শনিবার, ২ মে, ২০২৬, ৪:০৫ অপরাহ্ণ

হয়রানি বন্ধ না হলে রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি : স্কপ

বি‌ডি মেইল ডেস্ক

আন্দোলনরত শ্রমিকদের বিরুদ্ধে হয়রানিমূলক পদক্ষেপ বন্ধ না হলে রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি পালনের ঘোষণা দিয়েছে চট্টগ্রাম শ্রমিক-কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সংগঠনটির এক জরুরি সভা শেষে এ সিদ্ধান্তের কথা জানান নেতারা। সভায় সভাপতিত্ব করেন স্কপ নেতা এ এম নাজিম উদ্দিন এবং সঞ্চালনা করেন ইফতেখার কামাল খান। সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী শেখ নুরুল্লাহ বাহার, যুগ্ম সমন্বয়ক এস কে খোদা তোতন, ডক শ্রমিক দলের সভাপতি মো. হারুন, সাধারণ সম্পাদক তসলিম হোসেন সেলিম ও ফজলুল কবির মিন্টু।

সভায় স্কপ নেতারা অভিযোগ করেন, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার (অব.) সাখাওয়াত হোসেনের সঙ্গে আলোচনার পর রমজান ও আসন্ন জাতীয় নির্বাচন বিবেচনায় নিয়ে শ্রমিকরা সাময়িকভাবে কর্মসূচি স্থগিত করেছিলেন। তবে সমস্যা সমাধানের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে তার বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে।

নেতাদের দাবি, আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়া ১৫ জন শ্রমিকের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপ এবং তাদের স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ তদন্তের জন্য বন্দর কর্তৃপক্ষ দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) আবেদন করেছে। স্কপের মতে, এসব পদক্ষেপ শ্রমিক আন্দোলন দমনের উদ্দেশ্যেই নেওয়া হয়েছে।

স্কপ নেতারা এসব উদ্যোগকে অনৈতিক আখ্যা দিয়ে বলেন, দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা বা সম্পদ তদন্তের হুমকিতে শ্রমিকরা ভয় পান না। বরং নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) ইজারা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত নীতিনির্ধারক ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সম্পদের হিসাব খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।

তারা আরও জানান, এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আন্দোলনরত শ্রমিকদের দমনে কোনো ধরনের হয়রানিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। বর্তমান পরিস্থিতিকে ‘আগুন নিয়ে খেলা’ বলেও মন্তব্য করেন তারা।

সভা থেকে আগামীকালের মধ্যে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে এনসিটি ইজারা প্রক্রিয়া বাতিল, শ্রমিকদের বদলি আদেশ ও সব ধরনের হয়রানি প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। অন্যথায় রোববার থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে লাগাতার কর্মবিরতি শুরু হবে বলে হুঁশিয়ারি দেন স্কপ নেতারা।

এদিকে বন্দরের চলমান আন্দোলনের ফলে আমদানি-রফতানি কার্যক্রম ব্যাহত হওয়া এবং জাতীয় অর্থনীতিতে সম্ভাব্য প্রভাবের কথা উল্লেখ করে ১৫ জন শ্রমিক নেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে চিঠি দিয়েছে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার বিষয়েও অবহিত করা হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম স্বাক্ষরিত ওই চিঠি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছে পাঠানো হয়। এর অনুলিপি নৌপরিবহন উপদেষ্টার দপ্তর, দুদক ও জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থার মহাপরিচালকের কার্যালয়েও পাঠানো হয়েছে।

চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর রক্ষা সংগ্রাম পরিষদের সমন্বয়ক মো. হুমায়ুন কবীর ও মো. ইব্রাহিম খোকনসহ মোট ১৫ জন শ্রমিক নেতার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। আন্দোলনের মধ্যে তাদের কয়েকজনকে মোংলা ও পায়রা বন্দরে বদলি করা হয় বলেও জানা গেছে।

আরো