বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর, ২০২৬, ১০:৩৮ অপরাহ্ণ

আইপিডিসি ফাইন্যান্সের নিট মুনাফা বেড়েছে ৩৫%, আয়ের ৬২% এসেছে ঋণ কার্যক্রম থেকে

আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি ২০২৬ সালের প্রথম নয় মাসে (জানুয়ারি–সেপ্টেম্বর) কর-পরবর্তী নিট মুনাফা ঘোষণা করেছে ৩৫৪ মিলিয়ন টাকা, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৫.০% বেশি। পরিচালন আয় বৃদ্ধি এবং ব্যয় নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে এই প্রবৃদ্ধি অর্জন সম্ভব হয়েছে।

চলতি বছরের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরে শেয়ারপ্রতি আয় বা ইপিএস দাঁড়িয়েছে ০.৮২ টাকা, গত বছর ছিল ০.৬১ টাকা। মোট সুদ আয় ৫.৩% বেড়ে হয়েছে ৭,৪৯১ মিলিয়ন টাকা এবং সুদ ব্যয় ০.৩% কমে হয়েছে ৫,৬১০ মিলিয়ন টাকা। ফলে নিট সুদ আয় ২৬.৬% বেড়ে হয়েছে ১,৮৮০ মিলিয়ন টাকা। ২০২৫ সালের বড় একটা সময়জুড়ে মার্জিনের চাপ কাটিয়ে ওঠার ধারা এখানে অব্যাহত থেকেছে।
ট্রেজারি পোর্টফোলিও’র দক্ষ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে বিনিয়োগ থেকে আয় ২৪.২% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৬৩ মিলিয়ন টাকা। কমিশন ও ব্রোকারেজ আয় ১৩.৫% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২১ মিলিয়ন টাকা। সব মিলিয়ে মোট পরিচালন আয় দাঁড়িয়েছে ৩,১৯৮ মিলিয়ন টাকা, যা গত বছরের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরের তুলনায় ২৫.৯% বেশি। ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে পরিচালন আয় ২০.৭% বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১,১৩৪ মিলিয়ন টাকা। মূল ঋণ থেকে সুদ আয় ৬২% যা এবারও মোট আয়ের সবচেয়ে বড় অংশ।

পরিচালন ব্যয় ৯.৪% বেড়ে হয়েছে ১,২৯১ মিলিয়ন টাকা। ব্যয়ের তুলনায় আয় দ্রুত বৃদ্ধির ফলে প্রভিশন পূর্ব মুনাফা ৪০.২% বেড়ে হয়েছে ১,৯০৭ মিলিয়ন টাকা। তৃতীয় প্রান্তিকে এই মুনাফা ২৫.৯% বেড়ে হয়েছে ৬৮১ মিলিয়ন টাকা, যা প্রতিষ্ঠানটির পরিচালন সক্ষমতা আরও বাড়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। আর্থিক ভিত্তি মজবুত রাখতে সম্ভাব্য ঝুঁকি মোকাবিলায় আইপিডিসি যথেষ্ট প্রভিশন রেখেছে। সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের তৃতীয় প্রান্তিকে নিট মুনাফা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩১.৪% বেড়ে হয়েছে ১৪৭ মিলিয়ন টাকা। পরিকল্পিত ঋণ বিতরণ ও ব্যয় নিয়ন্ত্রণের ফলেই এই অর্জন সম্ভব হয়েছে।

৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ তারিখে ঋণ, অগ্রিম ও লিজের স্থিতি ছিল ৭৫,৭৮৬ মিলিয়ন টাকা, যা ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ১.৬% বেশি। চাহিদার স্থবিরতা কাটিয়ে ওঠার মধ্যেও সতর্কতার সাথে ঋণ দিয়েছে আইপিডিসি। আমানত ৯.১% বেড়ে হয়েছে ৬৭,৯০৯ মিলিয়ন টাকা। বিনিয়োগ পোর্টফোলিও ৪৬.১% বেড়ে হয়েছে ১৫,৫৬৪ মিলিয়ন টাকা। ২০২৫ সালের জানুয়ারি–সেপ্টেম্বরের ৬.৯৯ টাকা থেকে শেয়ারপ্রতি এনওসিএফপিএস এ বছর বেড়ে হয়েছে ১১.৩৮ টাকা। শেয়ারপ্রতি নিট সম্পদ মূল্য বা এনএভি ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ছিল ১৭.০০ টাকা, যা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরে বেড়ে হয়েছে ১৭.৩৭ টাকা।

এ প্রসঙ্গে আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি’র ব্যবস্থাপনা পরিচালক রিজওয়ান দাউদ সামস বলেন, “শীঘ্রই ৪৫তম বছরে পা রাখতে যাচ্ছে আইপিডিসি। আর এই বিশেষ মূহুর্তে এমন অর্জনে ব্যবসার গতি বৃদ্ধি, নিয়ন্ত্রিত ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং আর্থিক ভিত্তি মজবুত রাখার চেষ্টা ফুটে উঠেছে। আমরা বিশ্বাস করি, টেকসই প্রবৃদ্ধি আসে পারফর্ম্যান্স, ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক সক্ষমতার ভারসাম্য থেকে। পরিবর্তিত বাজার পরিস্থিতিতে বাবসার মুল ভিত্তি আরও মজবুত করা ও গ্রাহকের আস্থা ধরে রাখাই আমাদের অগ্রাধিকার। এই অঙ্গীকারই আমাদের প্রতিটি সিদ্ধান্ত নিতে এবং সবার জন্য দীর্ঘমেয়াদি সুফল নিশ্চিতে সাহায্য করে।”

১৯৮১ সালে যাত্রা শুরু করা আইপিডিসি ফাইন্যান্স পিএলসি বাংলাদেশের প্রথম বেসরকারি আর্থিক প্রতিষ্ঠান। ক্রেডিট রেটিং এজেন্সি অব বাংলাদেশ লিমিটেড (ক্র্যাব) প্রতিষ্ঠানটিকে এএএ রেটিং দিয়েছে। কর্পোরেট, এসএমই ও খুচরা গ্রাহকদের ঋণ ও আমানতসেবা দেওয়ার পাশাপাশি আইপিডিসি দায়িত্বশীল অর্থায়ন, আর্থিক অন্তর্ভুক্তি ও টেকসই উন্নয়নে সবসময় স্বচেষ্ট।

আরো