শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৫:৩৬ অপরাহ্ণ

সিরাজগঞ্জ–৫ আসনে ভোটযুদ্ধ তুঙ্গে: মাঠ জরিপে ধানের শীষ এগিয়ে, দাঁড়ি পাল্লা চাপে

সিরাজগঞ্জ–৫ সংসদীয় আসনে নির্বাচনকে ঘিরে ভোটের মাঠে উত্তেজনা ক্রমেই বাড়ছে। বেলকুচি ও চৌহালী উপজেলা এবং এনায়েতপুর উপজেলার দুটি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৩২০ জন। আসন্ন নির্বাচনে প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়ে উঠেছে বিএনপির ধানের শীষ, জামায়াতের দাঁড়ি পাল্লা এবং ইসলামী আন্দোলনের হাতপাখা প্রতীকের মধ্যে।

এ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন দলটির কেন্দ্রীয় নেতা ও হেভিওয়েট প্রার্থী আমিরুল ইসলাম খান আলিম (ধানের শীষ)। দলীয় সূত্র ও মাঠ পর্যায়ের জরিপে দেখা যাচ্ছে, দিন দিন তার জনপ্রিয়তা ও জনসমর্থন বাড়ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তিনি বিজয়ী হলে তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হওয়ায় ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পাওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।

অন্যদিকে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী অধ্যক্ষ আলী আলম (দাঁড়ি পাল্লা) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। তবে এলাকায় তাকে নিয়ে নানা বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, তিনি নিজেকে ‘অধ্যক্ষ’ পরিচয় দিলেও তিনি কোন কলেজের অধ্যক্ষ ছিলেন—এ বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য কেউ দিতে পারছেন না।

এ বিষয়ে তামাই, চানমিঞা সুবর্ণচর ও ভাঙ্গাবাড়ী ইউনিয়নের বিএনপি নেতারা জানান, আলী আলম একটি মাদ্রাসায় স্বল্প সময় চাকরি করেছিলেন, পরে প্রতিষ্ঠানটি বন্ধ হয়ে গেলে তিনি চাকরি ছেড়ে দেন। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—নিজেকে ভুয়া পরিচয়ে উপস্থাপন করা একজন প্রার্থীর হাতে এলাকার ভবিষ্যৎ কতটা নিরাপদ?
এদিকে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ থেকে হাজী নুরুন নাবী হাতপাখা প্রতীক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। পাশাপাশি জাতীয় পার্টির লাঙল ও সিপিবির কাস্তে প্রতীকের প্রার্থীরাও মাঠে রয়েছেন। তবে বাস্তব চিত্রে মূল লড়াই সীমাবদ্ধ রয়েছে ধানের শীষ, দাঁড়ি পাল্লা ও হাতপাখার মধ্যেই।

মাঠ জরিপে দেখা গেছে, জামায়াত প্রার্থী বিভিন্ন কারণে জনসমর্থনে পিছিয়ে পড়ছেন। বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে জামায়াতের কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে ঘিরে বিতর্কিত ভিডিও ভাইরাল হওয়া, কট্টর মতাদর্শ এবং একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধবিরোধী অবস্থান নতুন প্রজন্মের ভোটারদের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। পাশাপাশি আলী আলমের পূর্বে বেলকুচি উপজেলা চেয়ারম্যান থাকাকালে দৃশ্যমান উন্নয়ন না থাকাও তার জন্য বড় দুর্বলতা হিসেবে দেখা দিচ্ছে।
প্রচারের শুরুতে জামায়াত ধর্মীয় আবেগকে সামনে রেখে কিছুটা সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করলেও সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে ভোটারদের মধ্যে সচেতনতা বাড়ছে। রাজনৈতিক সচেতন মহলের মতে, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ জামায়াত জোট থেকে বেরিয়ে স্বতন্ত্রভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় জামায়াত বড় ধরনের ভোট ক্ষতির মুখে পড়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, হাতপাখা প্রতীকের পক্ষে প্রায় ১০–১৫ হাজার ভোট রয়েছে।

৩০ জানুয়ারি চৌহালী উপজেলায় জামায়াতের একটি জনসভায় দেখা যায়, ভিন্ন আসন থেকে ভাড়া করে আনা লোকজন এবং নাবালকদের উপস্থিতি বেশি ছিল। বিপুল খিচুড়ি আয়োজন থাকলেও স্থানীয় জনগণের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো নয়।

সর্বশেষ সরেজমিন জরিপে ধানের শীষের পক্ষে জনসমর্থন উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে রয়েছে। সব মিলিয়ে সিরাজগঞ্জ–৫ আসনে মূল ভোটযুদ্ধ যে ধানের শীষ বনাম দাঁড়ি পাল্লার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে, তা এখন প্রায় নিশ্চিত। শেষ পর্যন্ত ১২ ফেব্রুয়ারি কার কপাল খুলবে, সে সিদ্ধান্ত দেবেন এ আসনের ভোটাররাই।

আরো