ভোটের ছুটিতে সরবরাহ কম, বেড়েছে মুরগি-পেঁয়াজের দাম
ঢাকায় ভোট উপলক্ষে যানবাহন চলাচলে বিধিনিষেধের প্রভাব পড়েছে নিত্যপণ্যের বাজারে। যদিও প্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহন নিষেধাজ্ঞার বাইরে ছিল, তবুও সীমিত পরিবহন চলাচলের কারণে রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে সবজি, মুরগি ও পেঁয়াজের সরবরাহ কমেছে। ফলে বেড়েছে এসব পণ্যের দাম।
শুক্রবার রাজধানীর হাজিপাড়া বউবাজার, শান্তিনগর ও সেগুনবাগিচা বাজার ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ সবজির দাম কেজিপ্রতি ১০ থেকে ২০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। বিক্রেতারা জানান, পরিবহন খরচ দেড় থেকে দ্বিগুণ হওয়ায় কাঁচাপণ্যের দামে সরাসরি প্রভাব পড়েছে।
বাজারে ক্রেতার উপস্থিতিও তুলনামূলক কম। বেশি খরচ ও অনিশ্চয়তার কারণে অনেক দোকানি ও ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতা সবজি নিয়ে আসেননি। কিছু দোকান বন্ধও দেখা গেছে।
কারওয়ান বাজারে সবজি আমদানি কম হওয়ায় শসা, মটরশুটি, ফুলকপি ও বাঁধাকপির মতো কিছু পণ্যের সরবরাহ কমে গেছে। ব্যবসায়ীরা জানান, এসব সবজি এক-দুদিনের বেশি মজুত রাখা যায় না। পরিবহন স্বাভাবিক হলে সরবরাহ পরিস্থিতিও উন্নত হবে বলে আশা করছেন তারা।
বর্তমানে বাজারে শসা প্রতি কেজি ৮০ থেকে ১০০ টাকা এবং টমেটো ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা আগের চেয়ে প্রায় ২০ টাকা বেশি। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ১৬০ থেকে ২০০ টাকায়, যা বেড়েছে প্রায় ৪০ টাকা।
এছাড়া শিম, মুলা ও পেঁপে মানভেদে ৪০ থেকে ৬০ টাকা, বেগুন ৭০ থেকে ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। হাইব্রিড করলা ও মটরশুটির দাম ১৬০ থেকে ২০০ টাকার মধ্যে উঠেছে।
পেঁয়াজের দাম কেজিপ্রতি ১০ টাকা বেড়ে এখন ৬০ টাকা। ব্রয়লার মুরগি কেজিতে ২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ২০০ থেকে ২১০ টাকায়। সোনালি মুরগির দাম কেজিতে ৩২০ থেকে ৩৪০ টাকা।
তবে তেল ও চিনির মতো মুদিপণ্যের দামে তেমন পরিবর্তন নেই। ডিমের দামও প্রতি ডজন ১১০ থেকে ১১৫ টাকার মধ্যে স্থিতিশীল রয়েছে।
ব্যবসায়ীরা বলছেন, পরিবহন ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হলে সরবরাহ বাড়বে এবং বাজারে দামও ধীরে ধীরে কমে আসবে।