এসএমই উদ্যোক্তা উন্নয়নে একসাথে কাজ করবে এসএমই ফাউন্ডেশন ও বিএফটিআই
ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তা উন্নয়নে যৌথভাবে কাজ করতে সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর করেছে এসএমই ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ ফরেন ট্রেড ইনস্টিটিউট (বিএফটিআই)।
মঙ্গলবার (১৮ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে এসএমই ফাউন্ডেশনের কার্যালয়ে এ চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠিত হয়।
এসএমই ফাউন্ডেশনের পক্ষ থেকে স্বাক্ষর করেন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আনোয়ার হোসেন চৌধুরী এবং বিএফটিআই-এর পক্ষে স্বাক্ষর করেন প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ড. সাইফ উদ্দিন আহম্মদ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রতিষ্ঠান দুটির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
সমঝোতা স্মারকের আওতায় সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের বাণিজ্য সহজীকরণ, রপ্তানির নতুন পথ খোঁজা, এলডিসি উত্তরণ-উত্তর প্রস্তুতি নিয়ে গবেষণা, প্রশিক্ষণ ও দক্ষতা উন্নয়ন, নীতি সংলাপ এবং তথ্য আদান–প্রদানের বিষয়ে যৌথভাবে কাজ করা হবে।
এসএমই ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান মো. মুসফিকুর রহমান বলেন, এই চুক্তি সিএমএসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের রপ্তানি বৃদ্ধি ও সহজীকরণে বাস্তবসম্মত উদ্যোগ তৈরি করবে। তিনি জানান, সাম্প্রতিক অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী দেশে বর্তমানে ১ কোটি ১৮ লাখের বেশি সিএমএসএমই উদ্যোক্তা আছে, যাদের ৭০ শতাংশ ঢাকার বাইরের। জনবল ও অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কারণে ঢাকার বাইরে বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি সংস্থার সহযোগিতায় উদ্যোক্তা উন্নয়ন কার্যক্রম পরিচালনা করা হয়।
তিনি আরও জানান, এসএমই ফাউন্ডেশনের ক্রেডিট হোলসেলিং ও প্রণোদনা কর্মসূচির মাধ্যমে প্রায় ১১ হাজার উদ্যোক্তাকে ১ হাজার কোটি টাকার বেশি ঋণ প্রদান করা হয়েছে, যার ২৫ শতাংশ সুবিধাভোগী নারী উদ্যোক্তা।
২০২৪ সালের অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, দেশে শিল্প প্রতিষ্ঠানের ৯৯ শতাংশই কুটির, মাইক্রো, ক্ষুদ্র ও মাঝারি (সিএমএসএমই) শ্রেণির এবং শিল্পখাতে মোট কর্মসংস্থানের ৮৫ শতাংশ আসে এই খাত থেকে। এতে কর্মরত রয়েছে প্রায় ৩ কোটির বেশি মানুষ।
অর্থনৈতিক উন্নয়ন, কর্মসংস্থান বৃদ্ধি ও এসডিজি অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় এসএমই খাতকে শক্তিশালী করতে এসএমই ফাউন্ডেশন জাতীয় শিল্পনীতি ২০২২ এবং এসএমই নীতি ২০১৯ অনুযায়ী বিভিন্ন কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। প্রতিষ্ঠার পর থেকে ফাউন্ডেশনের কার্যক্রমে প্রায় ২০ লাখ উদ্যোক্তা উপকৃত হয়েছেন, যাদের মধ্যে ৬০ শতাংশ নারী।