সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৮ অপরাহ্ণ

৩১ জানুয়ারি থেকে সেন্টমার্টিনে পর্যটক প্রবেশ বন্ধ

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্টমার্টিন ভ্রমণের সময়সীমা দ্রুত শেষ হয়ে আসছে। সরকারি সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগামী ৩১ জানুয়ারির পর থেকে দ্বীপটিতে পর্যটক যাতায়াত পুরোপুরি বন্ধ থাকবে। ফলে চলতি পর্যটন মৌসুমে সেন্টমার্টিন ঘুরে দেখার সুযোগ থাকছে আর মাত্র ১৩ দিন।

পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য রক্ষার লক্ষ্যে সরকারের আরোপিত বিধিনিষেধ অনুযায়ী, প্রতিবছর ১ ডিসেম্বর থেকে ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত মাত্র দুই মাস পর্যটকদের রাত্রিযাপনের অনুমতি দেওয়া হয়। এই সময়েই কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন নৌপথে জাহাজ চলাচল চালু থাকে। নির্ধারিত সময় শেষ হলে ফেব্রুয়ারি মাসজুড়ে দ্বীপে পর্যটক প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ থাকে।

এর আগে ১ নভেম্বর থেকে সেন্টমার্টিনে ভ্রমণের অনুমতি মিললেও সে সময় পর্যটকদের দিনে গিয়ে দিনে ফিরে আসতে হতো। রাত্রিযাপন নিষিদ্ধ থাকায় তারা দ্বীপে স্বল্প সময় অবস্থানের সুযোগ পেতেন। এ কারণেই ডিসেম্বর ও জানুয়ারিকেই মূল পর্যটন মৌসুম হিসেবে ধরা হয়।

সরকারি সিদ্ধান্ত অনুসারে, প্রতিদিন সর্বোচ্চ দুই হাজার পর্যটক সেন্টমার্টিন ভ্রমণ করতে পারবেন। এই সীমা কার্যকর করতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন ছাড়া কোনো নৌযান চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয় না। পাশাপাশি পর্যটকদের জন্য ট্রাভেল পাস বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজার–সেন্টমার্টিন রুটে ছয়টি জাহাজ চলাচল করছে। এগুলো হলো—কেয়ারি ক্রুজ অ্যান্ড ডাইন, কেয়ারি সিন্দাবাদ, এমভি বার আউলিয়া, এমভি কর্ণফুলী এক্সপ্রেস, বে ক্রুজার ওয়ান ও এমভি টেকনাফ। প্রতিদিন ভোর থেকেই এসব জাহাজে পর্যটকদের যাতায়াত শুরু হয়। ট্রাভেল পাস যাচাইয়ে পরিবেশ অধিদফতর, প্রশাসন ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটরা দায়িত্ব পালন করছেন।

পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ভ্রমণ বন্ধের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, ততই পর্যটকদের আগ্রহ ও চাপ বাড়ছে। অনেকেই শেষ সুযোগ কাজে লাগাতে জানুয়ারির শেষ দিকে সেন্টমার্টিনে যেতে চাইছেন। তবে কর্তৃপক্ষ স্পষ্ট জানিয়েছে, পরিবেশ সংরক্ষণের প্রশ্নে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। নির্ধারিত সময়ের পর একজন পর্যটকও দ্বীপে প্রবেশ করতে পারবেন না।

নীল জলরাশি ও প্রবালের সৌন্দর্যে ঘেরা সেন্টমার্টিন তাই আর কিছুদিনের অতিথি। ৩১ জানুয়ারির পর দ্বীপজুড়ে নেমে আসবে নিস্তব্ধতা, আর পর্যটকদের অপেক্ষা করতে হবে পরবর্তী মৌসুম পর্যন্ত।

আরো