শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ

এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ঘুষ লেনদেনের ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ স্থানীয়দের

নেত্রকোনা সদর উপজেলায় স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) এক উপ-সহকারী প্রকৌশলীর ঘুষ গ্রহণের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। ভাইরাল হওয়া ভিডিওতে প্রকাশ্যে অর্থ লেনদেনের দৃশ্য দেখা যাওয়ায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভাইরাল হওয়া প্রায় দুই মিনিট ৪৯ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা যায়, এলজিইডি সদর উপজেলা কার্যালয়ে নিজের দাপ্তরিক টেবিলে বসে ঠিকাদারের সঙ্গে দরকষাকষি করছেন উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন। রোববার (২৫ জানুয়ারি) রাত থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে একজন ঠিকাদার ইমরান হোসেনকে ৫০০ টাকার নোটে গাঁথা ৫০ হাজার টাকার একটি বান্ডেল দিতে দেখা যায়। তবে অর্থের পরিমাণ কম বলে অসন্তোষ প্রকাশ করে তিনি বারবার সেই বান্ডেল ঠিকাদারের দিকে ছুড়ে দেন। পরে টাকার অঙ্ক বাড়ানো হলে তা গ্রহণ করে নিজের প্যান্টের বাম পকেটে রাখেন তিনি।

সরকারি দপ্তরের ভেতরে প্রকাশ্যে এমন ঘুষ লেনদেনের ঘটনায় সাধারণ মানুষ ও সচেতন মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।

এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে উপ-সহকারী প্রকৌশলী মো. ইমরান হোসেন ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন। তিনি বলেন, উত্তর বিশিউড়া এলাকার একটি সড়ক উন্নয়ন কাজের বিল সংক্রান্ত বিষয়ে ঠিকাদার টাকা দিতে এসেছিলেন। তখন কেউ ভিডিও ধারণ করছে, বিষয়টি তার নজরে আসেনি। অফিসে বসে এভাবে টাকা নেওয়াকে তিনি ভুল বলে স্বীকার করেন।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, সরকারি বিধি অনুযায়ী একই কর্মস্থলে তিন বছরের বেশি থাকার সুযোগ না থাকলেও ইমরান হোসেন দীর্ঘদিন ধরে নেত্রকোনা সদর উপজেলায় কর্মরত। এমনকি গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের এক আদেশে তাকে নেত্রকোনা জেলা পরিষদে বদলি করা হলেও অজ্ঞাত কারণে তিনি এখনও সদর উপজেলা কার্যালয়েই দায়িত্ব পালন করছেন।

সদর উপজেলা প্রকৌশলী মো. সোয়াইব ইমরান জানান, ভিডিওটির বিষয়টি তিনি অবগত হয়েছেন এবং তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মো. ওয়াহিদুজ্জামান বলেন, এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

আরো