চকলেট ভেজালে নেসলে বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তার গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি
বিডি মেইল ডেস্ক
ঢাকার নিরাপদ খাদ্য আদালতের ম্যাজিস্ট্রেট নুসরাত সাহারা বীথি নিম্নমানের কিট ক্যাট চকলেট বাজারজাতের অভিযোগে নেসলে বাংলাদেশের ব্যবস্থাপনা পরিচালক দিপাল আবে বিক্রমা এবং প্রতিষ্ঠানটির পাবলিক পলিসি ম্যানেজার রিয়াসাদ জামান–এর বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেছেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের নিরাপদ খাদ্য পরিদর্শক (স্যানিটারি ইনস্পেক্টর) মোহাঃ কামরুল হাসানের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার (২৪ নভেম্বর) এ আদেশ দেওয়া হয়। মামলার পরবর্তী শুনানির তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫ ডিসেম্বর।
এর আগে নিম্নমানের কিট ক্যাট বাজারজাতের অভিযোগে মামলা নং ২০/২০২৫–এ কিট ক্যাটের আমদানিকারক সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ–এর মালিক মো. মোজাম্মেল হোসাইনের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। নিরাপদ খাদ্য আইনের ২৬, ৩৭, ৩৯, ৪০ এবং ৫৮ ধারায় তার বিরুদ্ধে মামলা চলছে।
ল্যাব পরীক্ষায় মানহীন কিট ক্যাট
নেসলে বাংলাদেশের আমদানিকৃত কিট ক্যাটের নমুনা পরীক্ষায় দেখা যায়—
দুধের কঠিন অংশ থাকার কথা ১২–১৪% (বা তার বেশি), পাওয়া গেছে মাত্র ৯.৩১%
দুগ্ধ চর্বি থাকার কথা ২.৫–৩.৫% (বা তার বেশি), পাওয়া গেছে মাত্র ১.২৩%
বাংলাদেশ জনস্বাস্থ্য খাদ্য পরীক্ষাগার এবং বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ এই রিপোর্ট প্রদান করে।
এসব তথ্যের ভিত্তিতে স্যানিটারি ইনস্পেক্টর সম্পূরক চার্জশিট দাখিল করেন। শুনানি শেষে নেসলে বাংলাদেশের দুই কর্মকর্তা সরাসরি অভিযুক্ত হয়ে গ্রেফতারি পরোয়ানা পান।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের অভিযোগ অস্বীকার
আগের মামলার বিষয়ে নেসলে বাংলাদেশ জানিয়েছিল—
তারা সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের সঙ্গে যুক্ত নয়
বাংলাদেশে বাজারজাত হওয়া কিট ক্যাট বিদেশে তৈরি ফিনিশড পণ্য
প্রশ্নবিদ্ধ পণ্যটি নেসলে বাংলাদেশ আমদানি বা বিতরণ করেনি
কিন্তু এবার খোদ নেসলে বাংলাদেশের আমদানিকৃত চকলেটই পরীক্ষায় মানহীন প্রমাণিত হয়েছে। এ বিষয়ে প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
আমদানি নীতি লঙ্ঘন
সম্পূরক অভিযোগপত্রে বলা হয়েছে—
স্বপ্ন এসিআই লজিস্টিকস থেকে সংগ্রহ করা নমুনা পরীক্ষায়ও নিম্নমান ধরা পড়ে
নেসলে বাংলাদেশ বিএসটিআইয়ের ছাড়পত্র ছাড়া দুবাই ও ভারত থেকে কিট ক্যাট আমদানি করে বাজারজাত করেছে
আমদানি নীতি আদেশ ২০২১–২০২৪ অনুযায়ী বিএসটিআই পরীক্ষণ ও ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক
সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজ ও নেসলে উভয় প্রতিষ্ঠানই ভোক্তা প্রতারণার সঙ্গে জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়েছে
অন্যদিকে ফকিরাপুলের আমানিয়া বেকারী অ্যান্ড সুইটস থেকে সংগ্রহ করা কিট ক্যাটেও দুধের কঠিন অংশ পাওয়া গেছে মাত্র ৯.১২%, যেখানে থাকা উচিত ছিল ১২–১৪% বা তার বেশি।
আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানের বক্তব্য
সুমাইয়া এন্টারপ্রাইজের নম্বরে ফোন দিলে তুহিন নামে এক কর্মচারী বলেন—
“আমি কর্মচারী, এ বিষয়ে মন্তব্য করতে পারব না। মালিক বাইরে আছেন, তিনি এলে জানানোর চেষ্টা করব।”
ভোক্তাদের ক্ষোভ
বিশ্বব্যাপী সমাদৃত কিট ক্যাট—যার যাত্রা ১৯৩০ সাল থেকে এবং ১৯৮৮ সালে নেসলে এটি অধিগ্রহণ করে—এর এমন মানহীনতার ঘটনায় বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ভোক্তারা। তাদের অভিযোগ, নামি-দামি বহুজাতিক প্রতিষ্ঠান যদি ভোক্তাদের সঙ্গে প্রতারণা করে, তাহলে আস্থার জায়গা কোথায়? নেসলের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি তুলেছেন তারা।