শুক্রবার, ১৭ এপ্রিল, ২০২৬, ১:০৯ অপরাহ্ণ

ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা বাড়বে না : বাণিজ্যমন্ত্রী

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেছেন, আগামী বাজেটে ব্যবসায়ীদের ওপর করের বোঝা বাড়ানো হবে না। তবে আগামীতে বেসরকারি খাতের সাথে নিবিড়িভাবে সরকারের কাজ করবে।

আজ সোমবার (১৩ এপ্রিল) রাজধানীর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) আয়োজিত ‘প্রাক-বাজেট আলোচনা ২০২৬-২৭ : বেসরকারি খাতের প্রত্যাশা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। সঞ্চালনায় ছিলেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।

বিগত সরকারের আমলে গৃহীত অযৌক্তিক কিছু উচ্চাভিলাসী প্রকল্পের কারণে সরকারের ওপর আর্থিক চাপ রয়েছে, যা কাটিয়ে ওঠার প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মোক্তাদির বলেন, বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম বাড়াতে বিশেষ করে ব্যবসা পরিচলনা ব্যয় হ্রাস ও সরকারি সেবাপ্রাপ্তি প্রক্রিয়া সহজীকরণের কোনো বিকল্প নেই।

জিডিপির আকার ৪৬০ বিলিয়ন ডলার হলেও দেশের ৭ কোটি মানুষ এখনও দারিদ্র সীমায় বসবাস করছে মন্তব্য করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এত বিপুল জনগোষ্ঠীর মধ্যেও করদাতার সংখ্যা তুলনামূলকভাবে অনেক কম, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।

তিনি বলেন, দেশে জ্বালানি সংরক্ষণের সক্ষমতার অভাবে সরকার স্পট মার্কেট থেকে চড়া মূল্যে বর্তমানের সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে।

ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতিধারা অব্যাহত রাখতে রাজস্ব আহরণ পদ্ধতির অটোমেশন, সহজীকরণ, করজাল সম্প্রসারণ একান্ত অপরিহার্য।

এসময় তিনি করমুক্ত আয়ের সীমা ৫ লাখ টাকা করা, সর্বোচ্চ কর হার ২৫ শতাংশ নির্ধারণ, নন-লিস্টেড কোম্পানির করহার লিস্টেড কোম্পানির মতো ২৫ শতাংশ ধার্য করাসহ অগ্রিম ভ্যাট ব্যবস্থা বিলুপ্তকরণের প্রস্তাব করেন। একইসঙ্গে টেকসই ও স্থিতিশীল আর্থিক খাতের জন্য সংশ্লিষ্ট নীতির আধুনিকায়ন, খেলাপি ঋণ হ্রাস ও বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ স্থিতিশীল করা, উৎপাদনশীল খাতে লক্ষ্যভিত্তিক পুনঃঅর্থায়ন ও স্থানীর বিনিয়োগ সম্প্রসারণে নীতি সুদহার যৌক্তিকীকরণের উপর জোরারোপ করেন।

তাসকীন আহমেদ দেশের শিল্প ও বাণিজ্যকে শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে নিরবিচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, পণ্যের বহুমুখীকরণ ও রপ্তানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ, সম্ভাবনাময় ব্যবসায়িক খাতগুলোতে আগামী বাজেটে নীতি ও আর্থিক প্রণোদনা সহায়তা প্রদানের প্রস্তাব করেন। দেশের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যে অবকাঠামো খাতে টেকসই উন্নয়নসহ বিশেষ করে পরিবহন ও লজিস্টিক নেটওয়ার্ক উন্নতকরণ, ইনফ্রাস্ট্রাকচার বন্ড প্রবর্তন এবং জ্বালানির মূল্য স্থিতিশীল রাখতে জ্বালানি রপ্তানিকারকদের সঙ্গে চুক্তির মাধ্যমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের আহ্বান জানান।

এ ছাড়া সম্প্রতি মধ্যপ্রাচ্যের সংকটের কারণে বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থাপনায় সৃষ্ট অস্থিরতার কারণে ক্ষতিগ্রস্ত স্থানীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ পুনঃগঠনের লক্ষ্যে কার্যকর নীতি সহায়তা প্রদান, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার বাড়াতে রাজস্ব কাঠমোর সংষ্কারসহ সামগ্রিকভাবে অর্থনীতির বিকাশে সরকারের নিকট হতে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন প্রত্যাশা করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি।

ইন্টারন্যাশন্যাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশের সভাপতি মাহবুবুর রহমান বলেন, বর্তমান সরকারকে বেসরকারি খাতের প্রতিবন্ধকতাগুলো বিবেচনায় নিয়ে সতর্কতার সঙ্গে আগামী বাজেট প্রণয়ন করা হবে। দীর্ঘদিন ধরে জিডিপিতে করের অবদান বাড়ানোর প্রস্তাব করা হলেও সত্যিকার অর্থে সেটি বাস্তবায়নের সরকারের তেমন কার্যকর উদ্যোগ পরিলক্ষিত হচ্ছে না। সেই সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদহার, বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবাহ হ্রাস এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সংকটের কারণে স্থাণীয় ও বৈদেশিক বিনিয়োগ নিরুৎসাহিত হচ্ছে বলে মত প্রকাশ করেন তিনি।

সংকট মোকাবেলায় জ্বালানি আমদানির ক্ষেত্রে তিনি জরুরিভাবে বিকল্প উৎস খোঁজা ও মধ্যস্থতাকারীর ওপর নির্ভরতা হ্রাসের আহ্বান জানান। একইসঙ্গে বিনিয়োগ বৃদ্ধির জন্য একটি স্থিতিশীল ও অনুমেয় নীতি পরিবেশ নিশ্চিতের উপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

পরিকল্পনা কমিশনের সদস্য ড. মনজুর হোসনে বলেন, বর্তমানের বৈশ্বিক সংকটের কারণে স্তিমিত হওয়া অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিকে সচল করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য। এ ছাড়া বিনিয়োগকে ত্বরান্বিত করতে এমএসএমই খাতকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতার মাধ্যমে এগিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি গবেষণা কার্যক্রম সম্প্রসারণের ওপর তিনি জোরারোপ করেন।

অনুষ্ঠানে আয়কর ও মূল্য সংযোজন কর (মূসব বা ভ্যাট), আর্থিক খাত, শিল্প ও বাণিজ্য এবং অবকাঠামো— এই চারটি সেশনের নির্ধারিত আলোচনায় ডিসিসিআইর সাবেক সভাপতি রিজওয়ান রাহমান ও ব্যারিস্টার সামির সাত্তার, ইনস্টিটিউট অফ কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্ট্যান্টস অফ বাংলাদেশের সভাপতি কাউসার আলম, চ্যানেল ২৪-এর নির্বাহী পরিচালক জহিরুল আলম, বাংলাদেশ প্লাস্টিক গুডস ম্যানুফেকচার্স অ্যান্ড এক্সপোটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি শামীম আহমেদ, ডিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি হোসেন খালেদ, বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ প্রফেসর ড. আকন্দ মোহাম্মদ আখতার হোসাইন, ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের চেয়ারম্যান শরীফ জহির, বাংলাদেশ স্টিল ম্যানুফেকচার্স অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাকালীন চেয়ারম্যান শেখ মাসাদুল আলম মাসুদ, বাংলাদেশ ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রসিউসারস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডেভিড হাসানাত, কনফিডেন্স গ্রুপের চেয়ারম্যান ইমরান করিম প্রমুখ অংশগ্রহণ করেন।

আরো