মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, ৫:১৪ অপরাহ্ণ

স্বাস্থ্যখাতের বরাদ্দে এক টাকাও দুর্নীতি হতে দেব না: প্রতিমন্ত্রী

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত বলেছেন, স্বাস্থ্য খাতে জনগণের চিকিৎসাসেবার জন্য বরাদ্দ করা একটি টাকাও দুর্নীতি হতে দেওয়া হবে না। তিনি বলেন, স্বাস্থ্য খাতের অতীতের অব্যবস্থাপনা ও দুর্নীতির ধারা ভাঙতে হবে।

মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) বিশ্ব আয়োডিন দিবস উপলক্ষে তেজগাঁও বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প করপোরেশন ভবনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী বলেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে স্বাস্থ্য খাতে ১৬ হাজার কোটি টাকার টেন্ডার হবে।এসব টাকা জনস্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাসপাতাল নির্মাণ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার পাশাপাশি খাদ্যে ভেজাল রোধে ব্যয় হবে।

এম এ মুহিত বলেন, বর্তমান সরকারের স্বাস্থ্য খাতের নির্বাচনি ইশতেহারের অন্যতম ভিত্তি রোগ প্রতিরোধে গুরুত্ব দেওয়া। অসুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসার ব্যবস্থা করার পাশাপাশি মানুষ যাতে রোগে আক্রান্ত না হয়, সে জন্য কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে নিরাপদ ও ভেজালমুক্ত খাদ্য নিশ্চিত করা জরুরি। খাদ্যে ভেজালের কারণে কিডনিসহ বিভিন্ন দীর্ঘমেয়াদি রোগের ঝুঁকি বাড়ছে। দেশের বিভিন্ন জেলায় ডায়ালাইসিস মেশিন ও বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপন করা হলেও খাদ্যে ভেজাল বন্ধ করা না গেলে এসব রোগে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা বাড়তেই থাকবে।

খাদ্যে ভেজাল প্রতিরোধে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো জোরালো ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।

বিশ্ব আয়োডিন দিবসের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় আয়োডিনযুক্ত লবণ মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়ার ফলে আয়োডিনের ঘাটতিজনিত বুদ্ধিবিকাশের প্রতিবন্ধকতা অনেকটাই প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়েছে। তবে ২০২৬ সালের সমীক্ষা অনুযায়ী, এখনো দেশের প্রায় ১২ শতাংশ মানুষ আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ প্রতি আটজনের একজনের কাছে আয়োডিনযুক্ত লবণ পৌঁছানো নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, যারা এখনো আয়োডিনবিহীন লবণ ব্যবহার করছেন, তাদের চিহ্নিত করে সুনির্দিষ্ট গবেষণার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এক্ষেত্রে লক্ষ্যভিত্তিক কর্মসূচির মাধ্যমে আয়োডিনযুক্ত লবণের ব্যবহার বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

প্রতিবন্ধী শিশুদের পুষ্টি পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পুষ্টিহীনতায় ভোগা প্রতিবন্ধী শিশুদের মূলধারার পুষ্টি ও স্বাস্থ্য কর্মসূচির আওতায় আনতে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরো মনোযোগী হতে হবে। শিশুদের পুষ্টি চাহিদা পূরণ এবং প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

আরো