সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ৬:১৬ পূর্বাহ্ণ

রমজানে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে টকদই: কতটা খাবেন?

রমজানে ইফতার ও সেহরিতে টকদই অনেকেরই পছন্দের খাবার। হালকা, সহজপাচ্য ও পুষ্টিকর এই খাবারটি শুধু স্বাদই বাড়ায় না, স্বাস্থ্যের জন্যও উপকারী। বিশেষ করে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে টকদই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলে বিভিন্ন গবেষণায় উঠে এসেছে।

টকদই কেন উপকারী?
টকদইয়ে রয়েছে ক্যালসিয়াম, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, প্রোটিন ও বিভিন্ন ভিটামিন। এসব উপাদান শরীরের পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সহায়তা করে। নিয়মিত ও পরিমিত টকদই খেলে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখা সহজ হতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত দই খাওয়ার অভ্যাস টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে সাহায্য করে। দীর্ঘমেয়াদি এক সমীক্ষায় দেখা যায়, যারা প্রতিদিন পরিমিত পরিমাণে টকদই খান, তাদের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি প্রায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ পর্যন্ত কম হতে পারে।

যেভাবে সুগার নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে
টকদই একটি ফার্মেন্টেড খাবার। এতে থাকা প্রোবায়োটিক অন্ত্রে উপকারী ব্যাকটেরিয়ার সংখ্যা বাড়ায়। সুস্থ অন্ত্র বিপাকক্রিয়া উন্নত করে এবং প্রদাহ কমাতে সহায়তা করে। নিয়মিত দই খেলে গ্লুকোজের মাত্রা নিয়ন্ত্রণে থাকে এবং ইনসুলিন রেজিস্ট্যান্স কমতে পারে। ফলে শরীরে ইনসুলিন কার্যকরভাবে কাজ করে এবং রক্তে শর্করা অস্বাভাবিকভাবে বাড়ার ঝুঁকি কমে।

গ্লাইসেমিক ইনডেক্স কম
টকদইয়ের গ্লাইসেমিক ইনডেক্স (জি আই) কম। কম জি আই খাবার ধীরে ধীরে রক্তে গ্লুকোজ ছাড়ে, ফলে হঠাৎ সুগার বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না। এছাড়া টকদই দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখে, অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায় এবং ওজন নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে।

দিনে কতটা খাবেন?
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রতিদিন ১০০ থেকে ২০০ গ্রাম বা প্রায় এক কাপ ঘরে পাতা টকদই খাওয়াই যথেষ্ট। তবে দই যেন অতিরিক্ত মিষ্টি বা কৃত্রিম ফ্লেভারযুক্ত না হয়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।

টকদইয়ের সঙ্গে ফল, বাদাম বা বিভিন্ন বীজ মিশিয়ে খাওয়া যেতে পারে, এতে পুষ্টিগুণ আরও বাড়ে। তবে যাদের ল্যাকটোজ অসহিষ্ণুতা বা অন্য কোনো স্বাস্থ্য সমস্যা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত জীবনযাপনের অংশ হিসেবে টকদই যুক্ত করলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমাতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। ছোট একটি স্বাস্থ্যকর অভ্যাসই হতে পারে বড় সুরক্ষার চাবিকাঠি।

আরো