Wednesday, 15 July, 2026, 9:25 pm

বিএসইসির ‘ইকুইটি সিকিউরিটিজের গণপ্রস্তাব বিধিমালা, ২০২৫’ নিয়ে প্রেস ব্রিফিং

বাংলাদেশের পুঁজিবাজারকে আরও স্বচ্ছ, আধুনিক ও বিনিয়োগবান্ধব করে তুলতে প্রণীত ‘বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (ইকুইটি সিকিউরিটিজের গণপ্রস্তাব) বিধিমালা, ২০২৫’ বিষয়ে বিস্তারিত অবহিত করতে এক প্রেস ব্রিফিং আয়োজন করেছে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি)।

বুধবার (১৪ জানুয়ারি) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে বিএসইসির মাল্টিপারপাস হল (লেভেল–২)-এ অনুষ্ঠিত এই প্রেস ব্রিফিংয়ে দেশের জাতীয় দৈনিক, টেলিভিশন, অনলাইন ও বার্তা সংস্থার সাংবাদিকরা অংশ নেন।

প্রেস ব্রিফিংয়ে বিএসইসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা নতুন বিধিমালার বিভিন্ন ধারা, উদ্দেশ্য ও বাস্তবায়ন কাঠামো তুলে ধরেন। তারা জানান, এই বিধিমালার প্রধান লক্ষ্য হলো প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) প্রক্রিয়ায় শৃঙ্খলা ও স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, বিনিয়োগকারীদের স্বার্থ সুরক্ষা জোরদার করা এবং পুঁজিবাজারে দীর্ঘমেয়াদি আস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা।

বিএসইসি সূত্রে জানানো হয়, নতুন বিধিমালায় আইপিও অনুমোদন প্রক্রিয়াকে আরও কঠোর ও জবাবদিহিমূলক করা হয়েছে। বিশেষ করে কোম্পানির আর্থিক তথ্য প্রকাশে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কঠিন শর্ত আরোপ করা হয়েছে। অতীতে আইপিওতে অনিয়ম, অতিমূল্যায়ন ও তথ্য গোপনের অভিযোগ প্রতিরোধে একাধিক সুরক্ষা ব্যবস্থা যুক্ত করা হয়েছে।

এ ছাড়া প্রাতিষ্ঠানিক ও সাধারণ বিনিয়োগকারীদের জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করা, বুক বিল্ডিং পদ্ধতির সংস্কার, ইস্যু ব্যবস্থাপক ও নিরীক্ষা প্রতিষ্ঠানের দায়বদ্ধতা বৃদ্ধি এবং বাজারে কারসাজি রোধ—এসব বিষয় নতুন বিধিমালার উল্লেখযোগ্য দিক হিসেবে তুলে ধরা হয়।

বক্তারা বলেন, ‘ইকুইটি সিকিউরিটিজের গণপ্রস্তাব বিধিমালা, ২০২৫’ কার্যকর হলে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত হতে আগ্রহী প্রকৃত ও সক্ষম কোম্পানিগুলো উৎসাহিত হবে। একই সঙ্গে দুর্বল ও অস্বচ্ছ প্রতিষ্ঠানগুলো বাজারে প্রবেশে নিরুৎসাহিত হবে, যা সামগ্রিকভাবে বাজারের গুণগত মান ও স্থিতিশীলতা বাড়াবে।

প্রেস ব্রিফিং শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বিএসইসি কর্মকর্তারা জানান, বিনিয়োগকারীদের আস্থা পুনরুদ্ধার কমিশনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার। নতুন বিধিমালার কার্যকর বাস্তবায়নের মাধ্যমে দেশের পুঁজিবাজারকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করতে সরকার ও বিএসইসি সম্মিলিতভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

বিশ্লেষকদের মতে, বিধিমালাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে পুঁজিবাজারে সুশাসন প্রতিষ্ঠা, বিনিয়োগ পরিবেশের উন্নয়ন এবং দীর্ঘমেয়াদে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

আরো