বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬, ৭:২৮ অপরাহ্ণ

সোনাইমুড়ীতে দুই সদস্য হত্যার ১০ বছরেও বিচার হয়নি: মামলা প্রত্যাহারে ক্ষোভ

নোয়াখালী প্রতিনিধি:

নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীতে হিযবুত তওহীদের দুই সদস্যকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও সংগঠনটির নেতারা। একই সঙ্গে এ ঘটনায় দায়ের করা কয়েকটি মামলা রাজনৈতিক বিবেচনায় প্রত্যাহারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করে তারা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

শনিবার (১৪ মার্চ) দুপুরে সোনাইমুড়ী উপজেলার শহীদি জামে মসজিদ কমপ্লেক্সের হলরুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য দেন হিযবুত তওহীদের সর্বোচ্চ নেতা ইমাম হোসাইন মোহাম্মদ সেলিম। তিনি বলেন, ২০১৬ সালের ১৪ মার্চ উপজেলার পোরকরা গ্রামে সংগঠনের সদস্যদের বাড়িঘরে হামলা, লুটপাট ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। এ সময় সংগঠনের দুই সদস্য রুবেল ও সোলায়মান খোকনকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়।

তিনি অভিযোগ করেন, ওইদিন একটি উগ্রবাদী গোষ্ঠী মিথ্যা অপপ্রচার ও গুজব ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে উসকে দেয়। হামলাকারীরা বাড়ির আঙিনায় নির্মাণাধীন একটি মসজিদকে গির্জা বলে অপপ্রচার চালিয়ে তা ভাঙচুর করে এবং কয়েকটি বাড়িতে লুটপাট চালিয়ে অগ্নিসংযোগ করে। এ সময় মোটরসাইকেল, ধান ও গবাদিপশুসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করা হয় বলে দাবি করেন তিনি।

মোহাম্মদ সেলিম বলেন, “ঘটনার ১০ বছর পেরিয়ে গেলেও এখনো কোনো বিচার হয়নি। ঘটনার দুই বছর পর মামলা দায়ের হলেও অধিকাংশ আসামি গ্রেপ্তার হয়নি। এমনকি কাউকে রিমান্ডেও নেওয়া হয়নি। আসামিরা এখনও ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভিন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে।”

তিনি আরও দাবি করেন, সম্প্রতি রাজনৈতিক বিবেচনায় কিছু মামলা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে এ ঘটনার জিআর-৬১৭/১৬, জিআর-৮১২/১৬, জিআর-৬৮১/১৬ ও জিআর-৮৬৬/১৬ নম্বর মামলাগুলোও রয়েছে।

বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, “ঘটনাটি প্রকাশ্যে ঘটেছে। কারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত, কারা অর্থায়ন করেছে—তার প্রমাণ ছবি, ভিডিও ও অডিওসহ আদালতে জমা দেওয়া হয়েছে। প্রকৃত তদন্ত করে আসামিদের আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।”

তিনি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর জন্য ক্ষতিপূরণের দাবিও জানান।

সংবাদ সম্মেলনে নিহত রুবেল ও সোলায়মান খোকনের পরিবারের সদস্যসহ ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া জেলার বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

আরো