শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৭:১০ পূর্বাহ্ণ

ঢাকায় শুরু ১১তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন

‌নিজস্ব প্র‌তি‌বেদক

পানি—জীবনের উৎস, সভ্যতার ভিত্তি এবং মানব টিকে থাকার অপরিহার্য উপাদান। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তন, অপরিকল্পিত নগরায়ন, দূষণ ও বৈষম্যমূলক ব্যবস্থাপনার কারণে এই জীবনদায়ী সম্পদ আজ বৈশ্বিক সংকটের মুখে। নিরাপদ পানির প্রাপ্যতা ও ন্যায্য বণ্টন এখন আর শুধু পরিবেশগত ইস্যু নয়; এটি মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নে পরিণত হয়েছে।

এই বাস্তবতায় অন্তর্ভুক্তিমূলক ও জবাবদিহিতামূলক পানি ব্যবস্থাপনার লক্ষ্যে আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে দু’দিনব্যাপী ১১তম আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলন। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সংস্থা একশনএইড বাংলাদেশ আয়োজিত এই সম্মেলন ভার্চুয়াল প্ল্যাটফর্মে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এতে বিশ্বের ২০টিরও বেশি দেশের পাঁচ শতাধিক পানি বিশেষজ্ঞ, গবেষক, নীতিনির্ধারক, নদী আন্দোলনকর্মী ও জলবায়ু অধিকার কর্মী অংশ নিচ্ছেন।

সময়োপযোগী প্রতিপাদ্য
এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য—
“ন্যায়সংগত ও টেকসই ভবিষ্যতের জন্য পানি ব্যবস্থাপনা পুনর্চিন্তা”
বর্তমান বৈশ্বিক জল ও জলবায়ু সংকটের প্রেক্ষাপটে এটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
জাতিসংঘ পানি কনভেনশন ও বাংলাদেশের ঐতিহাসিক ভূমিকা
সম্মেলনের গুরুত্ব আরও বেড়েছে, কারণ ২০২৫ সালে বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে জাতিসংঘের পানি কনভেনশনে যোগদান করেছে। সীমান্তবর্তী নদী ব্যবস্থাপনা, আন্তঃদেশীয় পানি সহযোগিতা এবং পানি ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠায় এটি একটি ঐতিহাসিক অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

সম্মেলনে পানিকে কেবল অর্থনৈতিক সম্পদ নয়, বরং মানবাধিকার ও সামাজিক ন্যায়বিচারের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে বিবেচনার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই দৃষ্টিভঙ্গি ছাড়া জলবায়ু সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য নিরাপদ পানির নিশ্চয়তা সম্ভব নয়।
তৃণমূল থেকে বৈশ্বিক পরিসরে একশনএইড
২০১৬ সাল থেকে একশনএইড বাংলাদেশ পানি অধিকার, জেন্ডার ন্যায়বিচার ও জলবায়ু সহনশীলতা নিয়ে তৃণমূল থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কাজ করে আসছে। নদীভাঙন, উপকূলীয় লবণাক্ততা এবং নগর বস্তির পানি সংকট মোকাবিলায় সংস্থাটির গবেষণা ও আন্দোলনভিত্তিক উদ্যোগ উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রেখেছে।
এই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবেই আন্তর্জাতিক পানি সম্মেলনকে শুধু আলোচনা নয়, বরং নীতিনির্ধারণে কার্যকর প্রভাব বিস্তারের প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গড়ে তোলার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
সম্মেলনের মূল লক্ষ্য
সম্মেলনের প্রধান লক্ষ্যগুলো হলো—
জবাবদিহিতামূলক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক পানি ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা জলবায়ু সহনশীল পানি ব্যবস্থাপনায় গবেষণা ও উদ্ভাবন উৎসাহিত করা পানি ন্যায়বিচার প্রসারে পানি জাদুঘর (Water Museum)-এর ভূমিকা তুলে ধরা
আন্তর্জাতিক ও আঞ্চলিক নীতিনির্ধারণে দিকনির্দেশনামূলক একটি সমন্বিত নীতিপত্র প্রণয়ন
দুই দিনের কর্মসূচি
প্রথম দিন (২১ জানুয়ারি):
উদ্বোধনী অধিবেশনে দক্ষিণ এশিয়ায় পানি ব্যবস্থাপনায় বাংলাদেশের নেতৃত্ব ও জাতিসংঘ পানি কনভেনশন বাস্তবায়নের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা হয়। পাশাপাশি অনুষ্ঠিত হয়—
জবাবদিহিতামূলক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে পানি ন্যায়বিচার
শহর ও পানির ভবিষ্যৎ
এদিন বাংলাদেশসহ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পানি জাদুঘরের ডিজিটাল প্রদর্শনী উপস্থাপন করা হয়।
দ্বিতীয় দিন (২২ জানুয়ারি):
আলোচনার বিষয়বস্তু—
পানি ও জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় উদ্ভাবন
আন্তঃসীমানা পানি ন্যায়বিচার ও আঞ্চলিক সহযোগিতা
ব্লু ইকোনমি (নীল অর্থনীতি)
সমাপনী অধিবেশনে উপস্থাপিত হবে ‘জবাবদিহিতামূলক পানি শাসন বিষয়ক ঢাকা ঘোষণা’, যা স্বচ্ছতা ও দায়বদ্ধতা নিশ্চিতকরণে একটি গুরুত্বপূর্ণ নীতিগত দলিল হিসেবে বিবেচিত হবে।
দেশি-বিদেশি বিশিষ্টজনদের অংশগ্রহণ
সম্মেলনে বক্তব্য রাখছেন একশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির, সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস-এর নির্বাহী পরিচালক ড. ইমতিয়াজ আহমেদ, জাতীয় নদী রক্ষা কমিশনের প্রতিনিধি সাকিব মাহমুদ এবং পরিবেশ ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. হাসিব মো. ইরফানুল্লাহ।
আন্তর্জাতিক পর্যায়ে অংশ নিচ্ছেন ভারতের ড. মানসী বাল ভার্গব, পাকিস্তানের ফাইয়াজ বাকির, জাতিসংঘ পানি কনভেনশন সেক্রেটারিয়েটের রেমি কিন্না, অস্ট্রেলিয়ান দূতাবাসের জল ও জলবায়ু বিশেষজ্ঞ ড. জন ডোরসহ ফিলিপাইন, ভিয়েতনাম, চীন ও অস্ট্রেলিয়ার খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা।

এছাড়া মরক্কোর প্রথম ওয়েসিস ইকোমিউজিয়াম এবং বাংলাদেশের চকরিয়া পানি জাদুঘর নিয়ে বিশেষ উপস্থাপনার মাধ্যমে পানি সংরক্ষণে সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য ও স্থানীয় জ্ঞানের গুরুত্ব তুলে ধরা হবে।

আপনি চাইলে আমি এটিকে সংক্ষিপ্ত নিউজ ভার্সন, অনলাইন পোর্টাল উপযোগী কাটডাউন, বা ফিচার স্টোরি স্টাইল-এও রূপান্তর করে দিতে পারি।

আরো