মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৫৭ অপরাহ্ণ

দারাজে বিক্রি হয়ে আসছিলো সিবিডি অয়েল নামে গাঁজার উপাদান

নিজস্ব প্রতিবেদক:-

অনলাইন শপিং প্ল্যাটফর্ম দারাজে ‘সিবিডি অয়েল’নামে প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপন দিয়ে বিক্রি করা হচ্ছিল এমন একটি তেল, যাতে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (ডিএনসি) পরীক্ষায় গাঁজার উপাদান টেট্রাহাইড্রোক্যানাবিনল বা টিএইচসি (THC) পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সাইবার পেট্রোলিংয়ের মাধ্যমে বিষয়টি নজরে আসে ডিএনসির। পরে অনলাইনে ক্রেতা সেজে ওই পণ্য অর্ডার করেন গোয়েন্দারা। কয়েক দিন পর রাজধানীর সেগুনবাগিচার একটি ঠিকানায় পণ্য পৌঁছে দিতে গেলে ডেলিভারিম্যানকে আটক করে তেলটি জব্দ করা হয়।

পরে ডিএনসির পরীক্ষাগারে নমুনা পরীক্ষা করে তাতে টিএইচসির উপস্থিতি পাওয়া যায় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

এরপর অনলাইন বিক্রেতার তথ্য ধরে রাজধানীর বাড্ডার সাতারকুল এলাকায় অভিযান চালায় ডিএনসির গোয়েন্দা দল। সেখানে একটি ফ্ল্যাটে কথিত গাঁজার তেল বা সিন্থেটিক ক্যানাবিস অয়েল প্রস্তুত ও বোতলজাত করার একটি ল্যাবের সন্ধান পাওয়ার দাবি করেছে সংস্থাটি।

অভিযানে চার কক্ষের ওই ফ্ল্যাট থেকে বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল, বিভিন্ন ধরনের তেল, ছোট বোতল এবং উৎপাদন ও বোতলজাত করার সরঞ্জাম জব্দ করা হয়। এ সময় কেমিস্ট আনিসুর রহমান নামে একজনকে আটক করা হয়।

ডিএনসির দাবি, আনিসুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে অর্গানিক সাবান ও তেলজাতীয় পণ্য নিয়ে কাজ করছিলেন। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি বিদেশ থেকে কাঁচামাল আনার তথ্য দিয়েছেন বলে জানিয়েছে তদন্ত সংশ্লিষ্টরা। ওই কাঁচামালের সঙ্গে বিভিন্ন উপাদান ও সুগন্ধি মিশিয়ে ছোট বোতলে ভরে অনলাইনে বিক্রি করা হতো বলেও অভিযোগ ডিএনসির।

তদন্তে জব্দ করা আনিসুর রহমানের কম্পিউটার থেকে জানা গেছে, তিনি দারাজের একজন নিবন্ধিত বিক্রেতা ছিলেন। তার সেলার আইডি থেকে গত প্রায় দুই বছরে ৪০০টির বেশি বোতল বিক্রির তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে ডিএনসি।

ঘটনার পর রাজধানীর মালিবাগে দারাজের একটি গুদামেও অভিযান চালানো হয়। সেখান থেকে সংশ্লিষ্ট পণ্য বিক্রি ও সরবরাহের বিভিন্ন নথিপত্র জব্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে ডিএনসি।
মাদক বিক্রিতে সহযোগিতার অভিযোগে সংশোধিত মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে দারাজের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের নামেও মামলা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএনসির কর্মকর্তারা।

ডিএনসির একজন কর্মকর্তা বলেন, নতুন এই মাদককে শক্তিশালী ও ‘ক’ শ্রেণিভুক্ত মাদক হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। তদন্তের মাধ্যমে এর সঙ্গে আরও কোনো ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান বা বড় কোনো নেটওয়ার্ক জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিএনসি জানিয়েছে, দারাজ ছাড়াও অন্য কোনো অনলাইন প্ল্যাটফর্ম বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যবহার করে এ ধরনের মাদক বিক্রি হচ্ছে কি না, তা জানতে সাইবার স্পেসে নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

অভিযোগের বিষয়ে দারাজের বক্তব্য জানতে তাদের কার্যালয়ে যোগাযোগ করা হলে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

আরো