সহজ কিস্তির ফাঁদ? অনারের কিস্তি বিক্রিতে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগ
প্রযুক্তি ডেস্ক
সহজ কিস্তির সুবিধার আড়ালে ভয়ংকর সুদচক্র পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে চীনা স্মার্টফোন ব্র্যান্ড অনার (HONOR) বাংলাদেশ–এর বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী গ্রাহক ও ভোক্তা অধিকার সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, কিস্তিতে ফোন বিক্রির নামে অনার কার্যত গ্রাহকের কাছ থেকে প্রায় ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, যা ভোক্তা অধিকার আইন ও আর্থিক শিষ্টাচারের পরিপন্থী।
বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) রাজধানীর পুলিশ প্লাজায় অবস্থিত অনার বাংলাদেশের শোরুমে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অনার ৪০০ লাইট স্মার্টফোনটির নগদ মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩২ হাজার ৯৯৯ টাকা। তবে একই ফোন ৫০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট দিয়ে ছয় মাসের কিস্তিতে কিনতে গেলে গ্রাহককে অবশিষ্ট ১৬ হাজার ৫০০ টাকার বিপরীতে অতিরিক্ত প্রায় ৯ হাজার টাকা পরিশোধ করতে হচ্ছে। এতে ফোনটির মোট মূল্য দাঁড়াচ্ছে প্রায় ৪২ হাজার টাকা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কিস্তির অতিরিক্ত অর্থকে সুদের হিসাবে ধরলে তা বার্ষিক হিসেবে অস্বাভাবিক মাত্রায় পৌঁছে যায়, যা কোনোভাবেই ‘সহজ কিস্তি’ বা গ্রাহকবান্ধব সুবিধার মধ্যে পড়ে না। বরং এটি একটি সুপরিকল্পিত আর্থিক ফাঁদ।
শোরুমের এক বিক্রয়কর্মী জানান, সম্প্রতি বাজারে আসা এক্স ৯ডি মডেলের ক্ষেত্রে কিস্তি ব্যবস্থাপনার সফটওয়্যার এখনো পুরোপুরি চালু হয়নি। তবে ৫০ শতাংশ ডাউন পেমেন্ট প্রদান করলে আপাতত ফোন সংগ্রহ করা যাচ্ছে।
এদিকে আরও উদ্বেগজনক অভিযোগ উঠেছে কিস্তির টাকা পরিশোধে সামান্য বিলম্ব হলেই গ্রাহকের ফোন দূর থেকে লক করে দেওয়া হচ্ছে। এতে হঠাৎ করেই ফোন বন্ধ হয়ে গিয়ে বন্ধ হচ্ছে অফিসিয়াল যোগাযোগ, মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এবং জরুরি পারিবারিক যোগাযোগ। নিজের অর্থে কেনা ফোনের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ গ্রাহকের হাতে না থেকে কোম্পানির সার্ভারে থাকছে—এমন অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।
প্রযুক্তি বিশ্লেষক মিরাজুল ইসলাম বলেন, কোনো আদালতের নির্দেশ ছাড়া গ্রাহকের ব্যক্তিগত ডিভাইস দূর থেকে নিয়ন্ত্রণ বা লক করা ডিজিটাল গোপনীয়তা ও তথ্য নিরাপত্তার গুরুতর লঙ্ঘন। এটি সংবিধান ও প্রচলিত আইনের সঙ্গেও সাংঘর্ষিক।
আরও অভিযোগ রয়েছে, কিস্তি চুক্তিতে সুদের হার বা অতিরিক্ত অর্থের হিসাব স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয় না। জটিল ও অস্পষ্ট শর্তের মাধ্যমে সাধারণ গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা প্রতারণার শামিল।
বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন বলেন, কিস্তির নামে স্মার্টফোন বিক্রিতে কিছু কোম্পানি ৫০ থেকে ৫৫ শতাংশ পর্যন্ত অতিরিক্ত অর্থ আদায় করছে, যা সরাসরি গ্রাহক প্রতারণা। তিনি আরও বলেন, সরকার যখন স্মার্টফোনের দাম কমাতে শুল্ক হ্রাসের ঘোষণা দিচ্ছে, তখন এই ধরনের অতিরিক্ত আদায় ভোক্তা অধিকার আইনের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ বিষয়ে বিটিআরসি ও জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের দ্রুত হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
এ প্রসঙ্গে অনার মোবাইল বাংলাদেশের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। বক্তব্য পাওয়া গেলে তা সংবাদের সঙ্গে সংযুক্ত করা হবে।