শুক্রবার, ১ মে, ২০২৬, ৯:৫৭ পূর্বাহ্ণ

রেকর্ড জটিলতায় জমি বিরোধ: শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে দখল ও অতিরিক্ত বিক্রির অভিযোগ

কাজল ইব্রাহিম

জামালপুরের মোহনগঞ্জ মহাকুমার উমানাথ চক্রবর্তী কাচারির অধীন একটি জমি নিয়ে দীর্ঘদিনের জটিল বিরোধ বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন রয়েছে। সিএস রেকর্ড অনুযায়ী খতিয়ান নং ১৫০ এবং দাগ নং ৪০০সহ সংশ্লিষ্ট জমির প্রকৃত মালিক ছিলেন ঘাঠু শেখ ও হাটু শেখ গং। পরবর্তীতে এসব জমির অংশ বিক্রির মাধ্যমে মালিকানা পরিবর্তিত হয়ে মো. কান্দু শেখের কাছে যায়।

কান্দু শেখের মৃত্যুর পর তার ছেলে জালাল উদ্দিন মন্ডল ও কন্যারা জমির ওয়ারিশ হন। পরবর্তীতে জালাল উদ্দিন মন্ডল প্রায় ৬০ শতাংশ জমি দীর্ঘদিন ভোগদখল করেন এবং তার মৃত্যুর পর উত্তরাধিকারীরা সেই দখল অব্যাহত রাখেন। তবে ২০১৮ সালে খারিজ করতে গেলে ভূমি অফিস থেকে জানানো হয়, সংশ্লিষ্ট জমির আরএস ও বিএস রেকর্ডে তাদের নাম না থাকায় খারিজ সম্ভব নয়।

অনুসন্ধানে দেখা যায়, আরএস রেকর্ডে একই জমির দাগগুলো শ্যাম লাল মাল্লা ও সুরেশ চন্দ্র পালের নামে রেকর্ডভুক্ত হয়েছে, যা পূর্বের মালিকানা ধারার সঙ্গে অসামঞ্জস্যপূর্ণ। এর মধ্যে শ্যাম লাল মাল্লা তার প্রাপ্ত জমির একটি অংশ শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের কাছে বিক্রি করেন। কিন্তু পরবর্তীতে তার ছেলে ইন্দ্র লাল মাল্লা বাস্তব মালিকানার চেয়ে অনেক বেশি—প্রায় ১ একর ১.৪৬ শতাংশ জমি—একই প্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করেন, যা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে, সুরেশ চন্দ্র পালের অংশের জমি ওয়ারিশ না থাকায় খাসে পরিণত হয়ে পরে লিজ দেওয়া হয়। তবে কিছু জমির কোনো স্পষ্ট রেকর্ড পাওয়া যায়নি, যা প্রশাসনিক ত্রুটির ইঙ্গিত দেয়।

বিএস জরিপে শ্যামগঞ্জ উচ্চ বিদ্যালয়ের নামে কিছু জমি রেকর্ড হলেও অভিযোগ উঠেছে, সিএস অনুযায়ী প্রকৃত মালিকদের প্রায় ৮১ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়ের ভবন নির্মাণ করা হয়েছে, যার বৈধ দলিল নেই। এছাড়া আরও প্রায় ৬০ শতাংশ খালি জমি নিয়ে চলমান মামলার মধ্যেই স্থানীয় একটি পক্ষ বিদ্যালয়ের নাম ব্যবহার করে দখল ও প্রাচীর নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন ইদ্রিস আলী মন্ডল গং।

অভিযোগে বলা হয়, এতে বাধা দিলে সংশ্লিষ্টদের ভয়ভীতি ও প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি বর্তমানে আদালতে মামলা নং ১৬৮/২০১৮ (পরবর্তীতে ৭২৬/২০২১) হিসেবে বিচারাধীন।

বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী মালিকানার অতিরিক্ত জমি বিক্রি বা বৈধ প্রক্রিয়া ছাড়া অন্যের জমি দখল করা দণ্ডনীয় অপরাধ। এ অবস্থায় ভুক্তভোগীরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত মালিকদের অধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

সংশ্লিষ্টদের মতে, এই জটিল বিরোধ নিষ্পত্তির জন্য জরুরি ভিত্তিতে রেকর্ড যাচাই, দাগ সমন্বয় এবং আদালতের চূড়ান্ত রায়ই একমাত্র স্থায়ী সমাধান হতে পারে।

আরো