সোমবার, ২৫ মে, ২০২৬, ১০:২০ অপরাহ্ণ

থাই প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে পেতংতার্ন স্থায়ীভাবে বরখাস্ত

থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত পেতংতার্ন‌ সিনাওয়াত্রাকে (৩৯) স্থায়ীভাবে বরখাস্ত করেছে দেশটির সাংবিধানিক আদালত। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। গত বছর ২৯ আগস্ট নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে তাকে এ সাজা দেওয়া হয়। সাংবিধানিক আদালত ৬-৩ ভোটে এ সিদ্ধান্ত নেয়।

আদালতের রায়ে বলা হয়, কাম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনের সঙ্গে গত জুন মাসের ফোনালাপে পেতংতার্ন‌ জাতীয় স্বার্থের চেয়ে ব্যক্তিগত স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। এতে দেশের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়েছে। সেই অভিযোগেই তাকে প্রধানমন্ত্রী পদ থেকে সরানো হলো।

রায় ঘোষণার পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে পেতংতার্ন‌ দাবি করেন, তিনি দেশের স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা করেছিলেন।

তিনি বলেন, “আমার উদ্দেশ্য ছিল দেশের মঙ্গল, ব্যক্তিগত লাভ নয়। আমি দেশের নাগরিক ও সামরিক বাহিনীর সদস্য উভয়কেই বাঁচাতে চেয়েছিলাম। আজকের রায় থাই রাজনীতিতে নতুন পরিবর্তন এনেছে। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য সরকার, বিরোধী দল ও জনগণ সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।”

বরখাস্ত হওয়ায় তিনি হলেন ক্ষমতাধর সিনাওয়াত্রা পরিবারের তৃতীয় সদস্য, যিনি মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই ক্ষমতা হারালেন। দুই দশক ধরে থাইল্যান্ডের রাজনীতিতে এই পরিবার ব্যাপক প্রভাবশালী।

২০০৮ সালের পর থেকে এ নিয়ে পাঁচজন থাই প্রধানমন্ত্রী আদালতের রায়ে ক্ষমতাচ্যুত হলেন।

এর আগে, পেতংতার্নের ফাঁস হওয়া কথোপকথনে শোনা যায়, পেতংতার্ন‌ হুন সেনকে “চাচা” সম্বোধন করে তোষণমূলক মন্তব্য করেন এবং এক শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাকে “প্রতিপক্ষ” হিসেবে আখ্যায়িত করেন।

ফোনালাপে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি দেশীয় চাপের মুখে রয়েছেন এবং হুন সেনকে বিরোধী পক্ষের কথা না শোনার অনুরোধ করেন। এই কথোপকথনে তিনি বলেন, “আপনার যদি কিছু চাওয়া থাকে, আমাকে বললেই হবে, আমি দেখবো।”

আরো