শনিবার, ১ আগস্ট, ২০২৬, ৩:৪৪ অপরাহ্ণ

জ্বালানি সংকটে সিএনজি ও গৃহস্থালি বিপাকে

রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় তীব্র গ্যাস সংকট অব্যাহত রয়েছে। আবাসিক গ্রাহক, সিএনজি ফিলিং স্টেশন ও শিল্পকারখানা-খাতেই গ্যাসের স্বল্পচাপে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। দিনের বেশিরভাগ সময় গ্যাসের চাপ না থাকায় বাসাবাড়িতে রান্না করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) রাজধানীর মিরপুর, মোহাম্মদপুর, শ্যামলী, রামপুরা, বাড্ডা, খিলগাঁও, যাত্রাবাড়ী, পুরান ঢাকা ও উত্তরাসহ বিভিন্ন এলাকায় আবাসিক চুলায় গ্যাসের চাপ এতটাই কম ছিল যে একটি খাবার রান্না করতেই কয়েক ঘণ্টা সময় লেগেছে। অনেক পরিবার সকালে রান্না করতে না পেরে গভীর রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে বৈদ্যুতিক হিটার, রাইস কুকার কিংবা এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করছেন। এতে একদিকে সংসারের ব্যয় বাড়ছে, অন্যদিকে বিদ্যুতের ওপরও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে।

বাড্ডার বাসিন্দা নাজু বলেন, গ্যাসের চাপ একেবারেই কম। যে পরিমাণ গ্যাস আসে, তাতে রান্না করা খুব কষ্ট হয়ে যায়।

গ্যাস সংকটের প্রভাব পড়েছে সিএনজি ফিলিং স্টেশনগুলোতেও। রাজধানীর অনেক স্টেশনে গ্যাস সরবরাহ বন্ধ বা সীমিত আকারে চলছে। যেসব স্টেশনে গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে, সেখানে ভোর থেকেই দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষা করছেন চালকরা। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও অনেকেই গ্যাস নিতে পারছেন না।

লালবাগে কথা হয় সিএনজিচালিত অটোরিকশা চালক আজিমের সঙ্গে। তিনি বলেন, পাম্পে গ্যাস পাই না। সিরিয়ালে বসে থাকতে হয় ঘণ্টার পর ঘণ্টা। গ্যাস নিতেই দিনের অধিকাংশ সময় পার হয়ে যায়। এতে আয় অনেক কমে গেছে।

শিল্পাঞ্চলগুলোতেও একই ধরনের পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। গ্যাসচাপ কম থাকায় অনেক কারখানায় বয়লার চালানো যাচ্ছে না। কোথাও উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে, আবার কোথাও সীমিত সক্ষমতায় উৎপাদন চালিয়ে নেওয়া হচ্ছে। শিল্প মালিকদের আশঙ্কা, দীর্ঘদিন এ অবস্থা চলতে থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি রপ্তানি আদেশ সময়মতো সরবরাহ করাও কঠিন হয়ে পড়বে।

তিতাস গ্যাস জানিয়েছে, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালের কারিগরি সমস্যার কারণে জাতীয় গ্রিডে গ্যাস সরবরাহ কমে গেছে। এর ফলে চলমান সংকট আরও তীব্র হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত গ্যাসের চাপ পুরোপুরি স্বাভাবিক হওয়ার সম্ভাবনা কম বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

এ অবস্থায় আবাসিক, পরিবহন ও শিল্প-তিন খাতেই ভোগান্তি আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আরো