নির্বাচনী নিরাপত্তায় মাঠে নামছে ডগ স্কোয়াড ও ড্রোন: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে সারাদেশে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। নির্বাচনী নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোট ৪২৮টি ড্রোনের পাশাপাশি ডগ স্কোয়াড ব্যবহার করবে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী।
সোমবার (১৯ জানুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আইনশৃঙ্খলা সংক্রান্ত উপদেষ্টা কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশব্যাপী দুই ধাপে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী মোতায়েন করা হবে। প্রথম ধাপে মোতায়েনকৃত বাহিনী বহাল থাকবে, আর দ্বিতীয় ধাপে ভোটকেন্দ্রভিত্তিক নিরাপত্তা জোরদার করা হবে। এই ধাপে আগামী ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত টানা সাত দিন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করবেন।
তিনি জানান, ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা, মোবাইল টহল ও স্ট্রাইকিং ফোর্স পরিচালনার সার্বিক সমন্বয় থাকবে রিটার্নিং কর্মকর্তার অধীনে। নির্বাচন অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশ, আনসার ও ভিডিপি, বিজিবি, কোস্টগার্ড এবং স্থানীয় প্রশাসনকে সহায়তা দিতে ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যরা মাঠে থাকবে।
নির্বাচনী নিরাপত্তা কার্যক্রম সমন্বয়ের জন্য পুলিশ, আনসার, সশস্ত্র বাহিনী, বিজিবি, কোস্টগার্ড ও র্যাবের সমন্বয়ে একটি আইনশৃঙ্খলা সমন্বয় সেল গঠন করা হবে। একই সঙ্গে জরুরি সেবা নম্বর ৯৯৯-এ একটি বিশেষ টিম গঠন করে এই সেলের সঙ্গে যুক্ত করা হবে, যাতে নির্বাচনসংক্রান্ত অভিযোগ ও তথ্য দ্রুত যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া যায়।
স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা আরও বলেন, নির্বাচন চলাকালে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, সন্ত্রাসী গ্রেপ্তার, গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বিশেষ অভিযান এবং বিভিন্ন স্থানে তল্লাশিচৌকি পরিচালনা করা হবে। নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার যেকোনো অপচেষ্টা কঠোরভাবে দমন করা হবে।
নির্বাচন ও গণভোট উপলক্ষে মোট ৮ লাখ ৯৭ হাজার ১১৭ জন আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে। এর মধ্যে রয়েছে—বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর এক লাখ, নৌবাহিনীর পাঁচ হাজার, বিমান বাহিনীর ৩ হাজার ৭৩০ জন, পুলিশ বাহিনীর এক লাখ ৪৯ হাজার ৪৪৩ জন, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর পাঁচ লাখ ৭৬ হাজার ৩১৪ জন, বিজিবির ৩৭ হাজার ৪৫৩ জন, কোস্টগার্ডের ৩ হাজার ৫৮৫ জন, র্যাবের ৭ হাজার ৭০০ জন এবং ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ১৩ হাজার ৩৯০ জন সদস্য।
এবারের নির্বাচনে মোট ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হবে ৪২ হাজার ৭৬১টি। এর মধ্যে অধিক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ৮ হাজার ৭৮০টি এবং গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র ১৬ হাজার ৫৪৮টি। এসব কেন্দ্রে নিরাপত্তা জোরদারে পুলিশ সদস্যরা ২৫ হাজার বডি ওয়ার্ন ক্যামেরা ব্যবহার করবেন। পাশাপাশি প্রতিটি ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি স্থাপনের প্রস্তুতিও নেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনে প্রযুক্তির ব্যবহার প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জানান, প্রথমবারের মতো ব্যাপকভাবে ড্রোন ব্যবহার করা হচ্ছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, কোস্টগার্ড, র্যাব ও আনসার বাহিনীর মোট ৪১৮টি ড্রোন সমন্বিতভাবে নজরদারিতে ব্যবহৃত হবে। এছাড়া নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিভিন্ন বাহিনীর ডগ স্কোয়াডও মাঠে থাকবে।
তিনি বলেন, এবারের নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা রাখবে ‘নির্বাচন সুরক্ষা অ্যাপ-২০২৬’। ন্যাশনাল টেলিকমিউনিকেশন মনিটরিং সেন্টার (এনটিএমসি) প্রস্তুত করা এই অ্যাপের মাধ্যমে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, রিটার্নিং কর্মকর্তা ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কেন্দ্রীয় কন্ট্রোল রুম একযোগে কাজ করবে এবং তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ গ্রহণ ও প্রতিকার নিশ্চিত করা যাবে।