মানুষের হৃদয়ে এক নেত্রী, আরেকজন বিতাড়নের ইতিহাসে: আসিফ নজরুল
বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার স্মরণে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল বলেছেন, ইতিহাসে এক নেত্রীর স্থান হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর অন্যজনের অবস্থান হয়েছে বিতাড়নের অধ্যায়ে।
শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় আয়োজিত এই স্মরণসভায় তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানটি বিকেল সাড়ে পাঁচটার দিকে শেষ হয়। এতে দেশের শীর্ষস্থানীয় রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, কূটনীতিক, সাংবাদিক, শিক্ষাবিদ, গবেষক, সম্পাদক, উন্নয়নকর্মী ও ব্যবসায়ীরা অংশ নেন।
আসিফ নজরুল বলেন, জীবদ্দশায় খালেদা জিয়াকে রাজনৈতিকভাবে বন্দী করে রাখা হয়েছিল। সে সময় তাঁর পক্ষে প্রকাশ্যে কথা বলা কিংবা প্রতিবাদ জানানো ছিল অত্যন্ত কঠিন। তিনি জানান, বিভিন্ন প্রতিবাদী বিবৃতিতে স্বাক্ষরের জন্য বহু মানুষের কাছে গেলেও চারজনের বেশি কাউকে রাজি করানো সম্ভব হয়নি।
খালেদা জিয়ার বিরুদ্ধে একটি মামলার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আদালতে তাঁর বক্তব্যকে বিকৃতভাবে উপস্থাপন করা হয়েছিল। একজন আইনজ্ঞ হিসেবে তিনি এমন বিচারব্যবস্থাকে নজিরবিহীন ও ন্যক্কারজনক বলে মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসার প্রয়োজনে বিদেশে পাঠানোর বিষয়েও অনেকের সাহস ও সিদ্ধান্তহীনতা স্পষ্ট ছিল। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে মানুষ মুক্তভাবে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করতে পারছে—এটি ইতিবাচক পরিবর্তনের প্রতিফলন।
জুলাইয়ের গণ–অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে আসিফ নজরুল বলেন, এই আন্দোলনের ফলে বাংলাদেশে মানুষ এখন স্বাধীনভাবে ভালোবাসা ও ঘৃণা প্রকাশের সুযোগ পেয়েছে। এর ফলেই এক নেত্রীর অবস্থান হয়েছে মানুষের হৃদয়ে, আর অন্যজন ইতিহাসের বিতাড়িত অধ্যায়ে।
তিনি বলেন, সততা, দৃঢ়তা, আত্মত্যাগ, দেশপ্রেম ও রাজনৈতিক শালীনতার দৃষ্টান্ত হিসেবে খালেদা জিয়ার অবদান বাংলাদেশের ইতিহাসে অম্লান হয়ে থাকবে। দেশের ভবিষ্যৎ ভালো রাখতে হলে তাঁর ভূমিকার যথাযথ স্বীকৃতি ও আন্তর্জাতিক পরিসরে উপস্থাপন জরুরি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।