শনিবার, ৯ মে, ২০২৬, ৬:১৩ অপরাহ্ণ

জুলাই বিপ্লবের পরও শাসনতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম বদলায়নি: টিআইবি নির্বাহী পরিচালক

গণমাধ্যমের স্বাধীনতা কোনো বিচ্ছিন্ন বিষয় নয়, বরং এটি একটি দেশের সামগ্রিক রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সুশাসনের প্রত্যক্ষ প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান।

শনিবার জার্নালিজম কনফারেন্সের দ্বিতীয় দিনে ‘রাজনৈতিক-শাসনতান্ত্রিক ইকোসিস্টেম ও স্বাধীন গণমাধ্যম’ শীর্ষক সেশনে মূল বক্তা হিসেবে তিনি এসব কথা বলেন।

ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, গণমাধ্যমের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক জবাবদিহিতার মধ্যে গভীর দ্বিমুখী সম্পর্ক রয়েছে। গণতন্ত্রের অবস্থা ও রাজনৈতিক জবাবদিহিতার স্তরই নির্ধারণ করে দেয় গণমাধ্যম কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক সংস্কৃতিকে ‘জিরো-সাম গেম’ আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এ ব্যবস্থায় রাজনৈতিক শক্তিগুলো যেকোনো মূল্যে জয়ী হতে চায়। আর এই আধিপত্য ধরে রাখতে ভিন্নমত দমন, তথ্য প্রকাশে বাধা এবং সমালোচকদের কণ্ঠরোধের মতো কৌশল ব্যবহার করা হয়, যা সরাসরি গণমাধ্যমের ওপর চাপ সৃষ্টি করে।

জুলাই বিপ্লবের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পরও দেশের রাজনৈতিক ও শাসনতান্ত্রিক বাস্তুসংস্থান আগের মতোই রয়ে গেছে। টাকা ও পেশিশক্তির প্রভাব এখনো বিদ্যমান এবং গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানগুলো রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণের বাইরে বের হতে পারছে না। রাজনীতি এখন ব্যবসায় পরিণত হয়েছে এবং এর ফলে যে অপরাধীকরণ ঘটেছে, তা গণমাধ্যমের পেশাদারিত্ব ও নিরপেক্ষতাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সূচকের উদ্ধৃতি দিয়ে তিনি জানান, গণতন্ত্র, আইনের শাসন, সুশাসন ও প্রেস ফ্রিডম — সব ক্ষেত্রেই বাংলাদেশের অবস্থান হতাশাজনক। দক্ষিণ এশিয়ায় অনেক সূচকে কেবল আফগানিস্তানের উপরে রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের মতো নিবর্তনমূলক আইন এবং গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের সংস্কৃতি এখনো পুরোপুরি কাটিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

সেশনে আরও অংশ নেন দ্য ডনের সম্পাদক জাফর আব্বাস, ডেইলি স্টারের কনসাল্টিং এডিটর কামাল আহমেদ, বিবিসির সাবেক সাংবাদিক শাকিল আনোয়ার এবং দৈনিক সমকালের সম্পাদক শাহেদ মুহাম্মদ আলী।

আরো