Sunday, 12 July, 2026, 10:03 pm

নাগরিক ইশতেহার ২০২৬ জাতীয় নির্বাচন ও রাষ্ট্র রূপান্তরের গণদাবির ঘোষণা

শহিদুল ইসলাম খোকন

আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রূপান্তরের প্রত্যাশায় *নাগরিক ইশতেহার ২০২৬* শীর্ষক একটি গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক উদ্যোগের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক বিভাজনের ঊর্ধ্বে উঠে রাষ্ট্র সংস্কার, গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং জনগণের মৌলিক অধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে এই নাগরিক ইশতেহারকে দেখা হচ্ছে একটি সময়োপযোগী ও তাৎপর্যপূর্ণ দলিল হিসেবে।

রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে দেশের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা, নির্বাচন ব্যবস্থা, জবাবদিহিতা এবং নাগরিক অধিকার নিয়ে উন্মুক্ত আলোচনা ও মতামত প্রদান করা হয়। ভিন্ন মত ও ভিন্ন রাজনৈতিক অবস্থান থেকেও অংশগ্রহণকারীদের এক মঞ্চে উপস্থিতি নাগরিক ঐক্যের একটি শক্তিশালী বার্তা বহন করে।

*প্রধান অতিথি ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব*
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন *আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী,* সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য।

এছাড়া বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও মতাদর্শের প্রতিনিধিত্ব করেন—
*সাইফুল আলম খান মিলন*— সদস্য, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ, জামায়াতে ইসলামী

*ডা. তাসনিম জারা —* রাজনীতিবিদ
*ড. মনিষা চক্রবর্তী*— বাসদ
*আব্দুল্লাহ আল বাকী রতন* — সিপিবি
*মজিবুর রহমান মঞ্জু* — এবি পার্টি
*শুব্রত চৌধুরী* — গণফোরাম
বিভিন্ন রাজনৈতিক ধারার নেতৃবৃন্দের এক মঞ্চে উপস্থিতি নাগরিক ইশতেহারকে একটি *সমন্বিত, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বহুমাত্রিক রাজনৈতিক সংলাপের প্রতীক* হিসেবে তুলে ধরে।
*নাগরিক ইশতেহার উপস্থাপন ও মূল বক্তব্য*
অনুষ্ঠানের শুরুতে জাতীয় সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক সূচনা করা হয়।

এরপর নাগরিক প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ক *দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য* নাগরিক ইশতেহার ২০২৬ উপস্থাপন করেন।
*ইশতেহারে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়—*
.স্বাধীন ও নিরপেক্ষ নির্বাচন ব্যবস্থা
.শক্তিশালী ও জবাবদিহিমূলক সরকার
.আইনের শাসন ও মানবাধিকার
.প্রশাসনিক সংস্কার
.অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার ও বৈষম্য হ্রাস
.তরুণ, নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর রাজনৈতিক অংশগ্রহণ
উপস্থাপনার পর ইশতেহারের বিভিন্ন প্রস্তাবনার ওপর প্রতীকী ভোটিং আয়োজন করা হয়। উপস্থিত নাগরিকরা সরাসরি মতামত দিয়ে জানান—আগামী নির্বাচিত সরকারের কাছে তারা কী প্রত্যাশা করেন। এই ভোটিং প্রক্রিয়াকে নাগরিক মতপ্রকাশের একটি গুরুত্বপূর্ণ গণতান্ত্রিক অনুশীলন হিসেবে দেখা হয়।

*বক্তব্য ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া*

পরবর্তী পর্যায়ে আমন্ত্রিত অতিথিরা তাদের বক্তব্যে নাগরিক ইশতেহারের গুরুত্ব তুলে ধরেন। বক্তারা বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক সংকট উত্তরণে দলীয় ইশতেহারের পাশাপাশি একটি নাগরিক ইশতেহার রাষ্ট্র পরিচালনার নৈতিক দিকনির্দেশনা হিসেবে কাজ করতে পারে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে *আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী* বলেন—
*নাগরিকদের প্রত্যাশা ও দাবি উপেক্ষা করে কোনো টেকসই নির্বাচন বা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন সম্ভব নয়। এই নাগরিক ইশতেহার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল।*
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন কেবল ক্ষমতা বদলের প্রক্রিয়া নয়; বরং এটি রাষ্ট্র সংস্কারের একটি ঐতিহাসিক সুযোগ।
*দেশি-বিদেশি উপস্থিতি ও নাগরিক অংশগ্রহণ*
অনুষ্ঠানে দেশি-বিদেশি নাগরিক, গবেষক, উন্নয়নকর্মী ও গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি নাগরিক ইশতেহারকে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলেও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার ইঙ্গিত দেয়।
*নাগরিক ইশতেহার ২০২৬: গণআকাঙ্ক্ষার দলিল*
নাগরিক ইশতেহার ২০২৬ কেবল একটি ঘোষণাপত্র নয়—এটি জনগণের ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রভাবনার প্রতিফলন। রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য এটি একটি আয়না, আর রাষ্ট্রের জন্য একটি সতর্কবার্তা—গণতন্ত্র ফিরিয়ে আনতে হলে নাগরিক কণ্ঠস্বরকে আর উপেক্ষা করা যাবে না।

