Tuesday, 21 July, 2026, 9:45 pm

বাংলাদেশের ৬২ শতাংশ রেমিট্যান্স এলো ৫ দেশ থেকে

২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসে (জুলাই-মে) দেশে এসেছে ৩ হাজার ২৭৭ কোটি মার্কিন ডলারের রেমিট্যান্স। এর মধ্যে প্রায় ৬২ শতাংশ বা ২ হাজার ২৫ কোটি ডলার এসেছে মাত্র পাঁচটি দেশ থেকে। দেশগুলো হলো-সৌদি আরব, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই), মালয়েশিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র।

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, আলোচ্য সময়ে সবচেয়ে বেশি ৫২৭ কোটি ৯৭ লাখ ডলার এসেছে সৌদি আরব থেকে, যা মোট রেমিট্যান্সের ১৬ শতাংশ। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ৪৬৮ কোটি ৫৮ লাখ ডলার এসেছে যুক্তরাজ্য থেকে। তৃতীয় অবস্থানে থাকা সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই) থেকে এসেছে ৪২৭ কোটি ৮২ লাখ ডলার। এরপর মালয়েশিয়া থেকে ৩২২ কোটি ডলার এবং যুক্তরাষ্ট্র থেকে এসেছে ২৭৮ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

এ ছাড়া ওমান, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সিঙ্গাপুর ও ইতালি থেকেও উল্লেখযোগ্য পরিমাণ রেমিট্যান্স এসেছে। এই ছয় দেশ থেকে ১১ মাসে এসেছে প্রায় ৮৮৯ কোটি ডলার, যা মোট প্রবাসী আয়ের প্রায় ২৭ শতাংশ। সব মিলিয়ে দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৯০ শতাংশই এসেছে ১১টি দেশ থেকে।

শুধু মে মাসেই দেশে এসেছে ৩৪৪ কোটি ২৫ লাখ ডলার রেমিট্যান্স। ওই মাসে সবচেয়ে বেশি ৬৫ কোটি ৯ লাখ ডলার পাঠিয়েছেন যুক্তরাজ্যপ্রবাসীরা। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা সৌদি আরব থেকে এসেছে ৫৪ কোটি ৬৫ লাখ ডলার এবং তৃতীয় অবস্থানে থাকা ইউএই থেকে এসেছে ৪৬ কোটি ৮১ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য বলছে, গত অর্থবছরের প্রথম ১১ মাসের মধ্যে ১০ মাসই প্রবাসী আয়ের শীর্ষ উৎস ছিল সৌদি আরব। তবে মে মাসে সৌদিকে ছাড়িয়ে যায় যুক্তরাজ্য। অর্থবছরের শুরুতে জুলাই মাসে যুক্তরাজ্য থেকে এসেছিল ২৮ কোটি ২৫ লাখ ডলার। ধারাবাহিকভাবে বেড়ে মে মাসে তা প্রায় ১৩০ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৫ কোটি ডলারে পৌঁছায়। জুন মাসের রেমিট্যান্সের তথ্য এখনো প্রকাশ করেনি বাংলাদেশ ব্যাংক।

সরকার ব্যাংকিং চ্যানেলে রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের উৎসাহিত করতে নগদ প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুবিধা দিয়ে আসছে। এতে হুন্ডির মতো অবৈধ মাধ্যমে অর্থ পাঠানোর প্রবণতা কমার পাশাপাশি ব্যাংকিং ব্যবস্থায় অর্থ পাঠানোও আগের তুলনায় সহজ হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ছে প্রবাসী আয় প্রবাহে।

তবে আর্থিক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মতে, দেশের মোট রেমিট্যান্সের প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ মাত্র পাঁচটি দেশের ওপর নির্ভরশীল হওয়া অর্থনৈতিক নিরাপত্তার দৃষ্টিকোণ থেকে সংবেদনশীল। মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় অদক্ষ ও আধা দক্ষ শ্রমিকের সংখ্যা বেশি হওয়ায় সেখানকার রেমিট্যান্স প্রবাহ সব সময় স্থিতিশীল থাকে না। অন্যদিকে যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশিদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান তুলনামূলক শক্ত হওয়ায় সেখান থেকে আয় বেশি স্থিতিশীলভাবে আসে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রধান এই পাঁচ দেশের অর্থনৈতিক নীতি, ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি বা শ্রমবাজারে বড় ধরনের পরিবর্তন হলে তার সরাসরি প্রভাব পড়তে পারে বাংলাদেশের রেমিট্যান্স প্রবাহ ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভে। তাই নির্দিষ্ট কয়েকটি দেশের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে ইউরোপ, পূর্ব এশিয়া ও দূরপ্রাচ্যের নতুন শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।

আরো