শুক্রবার, ৩১ জুলাই, ২০২৬, ১০:১১ অপরাহ্ণ

পর্দা নেমেছে কুবির ‘নৃবিজ্ঞান সপ্তাহ’র

কুবি প্রতিনিধি :

মানুষের সমাজ, সংস্কৃতি, ভাষা, আচরণ, পরিবেশ ও বিকাশকে জানার এক অনন্য শাস্ত্র হলো নৃবিজ্ঞান। সেই শাস্ত্রকে আরও পরিচিত করে তুলতেই কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুবি) নৃবিজ্ঞান বিভাগের ব্যতিক্রমী আয়োজন ছিলো ‘নৃবিজ্ঞান সপ্তাহ ২০২৬’।

সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজন নিউজিল্যান্ডের মাওরি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্যবাহী ‘হাকা’ নৃত্যের মাধ্যমে শুরু হয়েছিল। আর নানান রকমের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীনবরণ, প্রবীণ বিদায় ও পুরস্কার বিতরণীর মধ্য দিয়ে শেষ হয়েছে ‘নৃবিজ্ঞান সপ্তাহ ২০২৬’।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, নবীনবরণ, প্রবীণ বিদায় এবং পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানের মাধ্যমে শেষ হয় সপ্তাহব্যাপী এ আয়োজন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৯তম ও ২০তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের নবীনবরণ এবং ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থীদের প্রবীণ বিদায় শেষে সপ্তাহব্যাপী বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মাঝে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

সমাপনী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে ক্লাসিক্যাল নৃত্য, শিশু নৃত্য, সংগীত, রম্য বিতর্ক, আবৃত্তি, অভিনয়সহ শিক্ষকদের পরিবেশনায় দর্শক শ্রোতারা মুগ্ধ হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের মুক্তমঞ্চ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে নানা আয়োজনে।

নৃবিজ্ঞান বিভাগের বিভাগীয় প্রধান সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরিনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ রেজাউল করিম, প্রক্টর অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল হাকিমসহ বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

এন্থ্রোপলোজি সোসাইটির সহসভাপতি (ভিপি) তানজিনা সারোয়ার সেতু বলেন, “আজকের দিনটি আমাদের জন্য আনন্দ ও আবেগের। একদিকে নবীনদের বরণ, অন্যদিকে প্রিয় সিনিয়রদের বিদায়। নবীন শিক্ষার্থীদের বলব, পড়াশোনার পাশাপাশি সহশিক্ষা কার্যক্রমে অংশ নিয়ে নিজেদের দক্ষ করে তুলুন। আমাদের সিনিয়ররা যেভাবে নৃবিজ্ঞান বিভাগের সুনাম অক্ষুণ্য রেখেছেন, আপনারাও সেই ধারাবাহিকতা বজায় রাখবেন বলে আশা করি। বিদায়ী ভাই-বোনদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি।”

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে সহযোগী অধ্যাপক শামীমা নাসরিন বলেন, “বিদায় সবসময়ই কিছুটা কষ্টের। তবে এটি জীবনের একটি স্বাভাবিক অধ্যায়। বিদায়ী ব্যাচের সঙ্গে আমাদের শিক্ষক ও জুনিয়রদের অসংখ্য সুন্দর স্মৃতি জড়িয়ে আছে, যা সবসময় মনে থাকবে। আমি বিদায়ী শিক্ষার্থীদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ কামনা করছি। তারা যেন জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সাফল্যের স্বাক্ষর রেখে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে পারে। একই সঙ্গে আমি তাদের স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, এই বিভাগ সবসময় তাদের আপন ঠিকানা হয়ে থাকবে। যেকোনো প্রয়োজনে তারা বিভাগের সহযোগিতা পাবে।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক ড. এম. এম. শরীফুল করীম বলেন, “নৃবিজ্ঞান বিভাগে অধ্যয়নের মূল লক্ষ্য হলো সংস্কৃতির বৈচিত্র্যকে সম্মান করা, মানুষের বহুমাত্রিক পরিচয়কে স্বীকৃতি দেওয়া এবং বিভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে সমাজকে উপলব্ধি করা। বিশ্ববিদ্যালয় কেবল সিজিপিএ অর্জনের স্থান নয়; এটি জ্ঞানচর্চা, গবেষণা, নেতৃত্বগুণ ও মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের অন্যতম ক্ষেত্র।” তিনি শিক্ষার্থীদের গবেষণামুখী মনোভাব, নেতৃত্বের গুণাবলি অর্জন, সহশিক্ষা কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং পরিবেশবান্ধব মানসিকতা গড়ে তোলার আহ্বান জানান।

আরো