*সংবাদকর্মীদের পক্ষে উচ্চারিত রাষ্ট্রীয় দায়ের প্রশ্ন*
অনুষ্ঠানের এক গুরুত্বপূর্ণ পর্বে *সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে এ প্রতিবেদক রাষ্ট্রীয় দায় ও নিরাপত্তা প্রশ্নে এক শক্তিশালী বক্তব্য তুলে ধরেন*,যা পুরো মিলনায়তনে গভীর নীরবতা ও চিন্তার আবহ তৈরি করে।

*এ প্রতিবেদক বলেন আমি কথা বলতে এসেছি সংবাদকর্মীদের পক্ষে— তিনি বলেন সরকার আসে সরকার যায়, তবুও সত্যের পেছনে যারা দাঁড়িয়ে থাকেন।*
দেশের প্রতিটি সংকটকালে -নির্বাচন, আন্দোলন, দুর্যোগ কিংবা অস্থির সময়ে—
সংবাদকর্মীরাই প্রথম রাস্তায় নামেন,
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে খবর সংগ্রহ করেন,
আর অনেক সময় সেই খবর সংগ্রহ করতে গিয়েই
আমাদের সহকর্মীরা প্রাণ হারান।
কিন্তু প্রশ্ন হলো—
*এই ত্যাগের রাষ্ট্রীয় মূল্য কোথায়?*
একজন সরকারি কর্মকর্তা তাঁর চাকরি শেষে পেনশন পান,
এককালীন ভাতা পান,
রাষ্ট্র তাঁর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করে।
অথচ একজন সংবাদকর্মী সারাজীবন ঝুঁকি নিয়ে কাজ করেও
অবসর জীবনে পান—শুধু অনিশ্চয়তা।
আমরা প্রতিনিয়ত হুমকি, হামলা, মামলা এবং জীবননাশের আশঙ্কা নিয়ে কাজ করি।
আমাদের পরিবারও একই ঝুঁকির মধ্যে থাকে।
তবুও রাষ্ট্র আজ পর্যন্ত আমাদের জন্য
কোনো কার্যকর নিরাপত্তা,
কোনো পেনশন ব্যবস্থা,
বা টেকসই কল্যাণ কাঠামো গড়ে তুলতে পারেনি।
*নির্বাচনের আগে রাষ্ট্রের কাছে সরাসরি প্রশ্ন*
আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ২০২৬-কে সামনে রেখে সংবাদকর্মীদের পক্ষ থেকে সরাসরি প্রশ্ন রাখা হয়—
.আপনারা কি ক্ষমতায় গেলে সংবাদকর্মীদের রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হিসেবে স্বীকৃতি দেবেন?
.নির্বাচনী অঙ্গীকার/ইস্তেহারে কি থাকবে সাংবাদিকদের জন্য পেনশন, কল্যাণ তহবিল ও ঝুঁকি বিমার নিশ্চয়তা?
.সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে নিহত ও নির্যাতিত সাংবাদিকদের পরিবারের দায় রাষ্ট্র কি অবশেষে নেবে?
.সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কি শক্তিশালী আইন ও কার্যকর বাস্তবায়ন ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে?
*স্বাধীন সাংবাদিকতা ছাড়া গণতন্ত্র টিকে না—তাহলে কেন সাংবাদিকরাই সবচেয়ে অনিরাপদ?*
*নির্বাচনের সময় আমরা আপনাদের কণ্ঠস্বর হই—কিন্তু নির্বাচনের পর আমাদের কণ্ঠস্বর কে হবে?*
*এই প্রশ্নগুলোর উত্তর শুধু সংবাদকর্মীরা নয়— সমগ্র জাতি জানতে চায়।*
*কারণ— যেখানে সাংবাদিক নিরাপদ নয়, সেখানে গণতন্ত্রও নিরাপদ নয়।*

আরো