সোমবার, ৩ আগস্ট, ২০২৬, ৬:০৪ অপরাহ্ণ

ইউনাইটেড গ্রুপের ৯৮১ কোটি টাকার দুর্নীতি ও অনিয়ম

বিডি মেইল ডেস্ক

ইউনাইটেড গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান ইউনাইটেড পাওয়ার জেনারেশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেডের বিরুদ্ধে গ্যাস বিল বাবদ প্রায় ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ টাকার অনিয়মের অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

আদালতে দাখিল করা দুদকের অনুসন্ধান অগ্রগতি প্রতিবেদনে এ তথ্য উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদক সূত্রে জানা গেছে, উপপরিচালক (বিসি অনুসন্ধান ও তদন্ত-১) মো. জাহাঙ্গীর আলম আদালতে জমা দেওয়া প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ইউনাইটেড পাওয়ার ক্যাপাসিটি রেটের পরিবর্তে বেআইনিভাবে আইপিপি (IPP) রেটের সুবিধা নিয়ে গ্যাসের বিল পরিশোধে অনিয়ম করেছে বলে প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির জানুয়ারি ২০১৮ থেকে মার্চ ২০২৫ পর্যন্ত ৪৮৬ কোটি ৪৩ লাখ ৮২ হাজার ৬১১ টাকা ৭৫ পয়সা এবং কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির অক্টোবর ২০১৮ থেকে নভেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত ৪৯৫ কোটি ২৩ লাখ ৯৭ হাজার ৪০৪ টাকা পরিশোধ করা হয়নি। ফলে দুই প্রতিষ্ঠানের কাছে মোট বকেয়া দাঁড়িয়েছে ৯৮১ কোটি ৬৭ লাখ ৮০ হাজার ১৫ টাকা ৭৫ পয়সা।

দুদকের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপের চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে চারটি অভিযোগ একত্রে অনুসন্ধান করা হচ্ছে। অভিযোগগুলো হলো—জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, বিদেশে অর্থ পাচার এবং গ্যাসের মূল্য নির্ধারণে অনিয়ম।

অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি), তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি, কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানিসহ সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন দপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় নথি ও তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এসব নথি পর্যালোচনার ভিত্তিতে অভিযোগগুলোর প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া গেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এদিকে, ইউনাইটেড গ্রুপের বিরুদ্ধে অতীতে গ্যাস বিলে অনিয়ম, সরকারি সম্পত্তি দখল, অবৈধ সম্পদ অর্জন, অর্থ পাচার এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগও বিভিন্ন সময়ে তদন্তাধীন ছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত বিচারিক নিষ্পত্তি হয়নি।

দুদকের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ইউনাইটেড গ্রুপ ও এর সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের শীর্ষ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে পরস্পর যোগসাজশে জাল দলিলের মাধ্যমে সরকারি অর্পিত সম্পত্তি দখলের অভিযোগও তদন্তাধীন রয়েছে।

এ ছাড়া গ্রুপটির প্রতিষ্ঠাতা ও পরিচালকদের বিরুদ্ধে অবৈধ উপায়ে সম্পদ অর্জন এবং হুন্ডি বা অন্যান্য অনিয়মিত উপায়ে বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগও অনুসন্ধান করা হচ্ছে। এর আগে বৈশ্বিক ‘পানামা পেপারস’-এ নাম প্রকাশের পর দুদকের পক্ষ থেকে গ্রুপটির শীর্ষ কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছিল।

তদন্তের স্বার্থে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিদেশে পালিয়ে যাওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে ঢাকার একটি আদালত ইউনাইটেড গ্রুপের বর্তমান চেয়ারম্যান ও ব্যবস্থাপনা পরিচালক মঈন উদ্দিন হাসান রশিদ, প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক চেয়ারম্যান হাসান মাহমুদ রাজা এবং নেপচুন হাউজিং লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আবুল কালাম আজাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন।

এদিকে, ইউনাইটেড গ্রুপের অভ্যন্তরীণ অংশীদারদের বিরোধ এবং বিভিন্ন আর্থিক অনিয়মের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ২০১০ থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত ১০ বছরের আর্থিক লেনদেন, কর ফাঁকি ও দুর্নীতির অভিযোগ খতিয়ে দেখতে হাইকোর্ট বিশেষ অডিটর নিয়োগের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

দুদক জানিয়েছে, অনুসন্ধান শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশসহ চূড়ান্ত প্রতিবেদন কমিশনের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে জমা দেওয়া হবে। পরবর্তী সময়ে কমিশনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী মামলা দায়েরসহ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

আরো