রবিবার, ১৮ জানুয়ারি, ২০২৬, ১:৫২ অপরাহ্ণ

বন্ধুত্বের টানে নাটোরে মার্কিন অতিথি

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে গড়ে ওঠা বন্ধুত্বের টানে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নাটোরের এক রাজমিস্ত্রীর বাড়িতে এসেছেন মার্কিন নাগরিক তেরি পারসন। বর্তমানে তিনি গুরুদাসপুর উপজেলার চর বালশা গ্রামের বাসিন্দা সেতু মোল্লার বাড়িতে অবস্থান করছেন।

গত মঙ্গলবার (২১ অক্টোবর) সকালে তেরি পারসন ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করেন। সেখান থেকে তার বাংলাদেশি বন্ধু সেতু মোল্লা নিজেই গাড়ি নিয়ে এসে তাকে নাটোরে নিয়ে যান।

পেশায় রাজমিস্ত্রী ও ভ্যানচালক সেতু মোল্লা অবসরে ফেসবুকে ছোট ভিডিও বানান। প্রায় এক মাস আগে তার এমনই একটি ভিডিওতে লাইক দেন মার্কিন ব্যবসায়ী তেরি পারসন। এরপর শুরু হয় মেসেঞ্জারে আলাপচারিতা, আর সেখান থেকেই বন্ধুত্বের সূচনা। বন্ধুত্ব গাঢ় হতে না হতেই তেরি সিদ্ধান্ত নেন—বাংলাদেশে গিয়ে বন্ধুর সঙ্গে দেখা করবেন।

তেরি পারসন জানিয়েছেন, বন্ধুর সঙ্গে দেখা করতেই তিনি ১৫ দিনের ছুটি নিয়েছেন। সঙ্গে এনেছেন শিশুদের জন্য নানা উপহার, খেলনা ও সেতু মোল্লার পরিবারের জন্য স্বর্ণের অলংকার। গ্রামে এসে তিনি স্থানীয় শিশুদের সঙ্গে খেলছেন, গল্প করছেন, আর চায়ের দোকানে বসে উপভোগ করছেন বাংলাদেশি আতিথেয়তা।

সেতু মোল্লা বলেন, “আমার ভিডিও দেখে তেরি আমার সঙ্গে যোগাযোগ করে। আমরা কয়েক সপ্তাহ কথা বলি, তারপর ও আমাকে ভাই বলে ডাকে। আমন্ত্রণ জানালে কোনো দ্বিধা ছাড়াই বাংলাদেশে চলে আসে।”

গ্রামের রাস্তায় ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চড়ে তেরি পারসন এখন প্রতিদিনই ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি বলছেন, “বাংলাদেশে এসে বুঝেছি, এখানকার মানুষ কতটা আন্তরিক। জীবনযাপন হয়তো সহজ, কিন্তু এই সরলতার মধ্যেই সৌন্দর্য আছে। আমি আবারও আসব, আমার বন্ধুদেরও বলব এই দেশ দেখতে।”

স্থানীয়রা জানান, তেরি পারসনের আগমনে এলাকায় উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে। সবাই তাকে আপন করে নিয়েছে।

খুবজীপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মনিরুল ইসলাম বলেন, “আমাদের গ্রামের এক সাধারণ মানুষের সঙ্গে এমন আন্তরিক সম্পর্ক গড়ে উঠেছে—এটা সত্যিই অনন্য উদাহরণ। এক বন্ধুত্ব কেবল দুই ব্যক্তিকে নয়, দুই জাতির মানুষকেও কাছাকাছি এনেছে।”

তেরি পারসন আরও ১১ দিন বাংলাদেশে অবস্থান করবেন। তিনি চলনবিল ঘুরে দেখা ও গ্রামের মানুষের সঙ্গে সময় কাটানোর পরিকল্পনা করেছেন। তার এই সফর এখন পুরো অঞ্চলের মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু।

আরো