শনিবার, ৬ জুন, ২০২৬, ৯:২০ অপরাহ্ণ

লাভেলো আইসক্রিমের নিরীক্ষায় অসংগতি: প্রশ্নের মুখে দুই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান

পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত খাদ্য ও আনুষঙ্গিক খাতের কোম্পানি লাভেলো আইসক্রিমের গত পাঁচ বছরের আর্থিক প্রতিবেদনের নিরীক্ষায় অসংগতি ও গরমিলের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দেশের দুটি নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং তাদের সংশ্লিষ্ট অংশীদারদের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)। প্রতিষ্ঠান দুটির বিরুদ্ধে কী ধরনের শাস্তিমূলক বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে জানতে চেয়েছে সংস্থাটি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সম্প্রতি এ বিষয়ে ফাইন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিল (এফআরসি) এবং দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) বরাবর চিঠি পাঠিয়েছে বিএসইসি।

তথ্য অনুযায়ী, লাভেলো আইসক্রিমের ২০২০ থেকে ২০২৪ অর্থবছর পর্যন্ত আর্থিক প্রতিবেদন নিরীক্ষার দায়িত্বে ছিল ‘ইসলাম কাজী শফিক অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ এবং তাদের অংশীদার কাজী শফিকুল ইসলাম। একই সময়ে নিরীক্ষা কার্যক্রমে যুক্ত ছিল ‘কাজী জহির খান অ্যান্ড কোম্পানি চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টস’ এবং তাদের অংশীদার নুরুল হোসেন খান।

অভিযোগ রয়েছে, পাঁচ বছর ধরে পরিচালিত নিরীক্ষা কার্যক্রমে প্রতিষ্ঠান দুটি পেশাগত অসদাচরণ করেছে, গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন করেছে অথবা কোম্পানির উদ্যোক্তাদের সঙ্গে যোগসাজশে কৃত্রিম আর্থিক বিবরণী প্রস্তুতে সহযোগিতা করেছে। বিএসইসির পরিদর্শনে এসব আর্থিক প্রতিবেদনে বিভিন্ন অসংগতি ধরা পড়ে। এরপরই নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান দুটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলে কমিশন এবং বিষয়টি এফআরসি ও আইসিএবিকে অবহিত করে।

বিএসইসির নির্বাহী পরিচালক আবুল কালাম বলেন, লাভেলো আইসক্রিমের নিরীক্ষকদের বিষয়ে কী ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তা জানতে এফআরসি ও আইসিএবির কাছে তথ্য চাওয়া হয়েছে। বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিএসইসির চিঠিতে বলা হয়েছে, তালিকাভুক্ত কোম্পানি ও তাদের সংবিধিবদ্ধ নিরীক্ষকদের ওপর নিয়ন্ত্রক তদারকির অংশ হিসেবে এসব তথ্য প্রয়োজন। অভিযুক্ত নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠান ও তাদের অংশীদারদের নিরীক্ষা কার্যক্রম, পেশাগত মানদণ্ড অনুসরণ এবং আর্থিক প্রতিবেদনের নির্ভরযোগ্যতা এখন নিয়ন্ত্রক সংস্থার নজরদারির আওতায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে কোনো শাস্তিমূলক, প্রয়োগমূলক বা নিয়ন্ত্রক ব্যবস্থা নেওয়া হয়ে থাকলে তা কমিশনকে জানাতে অনুরোধ করা হয়েছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, সিকিউরিটিজ আইনের পরিপালন নিশ্চিত করা, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়, ঝুঁকি মূল্যায়ন এবং আইন প্রয়োগের স্বার্থে এসব তথ্য জরুরি।

বাজারসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, শেয়ারবাজারে বিনিয়োগকারীদের আস্থার অন্যতম ভিত্তি নিরীক্ষা প্রতিবেদন। অনেক ক্ষেত্রে কোম্পানিগুলো নিরীক্ষকদের সহযোগিতায় কৃত্রিম বা অতিরঞ্জিত মুনাফা দেখিয়ে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে। ফলে নিরীক্ষা প্রক্রিয়ায় অনিয়ম বা পেশাগত ব্যর্থতার অভিযোগ উঠলে তা বাজারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করে।

আরো