বৃহস্পতিবার, ৪ জুন, ২০২৬, ১:৫৯ পূর্বাহ্ণ

নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটিতে অভিবাসী-কেন্দ্রিক রিপোর্টিংয়ে CMS–ILO-এর গণমাধ্যম অ্যাডভোকেসি কর্মসূচি

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (ILO) ও নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সেন্টার ফর মাইগ্রেশন স্টাডিজ (CMS) যৌথভাবে ২২ জানুয়ারি ২০২৬ নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সিন্ডিকেট হলে অভিবাসী-কেন্দ্রিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন বিষয়ক একটি অ্যাডভোকেসি ও সক্ষমতা বৃদ্ধিমূলক কর্মসূচির আয়োজন করে। সকাল ১১টায় শুরু হওয়া এ কর্মসূচিতে নৈতিক ও অধিকারভিত্তিক সাংবাদিকতা চর্চা, অভিবাসী শ্রমিকদের অবদান স্বীকৃতি এবং তাদের পুনঃএকত্রীকরণ ও সুরক্ষা চাহিদার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

কর্মসূচিতে নির্বাচিত সাংবাদিক, শিক্ষক-গবেষক, অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও উন্নয়নকর্মীরা অংশগ্রহণ করেন। আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দায়িত্বশীল, তথ্যভিত্তিক ও সংবেদনশীল গণমাধ্যম প্রতিবেদন জোরদার করা—বিশেষ করে প্রত্যাবর্তী অভিবাসী শ্রমিক ও জেন্ডার-সংবেদনশীল রিপোর্টিংয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়।
কর্মসূচির সূচনা হয় CMS ও SIPG-এর পরিচালক অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম. হক এবং ILO-এর ন্যাশনাল প্রজেক্ট ম্যানেজার রাহনুমা সালাম খানের স্বাগত ও উদ্বোধনী বক্তব্যের মাধ্যমে। অধ্যাপক শেখ তৌফিক এম. হক একাডেমিয়া, গণমাধ্যম, ILO ও সরকারি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে সহযোগিতার গুরুত্ব তুলে ধরে প্রমাণভিত্তিক অভিবাসন নীতি প্রণয়ন ও দায়িত্বশীল জনসংলাপ জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন।
অন্যদিকে রাহনুমা সালাম খান বলেন, অভিবাসন, পুনঃএকত্রীকরণ ও অভিবাসী শ্রমিকদের অধিকার বিষয়ে জনসচেতনতা তৈরিতে নৈতিক সাংবাদিকতাকে কেবল সংবেদনশীলতার গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ না রেখে কাঠামোগত বাস্তবতা, নীতিগত প্রেক্ষাপট এবং অভিবাসী ও প্রত্যাবর্তী শ্রমিকদের জীবনঘনিষ্ঠ অভিজ্ঞতা যথাযথভাবে তুলে ধরতে হবে।
উদ্বোধনী বক্তব্যে নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির প্রো ভাইস-চ্যান্সেলর প্রফেসর নাসার ইউ. আহমেদ অভিবাসন শাসনব্যবস্থা বিষয়ে প্রমাণভিত্তিক সংলাপ ও গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা জোরদারে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূমিকার ওপর গুরুত্ব আরোপ করেন। তিনি বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোকে নীতিনির্ধারণ-সম্পর্কিত জ্ঞান উৎপাদন ও দায়িত্বশীল জনসংলাপের কেন্দ্র হিসেবে কাজ করতে হবে।

“একবিংশ শতাব্দীতে অভিবাসন” শীর্ষক একাডেমিক প্রতিফলন উপস্থাপন করেন নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটির সহযোগী অধ্যাপক ও CMS-এর সমন্বয়ক ড. সেলিম রেজা। তিনি শ্রম অভিবাসনকে বৈশ্বিক রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও শাসন কাঠামোর বৃহত্তর রূপান্তরের প্রেক্ষাপটে বিশ্লেষণ করে বলেন, বৈষম্য, ভূরাজনীতি ও উন্নয়ন বৈষম্য অভিবাসনের গতিপথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করছে।

পরবর্তীতে রাহনুমা সালাম খান শ্রম সংস্কার, শ্রম ইশতেহার, অভিবাসন প্রবণতা ও চালিকাশক্তি এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন প্রেক্ষাপটে অভিবাসন ও পুনঃএকত্রীকরণের গুরুত্ব নিয়ে একটি বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা দেন। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই পুনঃএকত্রীকরণ কেবল সামাজিক ইস্যু নয়, বরং এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন অগ্রাধিকার।

অধিকারভিত্তিক সাংবাদিকতা বিষয়ে বিশেষ সেশন পরিচালনা করেন অভিবাসন বিশেষজ্ঞ ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সংস্কার টাস্কফোর্সের সদস্য আসিফ মুনীর। তিনি অভিবাসী-কেন্দ্রিক সাংবাদিকতার ভালো চর্চা তুলে ধরে স্টিগমা, ভুল তথ্য ও ঘাটতি-ভিত্তিক বর্ণনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানান এবং বলেন, সাংবাদিকতাকে অভিবাসী শ্রমিকদের মানবিক মর্যাদা ও অধিকারকে কেন্দ্র করে গড়ে তুলতে হবে।

প্রশ্নোত্তর ও প্রতিফলন সেশন পরিচালনা করেন ILO-এর ন্যাশনাল প্রোগ্রাম কো-অর্ডিনেটর আব্দুল্লাহ আল মুইদ। এ সেশনে গণমাধ্যম, নীতিনির্ধারক ও উন্নয়ন সংস্থার মধ্যে ধারাবাহিক সংলাপের গুরুত্ব তুলে ধরা হয়।

আলোচনায় জাতীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণার আলোকে প্রত্যাবর্তী অভিবাসীদের বিভিন্ন চ্যালেঞ্জ—যেমন সামাজিক সুরক্ষায় সীমিত প্রবেশাধিকার, জীবিকায় পুনঃপ্রবেশের সংকট এবং মানসিক-সামাজিক সহায়তার অভাব—বিশেষ করে নারী ও শিশুদের ক্ষেত্রে, গুরুত্বের সঙ্গে উঠে আসে। অংশগ্রহণকারীরা বলেন, নৈতিক, জেন্ডার-সংবেদনশীল ও অধিকারভিত্তিক গণমাধ্যম প্রতিবেদন স্টিগমা দূর করতে এবং টেকসই পুনঃএকত্রীকরণ ও সামাজিক সংহতি গড়ে তুলতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মসূচিতে দেশের শীর্ষস্থানীয় প্রিন্ট, অনলাইন ও টেলিভিশন মিডিয়ার প্রায় ১৫ জন সাংবাদিক, CMS-এর শিক্ষক-গবেষক, ILO ও অংশীদার সংস্থার প্রতিনিধিসহ অভিবাসন খাতের পেশাজীবীরা অংশ নেন। সমাপনী পর্বে একাডেমিয়া, গণমাধ্যম ও আন্তর্জাতিক সংস্থার মধ্যে সহযোগিতা জোরদারের মাধ্যমে বাংলাদেশে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে দায়িত্বশীল ও তথ্যভিত্তিক জনসংলাপ গড়ে তোলার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করা হয়।

আরো