Sunday, 12 July, 2026, 5:01 am

জাতীয় পর্যায়ের পাশাপাশি স্থানীয় সরকারেও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা জরুরি: তারেক রহমান

গণতন্ত্র শুধু জাতীয় রাজনীতির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকলে চলবে না, ইউনিয়ন থেকে শুরু করে স্থানীয় সরকারব্যবস্থার প্রতিটি স্তরে তা কার্যকরভাবে চর্চা করতে হবে—এমন মন্তব্য করেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।

বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি) সকালে সিলেটে অনুষ্ঠিত ‘দ্য প্ল্যান: ইয়ুথ পলিসি টক উইথ তারেক রহমান’ শীর্ষক আয়োজনে তরুণদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে তরুণদের বক্তব্য শোনার পাশাপাশি তিনি নিজেও বিভিন্ন খাতে বিএনপির ভাবনা ও পরিকল্পনা তুলে ধরেন।

তারেক রহমান বলেন, ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও স্থানীয় কমিউনিটি পর্যায়ে গণতন্ত্র শক্তিশালী না হলে নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। উন্নত দেশগুলোর উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা থেকে শুরু করে স্থানীয় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে গণতান্ত্রিক চর্চা কার্যকরভাবে বিদ্যমান।

স্বাস্থ্য খাত প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় সরকারি হাসপাতাল ও চিকিৎসকের সংখ্যা অপ্রতুল। আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সীমিত সম্পদ নিয়ে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে বিপুলসংখ্যক রোগীকে সেবা দিতে হচ্ছে।

একটি হাসপাতাল নির্মাণে দীর্ঘ সময় লাগে উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, জমি অধিগ্রহণ, বাজেট বরাদ্দ ও টেন্ডার প্রক্রিয়ায় সময় চলে যায়, কিন্তু রোগীরা সেই সময় অপেক্ষা করতে পারে না। এ কারণে দ্রুত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পাবলিক–প্রাইভেট পার্টনারশিপের ওপর জোর দেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, প্রতিটি জেলায় সব ধরনের বিশেষায়িত হাসপাতাল গড়া বাস্তবসম্মত নয়। উন্নত দেশগুলোতেও নির্দিষ্ট রোগের জন্য নির্দিষ্ট হাসপাতালে চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। সেই বাস্তবতা মাথায় রেখেই দেশের স্বাস্থ্যখাতের পরিকল্পনা করতে হবে।

প্রতিরোধমূলক চিকিৎসাকে গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, কমিউনিটি পর্যায়ে হেলথ কেয়ার ওয়ার্কারদের মৌলিক চিকিৎসা ও স্বাস্থ্যবিধি বিষয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। এতে সাধারণ রোগে প্রাথমিক চিকিৎসা ঘরে বসেই পাওয়া যাবে এবং হাসপাতালের ওপর চাপ কমবে।

বিদেশগামী শ্রমিকদের প্রসঙ্গে তারেক রহমান বলেন, প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ বিদেশে গেলেও তাদের বড় অংশই অদক্ষ হওয়ায় কাঙ্ক্ষিত আয় ও অবদান রাখতে পারছে না। এ অবস্থায় কারিগরি ও ভোকেশনাল শিক্ষাব্যবস্থাকে আধুনিক করার পরিকল্পনার কথা জানান তিনি। পাশাপাশি ভাষা শিক্ষা যুক্ত করে জাপান, ইউরোপ ও মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজারে দক্ষ জনশক্তি পাঠানোর ওপর গুরুত্ব দেন।

নারী ক্ষমতায়নের বিষয়ে তিনি বলেন, বেগম খালেদা জিয়ার শাসনামলে মেয়েদের বিনা মূল্যে শিক্ষা কার্যক্রম চালুর ফলে আজ নারী শিক্ষায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে। ভবিষ্যতে বিএনপি সরকার গঠন করলে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ চালুর পরিকল্পনা রয়েছে, যা পরিবারের প্রধান নারীর নামে ইস্যু করা হবে। এর মাধ্যমে মাসিক ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা নগদ সহায়তা বা প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী দেওয়া হবে।

তিনি জানান, গবেষণায় দেখা গেছে নারীরা অর্থ পেলে তা সন্তানদের শিক্ষা, পরিবারের স্বাস্থ্য ও ক্ষুদ্র বিনিয়োগে ব্যয় করেন, যা স্থানীয় অর্থনীতিকে গতিশীল করে এবং নারীর সামাজিক মর্যাদা বাড়ায়।

পরিবেশ সুরক্ষার সঙ্গে গণতন্ত্রের সম্পর্ক তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, নাগরিকের মত প্রকাশের অধিকার থাকলেই শহরের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, বায়ুদূষণ ও শব্দদূষণের মতো সমস্যা সমাধান সম্ভব হয়।

তিনি জানান, বিএনপি আগামী পাঁচ বছরে সারাদেশে ৮০ কোটি গাছ রোপণের পরিকল্পনা নিয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় সরকারি নার্সারির মাধ্যমে পরিকল্পিতভাবে চারা বিতরণ করা হবে।

কৃষিপণ্য বাজারজাতকরণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মধ্যস্বত্বভোগী একটি বাস্তবতা হলেও অন্যায় হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের প্রতীকী নয়, বাস্তব ও কার্যকর সহায়তা নিশ্চিত করাই বিএনপির লক্ষ্য।

আরো