বাংলাদেশে অপটোমেট্রি পেশায় ভুয়া পরিচয়ধারীদের উত্থান: পেশার জন্য নতুন হুমকি
বাংলাদেশে দ্রুত বিস্তৃত চোখের যত্নসেবার সাথে সাথে অপটোমেট্রি পেশার গুরুত্ব বাড়ছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ভুয়া বা অযাচাইকৃত পরিচয়ে নিজেদের অপটোমেট্রিস্ট দাবি করার প্রবণতা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। পেশাজীবীদের অভিযোগ—এই ধরনের কর্মকাণ্ড যেমন রোগীর জন্য ঝুঁকিপূর্ণ, তেমনি প্রকৃত ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞদের মর্যাদা ও পেশার বিশ্বাসযোগ্যতাও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।
সোশ্যাল মিডিয়া, অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন প্ল্যাটফর্ম এবং ব্যক্তিগত পেজ ব্যবহার করে কিছু ব্যক্তি নিজেদের “অপটোমেট্রিস্ট” বা “চক্ষু বিশেষজ্ঞ” হিসেবে প্রচার করছেন। অভিযোগ রয়েছে, এদের অনেকেরই কোনো স্বীকৃত প্রতিষ্ঠান থেকে ডিগ্রি বা পেশাগত রেজিস্ট্রেশন নেই।
অপটোমেট্রি পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা জানান, কিছু ব্যক্তি ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয় থেকে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনের দাবি করলেও যাচাই–বাছাইয়ে এসব তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায় না।
এ ধরনের ঘটনা জনসাধারণকে বিভ্রান্ত করছে এবং পেশার মানহানি ঘটাচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় থাকা এক ব্যক্তিকে ঘিরেও এমন অভিযোগ ওঠে যে তিনি বিদেশি প্রতিষ্ঠানের ডিগ্রি ও সনদের দাবি করেছেন। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে যোগাযোগের পর যথাযথ রেকর্ড পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন কিছু পেশাজীবী।
তবে বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর আনুষ্ঠানিক তদন্ত বা সরকারি বিবৃতি এখনো পাওয়া যায়নি।
প্রকৃত অপটোমেট্রিস্টরা জানান, চার বছর মেয়াদি স্নাতক শিক্ষা, ইন্টার্নশিপ, উচ্চতর প্রশিক্ষণ ও নৈতিকতা মেনে কাজ করেও তাদের পেশার মর্যাদা প্রশ্নের মুখে পড়ছে ভুয়া পরিচয়ধারীদের কারণে।
এছাড়া ভুল পরামর্শ বা ভুল চিকিৎসা রোগীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়াতে পারে।
পেশাজীবীদের অভিযোগ, ভুয়া পরিচয়ধারীরা কখনও কখনও অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা যাচাইকৃত নয় এমন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রকাশ করে। এতে সাধারণ মানুষ সত্য–মিথ্যা পৃথক করতে না পেরে ভুল সিদ্ধান্ত নিতে পারে।
বাংলাদেশে বৈধ সনদ ছাড়া স্বাস্থ্যসেবা প্রদান দণ্ডনীয় অপরাধ। ভুয়া পরিচয় ব্যবহার, সনদ জালিয়াতি, প্রতিষ্ঠানিক নাম ও লোগো ব্যবহারের অপব্যবহার—সবই আইনগত অপরাধের আওতায় পড়তে পারে।
পেশাজীবীদের মতে, বাংলাদেশ অপটোমেট্রি সোসাইটি (BOS), এশিয়া প্যাসিফিক কাউন্সিল অফ অপটোমেট্রি (APCO) ও ওয়ার্ল্ড কাউন্সিল অফ অপটোমেট্রি (WCO)-র আরও সক্রিয় ভূমিকা জরুরি।
তারা নিম্নোক্ত উদ্যোগের দাবি জানিয়েছেন—
বৈধ ডিগ্রিধারী অপটোমেট্রিস্টদের যাচাইকৃত তালিকা প্রকাশ
সাধারণ মানুষকে শিক্ষিত করা—কীভাবে ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করবেন
ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা
সাইবারক্রাইম ইউনিটের সঙ্গে সমন্বয়
জনসচেতনতা জরুরি
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, রোগীদের উচিত—
চিকিৎসা গ্রহণের আগে পেশাজীবীর ডিগ্রি ও রেজিস্ট্রেশন যাচাই করা,
অযাচাইকৃত বা ফেক অনলাইন নিউজ পোর্টালের তথ্য বিশ্বাস না করা,
এবং সন্দেহজনক কর্মকাণ্ড সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো।
বাংলাদেশে অপটোমেট্রি পেশার মান বজায় রাখতে ভুয়া পরিচয়ধারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জোরালো হচ্ছে। পেশাজীবী, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সমন্বিত পদক্ষেপে এই পেশার স্বচ্ছতা ও জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা সম্ভব বলে বিশেষজ্ঞরা মনে করেন।