সোমবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬, ১১:১৭ অপরাহ্ণ

নির্বাচনী দায়িত্বে গাফিলতি হলে কঠোর শাস্তির হুঁশিয়ারি

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষভাবে সম্পন্ন করতে কড়া অবস্থান নিয়েছে সরকার। নির্বাচনী দায়িত্ব পালনে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর অনীহা, অসহযোগিতা বা শৈথিল্য পরিলক্ষিত হলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর শৃঙ্খলামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে স্পষ্ট জানানো হয়েছে।

সম্প্রতি মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সব মন্ত্রণালয়ের সচিবদের কাছে এ সংক্রান্ত নির্দেশনা দিয়ে একটি পরিপত্র জারি করা হয়। ওই নির্দেশনার আলোকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ তাদের আওতাধীন সব দপ্তর, অধিদপ্তর ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকে বিষয়টি কঠোরভাবে অনুসরণের নির্দেশ দিয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ সচিব ড. শেখ আব্দুর রশীদের স্বাক্ষরিত পরিপত্রে উল্লেখ করা হয়, নির্বাচন পরিচালনার জন্য ইতোমধ্যে ৬৯ জন রিটার্নিং অফিসার ও ৪৯৯ জন সহকারী রিটার্নিং অফিসার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি বিপুলসংখ্যক শিক্ষক এবং সরকারি, আধা সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা-কর্মচারী ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন।

পরিপত্রে আরও বলা হয়েছে, নিয়োগপত্র পাওয়ার পর কিংবা নির্বাচনী কাজে যুক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ‘নির্বাচন কর্মকর্তা’ হিসেবে গণ্য হবেন এবং তারা সরাসরি নির্বাচন কমিশনের কাছে দায়বদ্ধ থাকবেন। দায়িত্ব পালনে অবহেলা, অসহযোগিতা, শৈথিল্য বা ভুল তথ্য প্রদানকে অসদাচরণ হিসেবে বিবেচনা করা হবে। এ ক্ষেত্রে ‘নির্বাচন কর্মকর্তা (বিশেষ বিধান) আইন, ১৯৯১’-এর ৪ ও ৫ ধারায় সরকার প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারবে।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় শিক্ষকদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার কথা উল্লেখ করে জানানো হয়, প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসার হিসেবে দায়িত্ব পালনে শিক্ষকদের একটি বড় অংশ যুক্ত থাকেন। মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন-১) মো. খালিদ হোসেন জানান, ৯ জানুয়ারি শিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া নির্দেশনা ইতোমধ্যে মাঠপর্যায়ের সব অঞ্চল, জেলা ও উপজেলা শিক্ষা অফিস এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানদের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশন (ইউজিসি), মাউশি, নায়েম, ব্যানবেইস, এনটিআরসিএ ও এনসিটিবিসহ শিক্ষা সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে সতর্ক ও সচেতন থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, নির্বাচন কমিশন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচন ও গণভোটকে সম্পূর্ণ প্রশ্নাতীত করতে চায়। সে কারণে নির্বাচনী দায়িত্বে নিয়োজিত সবাইকে সর্বোচ্চ সততা, নিষ্ঠা ও নিরপেক্ষতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে—এই জাতীয় দায়িত্ব পালনে কোনো ধরনের গাফিলতি বা শৈথিল্য সহ্য করা হবে না।

আরো