সোমবার, ৮ জুন, ২০২৬, ৪:৩২ অপরাহ্ণ

বিয়েতে বাড়ছে বয়সের ব্যবধান, ২৪ শতাংশের স্বামী ১০ বছরের বড়

বিয়েতে বাড়ছে বয়সের পার্থক্য। সাম্প্রতিক এক জরিপ বলছে, শুধু বয়সে বড় হওয়াই নয় অনেক ক্ষেত্রে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে বয়সের ব্যবধান ১০ বছর বা তারও বেশি দেখা যাচ্ছে।

এ ধরনের বড় বয়সের ব্যবধান আগের তুলনায় ক্রমেই বাড়ছে।
বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) ও ইউনিসেফের বাংলাদেশ মাল্টিপল ইন্ডিকেটর ক্লাস্টার সার্ভে (মিকস) ২০২৫-এর প্রাথমিক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের প্রায় ২৪ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ১০ বছর বা তার চেয়ে বেশি বড়। ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী বিবাহিত নারীদের ক্ষেত্রেও এ হার প্রায় ২৬ শতাংশ।

মিকসের ২০১২-১৩, ২০১৯ ও ২০২৫ সালের তথ্য তুলনা করলে একটি পরিস্কার চিত্র দেখা যায়।

২০১২-১৩ সালে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে ২০ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ১০ বছর বা তার বেশি বড় ছিলেন। ২০২৫ সালে সে হার বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ২৪ শতাংশে। একইভাবে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের ক্ষেত্রে ২০১২-১৩ সালে এই হার ছিল প্রায় ২২ শতাংশ, যা ২০২৫ সালে বেড়ে প্রায় ২৬ শতাংশ হয়েছে।
২০১৯ সালের মিকস জরিপে বয়সের ব্যবধান আরও বেশি দেখা গিয়েছিল।

সে সময় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের প্রায় ৩১ শতাংশ এবং ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের প্রায় ২৮ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ১০ বছর বা তার বেশি বড় ছিলেন। ফলে ২০১৯ সালের তুলনায় সাম্প্রতিক সময়ে কিছুটা কমলেও দীর্ঘমেয়াদে বয়সের বড় ব্যবধানের প্রবণতা এখনো এক যুগ আগের তুলনায় বেশি।
বয়সের পার্থক্য নিয়ে বিস্তারিত চিত্র পাওয়া যায় ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের তথ্য থেকে। মিকস ২০২৫ অনুযায়ী, এ বয়সী বিবাহিত কিশোরীদের ৪৫ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে ৫ থেকে ৯ বছর বড়। আরও প্রায় ২৪ শতাংশের স্বামী ১০ বছর বা তার বেশি বড়।

অন্যদিকে ২০ শতাংশের স্বামী তাদের চেয়ে শূন্য থেকে ৪ বছর বড়। মাত্র ১ শতাংশ ক্ষেত্রে স্বামী স্ত্রীর চেয়ে বয়সে ছোট।
বিবিএসের স্যাম্পল ভাইটাল স্ট্যাটিসটিকস ২০২৩ প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথম বিয়ের ক্ষেত্রে পুরুষদের গড় বয়স ২৪ বছরের বেশি, আর নারীদের ১৮ বছরের বেশি। অর্থাৎ প্রথম বিয়ের সময় নারী ও পুরুষের গড় বয়সের পার্থক্য প্রায় ৬ বছর। অতিদরিদ্র পরিবারে পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২২ বছর, যেখানে নারীদের ১৭ বছর। অন্যদিকে ধনী পরিবারে পুরুষদের প্রথম বিয়ের গড় বয়স ২৭ বছর এবং নারীদের ২১ বছর। অর্থনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হলেও দুই ক্ষেত্রে বয়সের ব্যবধান প্রায় একই রকম রয়ে গেছে।

বিবিএসের উপপরিচালক (জনমিতি ও স্বাস্থ্য শাখা) মো. আলমগীর হোসেন বলেন, ‘বাংলাদেশে বিয়ের ক্ষেত্রে বয়সের পার্থক্যের পেছনে প্রধানত আর্থসামাজিক বাস্তবতা কাজ করে। অধিকাংশ পুরুষ উপার্জন শুরু করার পর বিয়ে করেন। ফলে তাদের বিয়ের বয়স তুলনামূলক বেশি হয়। অন্যদিকে দেশে এখনো মেয়েদের কম বয়সে বিয়ে দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে। অনেক পরিবারে মেয়েদের কর্মজীবনে প্রবেশ বা আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার অপেক্ষা না করে অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া হয়। এর ফলে স্বামী-স্ত্রীর বয়সের ব্যবধান বড় হয়ে ওঠে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বয়সের বড় ব্যবধানের অন্যতম কারণ বাল্যবিবাহ। যখন কোনো মেয়ের বিয়ে ১৫, ১৬ বা ১৭ বছর বয়সে হয়, তখন তার সম্ভাব্য স্বামী সাধারণত কর্মজীবনে প্রবেশ করা একজন প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ হন। ফলে স্বাভাবিকভাবেই দুজনের বয়সের মধ্যে বড় পার্থক্য তৈরি হয়। এ কারণে ১৫ থেকে ১৯ বছর বয়সী বিবাহিত মেয়েদের মধ্যে ১০ বছর বা তার বেশি বয়সী স্বামীর হার তুলনামূলকভাবে বেশি দেখা যায়।

আরো