শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ৯:৩৫ পূর্বাহ্ণ

প্রতীক হাতে প্রার্থীরা মাঠে, নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সতর্ক আইনশৃঙ্খলা বাহিনী

বিভিন্ন অভিযোগ ও উদ্বেগের মধ্য দিয়েই শুরু হয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আনুষ্ঠানিক প্রচারণা। প্রায় দুই হাজার প্রার্থীর মধ্যে প্রতীক বরাদ্দ শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) থেকে শুরু হয়েছে ভোটের মাঠের মূল প্রতিযোগিতা।

প্রচার শুরুর সঙ্গে সঙ্গে আজ থেকেই প্রার্থীরা ভোটারদের কাছে যেতে শুরু করেছেন। ফলে রাজনৈতিক তৎপরতার পাশাপাশি বেড়েছে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখার চ্যালেঞ্জ। তবে পুলিশ, র‍্যাব ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর শীর্ষ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় তারা প্রস্তুত।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও সন্ত্রাস দমনে অভিযান জোরদার করা হয়েছে। পাশাপাশি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া অপরাধীদের ওপরও নজরদারি চলছে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হচ্ছে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর বিষয়ে সতর্ক থাকতে জেলা পর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে প্রায় ৯ লাখ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবেন বলে জানা গেছে। এর মধ্যে পুলিশের প্রায় দেড় লাখ সদস্য, আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখের বেশি সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এছাড়া বিজিবি, সশস্ত্র বাহিনী, র‍্যাব, নৌবাহিনী, কোস্ট গার্ড ও ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরাও নির্বাচনি নিরাপত্তায় যুক্ত থাকবেন। নজরদারিতে ব্যবহার করা হচ্ছে ড্রোন প্রযুক্তি, যা ইতোমধ্যে বিভিন্ন বাহিনী কাজে লাগাচ্ছে।

নির্বাচনকেন্দ্রিক সহিংসতার বিষয়ে পুলিশ সদর দপ্তরের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, অতীত অভিজ্ঞতায় দেখা গেছে নির্বাচন ঘনিয়ে এলে সহিংসতার আশঙ্কা বাড়ে। তবে এবার যাতে কোনো ধরনের অস্থিতিশীলতা না ঘটে, সে জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

প্রচারে মানতে হবে কঠোর বিধিনিষেধ

নির্বাচনি আচরণবিধি অনুযায়ী প্রচারণায় বেশ কিছু নতুন ও কঠোর নিয়ম যুক্ত করা হয়েছে। প্রথমবারের মতো পোস্টার ব্যবহার পুরোপুরি নিষিদ্ধ করা হয়েছে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক বা পলিথিন দিয়ে ব্যানার, ফেস্টুন কিংবা লিফলেট তৈরিও করা যাবে না। প্রচারসামগ্রীতে নিজের প্রতীক ও ছবি ছাড়া অন্য কারও ছবি ব্যবহার নিষিদ্ধ।

তবে দলীয় প্রার্থী হলে নিজ দলের প্রধানের ছবি ব্যবহার করা যাবে, সেটিও নির্দিষ্ট শর্ত মেনে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের সুযোগ থাকলেও আগেভাগে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে জমা দিতে হবে। অপপ্রচারের উদ্দেশ্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে কড়াকড়ি আরোপ করা হয়েছে।

ধর্মীয় বা জাতিগত অনুভূতি ব্যবহার করে ভোট চাওয়া, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো, ব্যক্তিগত চরিত্রহনন কিংবা বিদ্বেষমূলক প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এছাড়া বিদেশে বসে প্রচারণা, অতিরিক্ত বিলবোর্ড ব্যবহার এবং প্রচারকালীন ড্রোন উড়ানোও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।

নিরাপত্তা বিষয়ে পুলিশ মহাপরিদর্শক বাহারুল আলম জানিয়েছেন, প্রচারণা বাড়ার সঙ্গে পুলিশের তৎপরতাও বাড়বে। সংঘর্ষ এড়াতে মাঠে পুলিশের উপস্থিতি আরও দৃশ্যমান করা হবে। প্রথমবারের মতো প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় দেড় লাখ পুলিশ সদস্য নির্বাচনি দায়িত্ব পালন করছেন বলেও জানান তিনি।

র‍্যাব মহাপরিচালক এ কে এম শহিদুর রহমান বলেন, র‍্যাব সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থাকবে। অপতথ্য ও গুজব ঠেকাতে সাইবার টিম সক্রিয় রয়েছে এবং নির্বাচনি দায়িত্ব পালনে র‍্যাব সদস্যদের প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে।

আরো