক ও তরল পদার্থ মিশিয়ে মদের রং, গন্ধ ও অ্যালকোহলের মাত্রা পরিবর্তন করে সেগুলোকে দামি বিদেশি মদের মতো দেখানো হতো। পুরো প্রক্রিয়ায় কোনো স্বাস্থ্যবিধি বা নির্দিষ্ট মানদণ্ড অনুসরণ করা হয়নি।

ডিএনসি সতর্ক করে জানায়, এসব ভেজাল মদ মানবস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। তাৎক্ষণিক বিষক্রিয়া ছাড়াও লিভার ও কিডনি ক্ষতি, স্নায়বিক সমস্যা এমনকি মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

এ ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮ অনুযায়ী তিনজনকে আসামি করে দুটি পৃথক মামলা দায়ের করা হয়েছে। চক্রটির সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না এবং রাজধানীর কোথায় কোথায় এসব ভেজাল মদ সরবরাহ করা হতো—সে বিষয়ে তদন্ত চলছে।

আরো